kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সরকারি চাহিদা পূরণ করছে বাংলাদেশ কেবলশিল্প

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




সরকারি চাহিদা পূরণ করছে বাংলাদেশ কেবলশিল্প

জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, এমডি, বাংলাদেশ কেবলশিল্প লিমিটেড

বাংলাদেশ কেবলশিল্প লিমিটেড ১৯৭২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ কপার কেবল ও তার উত্পাদন করে দেশের চাহিদা পূরণ করে আসছে। মাসে গড়ে ৪৫০ মেট্রিক টন বৈদ্যুতিক ওভারহেড কন্ডাক্টর, সার্ভিস ড্রপ কেবল তৈরি করা হচ্ছে। ইন্টারনেট ও ল্যান নেটওয়ার্কে ব্যবহূত ল্যান কেবল তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদ্যুত্ সেক্টর ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে বহুল ব্যবহূত সুপার এনামেলড কপার ওয়্যার তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে


কিছুদিন আগেও তারে সংযোগ দেওয়া ক্রিং ক্রিং টেলিফোনই ছিল দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম। এখন সেই স্থান দখল করে নিয়েছে মোবাইল হ্যান্ডসেট। ফলে টেলিফোনের জন্য তৈরি করা কেবলের চাহিদাও কমেছে। ফলে টেলিফোন তারের চাহিদার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ কেবলশিল্প লিমিটেড’ পরিবর্তিত অবস্থায় তাদের উত্পাদনের ধরনও বদলেছে। তবুও প্রতিষ্ঠানটি সরকারি চাহিদা পূরণ করে থাকে। তাদের উত্পাদিত পণ্যের ক্রেতা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

রাষ্ট্রায়ত্ত তার ও কেবল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেবলশিল্প লিমিটেড খুলনার শিরোমণি এলাকায় অবস্থিত। এটি সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ নিয়ন্ত্রিত একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ কপার কেবল ও ওয়্যার উত্পাদন করে দেশের শতভাগ চাহিদা পূরণ করে আসছে।

কপার কেবলের চাহিদা কমে যাওয়া এবং অপটিক্যাল ফাইবারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানটিও ২০১১ সাল থেকে উত্পাদিত পণ্যে পরিবর্তন আনে। শুরু করে অপটিক্যাল ফাইবার উত্পাদন। এ কারণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট বসানো হয়েছে। ২০১৫-১৬ সাল থেকে এইচডিপিই সিলিকন ডাক্ট তৈরির প্লান্ট স্থাপন করা হয়।

উত্পাদন বহুমুখীকরণে সম্প্রতি ২৪ কোটি টাকার বেশি খরচ করে বৈদ্যুতিক ওভারহেড কন্ডাক্টর, সার্ভিস ড্রপ কেবল ও বেয়ার/ইনস্যুলেটর ওয়্যার তৈরির প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। মাসে গড়ে ১২ শ কিলোমিটার (৪৫০ মেট্রিক টন) বৈদ্যুতিক ওভারহেড কন্ডাক্টর, সার্ভিস ড্রপ কেবল তৈরি করা হচ্ছে। বাজারজাতও করা হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে। কারণ বেসরকারি উদ্যোগে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কম্পানিগুলো এই পণ্যটি বাজারজাত করায় বাজার সংকুচিত হয়েছে।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে এর কারখানা দেখা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়। কারখানাটি বেশ ছিমছাম, পরিচ্ছন্ন। আর দশটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশ ভিন্নতর। চত্বরে যেমন আছে ফুলের সমারোহ, তেমনি আবর্জনাহীন সুন্দর ঝকঝকে পরিবেশ। প্রতিষ্ঠানটির এমডি জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল কালের কণ্ঠকে জানান, ড্রপ ফাইবার কেবল তৈরির জন্য প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। উপরন্তু ইন্টারনেট ও ল্যান নেটওয়ার্কে ব্যবহূত ল্যান কেবল তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদ্যুত্ সেক্টর ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে বহুল ব্যবহূত সুপার এনামেলড কপার ওয়্যার তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি ১৪৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। সম্পদ অর্জন করেছে ১৬১ কোটি টাকার। আর এ সময়ে শুল্ক, ভ্যাট, আয়কর খাতে সরকারকে ১৮১ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল রাষ্ট্রের প্রয়োজনে। আজও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে উত্পাদন করে চলেছে। সরকারি ক্রয় আদেশের ভিত্তিতে তারা কাজ পেয়ে থাকে। আধুনিক যোগাযোগের এই যুগে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা