kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

সিলেটে মাস্কের সংকট, দামও চড়া

সিলেট অফিস   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সিলেটে মাস্কের সংকট, দামও চড়া

সিলেট নগরের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে এভাবে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক। ছবি : আশকার আমিন রাব্বি

সিলেট নগরের মীরাবাজার এলাকার বাসিন্দা নুরুল হাসান। চৌহাট্টা এলাকায় এসেছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে। বেশ কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরে আম্বরখানা গিয়ে একটি ফার্মেসিতে পেয়েছেন। কিন্তু কিনতে হয়েছে চড়া দামে। তবে পাননি ডেটল কিংবা স্যাভলন।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার্জিক্যাল মাস্ক বা গ্লাভসের প্রতি মানুষের তেমন আগ্রহ ছিল না কখনো। ধুলাবালি ওড়ার মৌসুমেও অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করতেন না। তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এখন সবাই সচেতন। সংক্রমণের ঝুঁকির ফলে এসবের চাহিদা বেড়েছে। বেশির ভাগ ওষুধের দোকানে এসবের সংকট। যে কয়টিতে পাওয়া যাচ্ছে, সেখান থেকেও সবাইকে কিনতে হচ্ছে চড়া দামে।

একজন ক্রেতা জানান, অলিভ নামের ৫০ এমএলের হ্যান্ড স্যানিটাইজার তিনি কিনেছেন ১১০ টাকা দিয়ে। বোতলের গায়ে কোথাও মূল্য উল্লেখ নেই। এ ছাড়া এতে কোন উপাদান কী পরিমাণ আছে তাও লেখা নেই। শুধু কী কী উপাদান আছে তা লেখা রয়েছে। নগরের চৌহাট্টা ও মীরবক্সটুলা এলাকার আরো কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরেও দেখা গেছে চড়া দামে এগুলো বিক্রি করতে। চড়া মূল্যে কিনে আনতে হয় বলেই গ্রাহকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

সিলেট নগরের চৌহাট্টা ও মীরবক্সটুলা এলাকার কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায় চড়া মূল্যে সার্জিক্যাল মাস্ক, ফিল্টার মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করতে। চৌহাট্টা এলাকার সিলেট ফার্মা, মদীনা ফার্মেসি, পপুলার ফার্মেসিসহ বেশ কয়েকটিতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সামগ্রী তাদের কাছে নেই বলেও জানিয়েছেন বিক্রেতারা। যেগুলো আছে সেগুলোর মূল্য অনেক বেশি। তবে এগুলোর কোনোটিতেই স্যাভলন বা ডেটল পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ফার্মেসিতে সার্জিক্যাল মাস্ক ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ফিল্টার মাস্ক ৩৫ থেকে ১৭০ টাকা, সার্জিক্যাল গ্ল্যাভস ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ১০০ থেকে ২৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

সার্জিক্যাল মাস্কের চড়া দাম হওয়ায় নুরুল হাসান নামে এক ক্রেতা জানান, বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে মাস্কের প্রয়োজন পড়ে। কিছুদিন আগেও মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা দামে সার্জিক্যাল মাস্ক কিনেছি। এ ছাড়া ফিল্টার গ্লাভস যা ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটাও ৪০ টাকা দিয়ে কিনেছি। কিন্তু এখন এগুলোর মূল্য দেখে মাথা ঘুরে যাওয়ার অবস্থা।

এগুলোর মূল্য বেড়ে যাওয়াটাও অস্বীকার করছেন না দোকানিরা। তবে তারাও নিরুপায় বলে জানিয়েছেন। তাঁদেরই কিনে আনতে হচ্ছে চড়া মূল্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওষুধের দোকানের স্বত্বাধিকারী বলেন, জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে সার্জিক্যাল মাস্ক আমরা কিনে এনেছি ২ টাকা ২০ পয়সা দিয়ে। মার্চের শেষ দিকে সেটা কিনে আনতে হয়েছে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা দিয়ে। পণ্যের মানেরও কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবুও মাত্র এক মাসের ব্যবধানে একই পণ্যের এত চড়া মূল্য! যা আমাদের ক্রেতাদের সামনে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে কয়েক দিন বিক্রি করলেও এখন বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। নিজের কাছেই যখন পণ্যের দাম অস্বাভাবিক মনে হয়। চাহিদামতো পাওয়াও যায় না। পেলেও সেগুলোর দাম অনেক চড়া।

তিনি জানান, জানুয়ারি মাসে তিনি ‘জেএমআই মার্কেটিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাস্ক কিনলেও মার্চ মাসে ওই কম্পানি থেকে মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে না। এখন কিনতে হয়েছে ‘হেলথ কেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি’ থেকে। কিন্তু একই মানের মাস্ক কিনতে হচ্ছে ৯ থেকে ১০ গুণ বেশি দাম দিয়ে।

এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন সড়কে এমনকি ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে মাস্ক। ৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক। তবে এগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। করোনার আতঙ্কে মাস্ক কেনার পরিমাণ বাড়ায় অনেক ক্ষেত্রে মানহীন মাস্কও বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে নগরের সার্জিক্যাল মার্টের দোকান মেডি-মার্টের প্রথম শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, কিছুদিন আগেও ৩০০ টাকা প্যাকেট মাস্ক কিনে এনেছি। এখন কিনতে হচ্ছে এক হাজার টাকা প্যাকেট। মূল্য বাড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে কিনে আনতে পারছি না। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছি না।   

সিলেট নগরের সার্জিক্যাল মার্টের দোকাগুলোয় পিপিই এর চাহিদা বেড়েছে বলেও জানা গেছে। নগরের চৌহাট্টা ও মীরবক্সটুলা এলাকার মেডি-মার্টের শোরুম ঘুরে জানা গেছে, পিপিই এর চাহিদা বেড়েছে। এক হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা দামের পিপিই রয়েছে বলে জানান তাঁরা। তবে সেগুলো চিকিৎসকরাই বেশি নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ শুধু গ্লাভস ও মাস্ক কিনতে আসছেন।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাত পরিষ্কারের জন্য বল সাবান বেশি উপযোগী। এগুলোতে ক্ষার থাকে অনেক বেশি। তাই এগুলো ব্যবহার করার জন্যই আমরা সবাইকে উৎসাহিত করছি। সাবান থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার না করলেও চলবে।’

তিনি আরো বলেন, বাজারে যেগুলো হ্যান্ড স্যানিটাইজার বলে চালানো হচ্ছে সেগুলোর অনেকটির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে কেউ যদি একান্তই ব্যবহার করতে চান, সে ক্ষেত্রে হ্যাক্সিসল জাতীয় হ্যান্ড-রাব ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো অনেক ক্ষেত্রে উপযোগী। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে সাবান দিয়ে নিয়ম মেনে হাত পরিষ্কার করতেই হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা