kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

মেগাপ্রকল্পে দেশে তৈরি তার ব্যবহারের দাবি উদ্যোক্তাদের

উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে রমরমা তারের বাজার

মাসুদ রুমী   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে রমরমা তারের বাজার

 

৮ হাজার কোটি টাকার বাজার


ব্র্যান্ডের কম্পানির অগ্রযাত্রায় বাধা নকল ও মানহীন তার


নিম্নমানের কাঁচামালে তৈরি পণ্য ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ

 

দেশে দ্রুত বিদ্যুতায়নে বাড়ছে তারের চাহিদা। প্রায় প্রতিদিনই জাতীয় গ্রিড সমৃদ্ধ হচ্ছে বিদ্যুত্ উত্পাদনের সফলতায়। ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুতের আওতায় আসছে নতুন নতুন জনপদ। এতে অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে মানুষের জীবনমানেও। বিদ্যুতের প্রসারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। এসব ছোট-বড় শিল্প-কারখানায়ও ব্যবহার হচ্ছে তারসহ নানা ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী। আর এতে দেশে বড় হচ্ছে তারের বাজার।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বিদ্যুতের উন্নয়নে ৪০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা করে। আর ২০১৬ সালে নেওয়া হয় ক্রাশ প্রগ্রাম ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুত্’ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়ার কথা। তবে তার আগেই দেশের শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় আট হাজার কোটি টাকার দেশীয় বৈদ্যুতিক তারের বাজারে বিআরবি, পারটেক্স, বিবিএস, সুপারস্টারসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দেশেই উত্পাদন করছে মানসম্মত বৈদ্যুতিক তার। শুধু বিনিয়োগ সুরক্ষা নয়, ভবিষ্যতে নিরাপদ বিদ্যুত্ ব্যবহার নিশ্চিতেও দরকার ভালোমানের সরঞ্জামের ব্যবহার।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কমপক্ষে সাতটি গ্রেডের বৈদ্যুতিক তার। দামের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবনী উদ্যোগের পরও ঠেকানো যাচ্ছে না অনুমোদনহীন বৈদ্যুতিক তারের উত্পাদন। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই দেশের বাজারে ঢুকছে আমদানি করা নিম্নমানের তার ও অন্যান্য সামগ্রী। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রয়োজন বুঝে পণ্য কিনতে পারেন না ক্রেতা। নিম্নমানের ইলেকট্রিক সামগ্রী আমদানির মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তারসহ অন্যান্য পণ্যের মান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারাও।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, শুল্ক ও কর কাঠামো ঢেলে সাজানোর সঙ্গে বাজার তদারকিতে বাড়তি নজরদারি দরকার সরকারের। অন্যথায় উত্পাদন বাড়লেও নিশ্চিত হবে না বিদ্যুতের নিরাপদ ব্যবহার।

জানতে চাইলে ইস্টার্ন কেবলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক উশাময় চাকমা বলেন, ‘১০ বছর আগে কেবল শিল্পের বাজারের আকার ছিল মাত্র দুই হাজার কোটি টাকা। এই বাজার বেড়ে আট হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিগত বছরগুলোতে দেশজুড়ে বিদ্যুতের ব্যাপক সম্প্রসারণের কারণে তারের চাহিদা বেড়েছে।

বাজারে ৭০টিরও বেশি কেবল প্রস্তুতকারক রয়েছে তবে বাজারে নেতৃত্বের বিআরবি কেবল। এই খাতে বছরে ১৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তার উত্পাদনে চিলি, চীন, ভারত, ওমান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকে কাঁচামাল আমদানি করেন দেশীয় উত্পাদকরা। কেবলের গ্রিডলাইনের তারের চাহিদা নয়, আবাসন ও শিল্প খাতেও এর বড় বাজার রয়েছে।

বিআরবি কেবলের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, ‘সরকারের সকলকে বিদ্যুত্ সরবরাহের মাস্টার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আসন্ন বছরগুলোতে এই খাতটি আরো বাড়বে। দেশে উত্পাদিত তারের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের বেশি আমাদের মার্কেট শেয়ার আছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে প্রচুর তার বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, সরকারের বড় বড় বিদ্যুেকন্দ্র থেকে শুরু করে মেগাপ্রকল্পগুলোতে বিদেশি তার ব্যবহার না করে দেশের তৈরি তার ব্যবহার করতে হবে। তাহলে কম্পানিগুলো টিকে থাকবে, বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল সাশ্রয় হবে। যেসব কেবল দেশের কম্পানিগুলো উত্পাদনে সক্ষম, তা বিদেশ থেকে না এনে দেশীয় উদ্যোক্তাদের কাছ থেকেই নেওয়া হোক। দেশীয় শিল্পকে উত্সাহিত করতে এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ দরকার।

নন-ব্র্যান্ড কম্পনির উত্পাদিত নিম্নমানের তার সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, ‘কমপক্ষে ১২০টির বেশি কম্পানি বাংলাদেশে কেবল এবং তারের উত্পাদন করছে তবে অনেকেরই মান বজায় থাকে না।’

জাল পণ্য, অপর্যাপ্ত মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্যগুলো এই খাতের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে তিনি জানান। তিনি ব্যবহারকারীদের আন্তর্জাতিক কেবল সার্টিফিকেশন সংস্থার সনদ দেখে তার কেনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা