kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বিদ্যুৎ, ডিশ ও ইন্টারনেটের তার যাবে মাটির নিচে

প্রথম শুরু সিলেটে, জঞ্জালমুক্ত হবে ঢাকাও

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিদ্যুৎ, ডিশ ও ইন্টারনেটের তার যাবে মাটির নিচে

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মাথার ওপর কোনো ঝুলন্ত তার থাকবে না, ঝড়ে রাস্তায় পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারের স্পৃষ্টে কোনো মানুষের মৃত্যু হবে না। দেশের জনগণকে এমন একটি পরিবেশ উপহার দিতে সরকারের পক্ষ থেকে গত এক দশক ধরে চেষ্টা চললেও তা এখনো খাতা-কলমেই রয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যের বিষয়, রাস্তাঘাটের সব তার মাটির নিচে নিয়ে ঝুঁকিমুক্ত শহর হওয়ার পথে প্রথম যাত্রা শুরু করল সিলেট।

দেশে প্রথমবারের মতো মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুত্ সরবরাহ কার্যক্রম চালু হয়েছে সিলেটে। চলতি বছরের শুরুতে শহরের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকার সড়কের ওপর থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ চালু করা হয়। এ বিষয়ে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (বিউবো) সিলেটের প্রকল্প পরিচালক কে এম নাজিম উদ্দিন জানান, পর্যায়ক্রমে নগরে তারের জঞ্জাল কমাতে টেলিফোন, ইন্টারনেট, ক্যোবল লাইনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সব তার ভূগর্ভে নেওয়া হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্র জানায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রায় ১৫ দিন পরীক্ষামূলক সরবরাহ পর্যবেক্ষণের পর গত ৫ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের প্রধান সড়ক থেকে মাজারের প্রধান ফটক পর্যন্ত সড়কের ভূগর্ভস্থ লাইনে বিদ্যুতের পূর্ণ সরবরাহ চালু করা হয়। বৈদ্যুতিক তারসহ সেবামূলক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তারের জঞ্জাল কমাতে বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং সিসিকের নির্দেশনায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

বিউবো সিলেটের প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘বহির্বিশ্বের মতো উন্নত জীবনযাপনের জন্য পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে এই প্রথম হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এলাকায় সড়কের ওপর থেকে সব ধরনের খুঁটি সরিয়ে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম সিলেটের পরপরই হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় শুরু হবে। সব ধরনের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আশা করছি, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে সিলেটের কাজ শেষ হবে। সিলেট বিভাগে সফলভাবে সম্পন্ন হলে এর ধারাবাহিকতায় দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও এ কাজ শুরু হবে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘উন্নত দেশের মতো এই প্রথম সিলেটে মাটির নিচ দিয়ে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন রাস্তার ওপর কোনো খুঁটি নেই। এ কারণে বেড়েছে এই এলাকার সৌন্দর্য।’

তবে বিদ্যুতের ভূগর্ভস্থ লাইন তৈরিতে সিলেট এগিয়ে গেলেও রাজধানী ঢাকায় মাথার ওপর ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার, ইন্টারনেট ও ডিশ কেবলের তারের জঞ্জাল সরাতে সরকার এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি। এক দশক ধরে এ জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যদিও বেশ কিছু এলাকায় এরই মধ্যে বিদ্যুতের তার মাটির নিচে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তবে কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় এসব সেবা সংস্থার তারের জঞ্জাল এখনো মাটির নিচে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, নতুন বছর থেকে রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তারের জঞ্জাল পাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবার কাজ শুরু করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সিলেট দিয়ে তা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও কেরানীগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য শহরে মাথার ওপর ঝুলে থাকা তার মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। রাজধানীর কোন কোন এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলিং করা যায় তার জন্য বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের একটি প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় গত বছরের অক্টোবরে। তার সরানোর জন্য বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিদ্যুত্ বিভাগ থেকে এরই মধ্যে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে রাজধানীর সব এলাকার বিদ্যুতের তার মাটির নিচে চলে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। যদিও তারের জঞ্জাল থেকে ঢাকাকে মুক্ত করতে ২০০৯ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি বিদ্যুত্, ডিশ ও ইন্টারনেট লাইন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ওপরে ঝুলছে চট্টগ্রাম মহানগরীতেও। চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে গত নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে এক হাজার ২০০টিরও বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২০ জনের প্রাণহানি হয়। সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এসব অগ্নিকাণ্ডের বেশির ভাগই হয়েছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে; যার জন্য অনেকাংশেই দায়ী বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলন্ত কেবলের জঞ্জাল।

ফায়ার সার্ভিস ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে একটি জরিপ চালায়। জরিপে নগরের ৪২টি এলাকাকে অগ্নিকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। নগরবিদরা মনে করেন, রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সব বিভাগীয় শহরকেই দ্রুত তারের জঞ্জালমুক্ত করা জরুরি। তা না হলে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কার পাশাপাশি মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুঝুঁকি থেকেই যাবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা