kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সরেজমিনে তারের বাজার

বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে বাড়ছে তারের চাহিদা

রফিকুল ইসলাম   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে বাড়ছে তারের চাহিদা

ছবি : শেখ হাসান

উন্নত দেশের পথে এগিয়ে যেতে বাড়ছে অবকাঠামো উন্নয়ন। নতুন ভবনে বৈদ্যুতিক সংযোগে বাড়ছে তারের চাহিদা। ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগ ইলেকট্রনিকশিল্পের পালে হাওয়া দিয়েছে। আর দেশীয় কম্পানির উদ্যোগে মিটছে ক্রমবর্ধমান তারের চাহিদা। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে তৈরি ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম এখন বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা।

এই খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানিতে প্রণোদনা ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় পেলে পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে যাবে ইলেকট্রনিকশিল্প। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি আয়ে রয়েছে বিশাল হাতছানি। সরকারের নীতি সহায়তাও প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ইলেকট্রনিকস খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। আর দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী দেশীয় কম্পানি সব পণ্য উত্পাদন করছে। প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ মেটাচ্ছে দেশীয় কম্পানি। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু তার বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।

কেবল বা তার হচ্ছে বিদ্যুত্ পরিবাহী মাধ্যম। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিদ্যুত্ আনা-নেওয়া করতে প্রয়োজন। ইন্টারনেটের কল্যাণে ডাটা যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ব্যবহূত হচ্ছে তার। যার মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তথ্যের আদান-প্রদান হয়। বাজারে কো-অক্সিয়াল, টু-স্টেড পেয়ার কেবল, ফাইবার অপটিক্যাল, আন-শেল্ড টুইস্টেড, ফ্লেক্সিবল, ভল্কানাইজড ও পলিভিনাইল কেবল পাওয়া যায়।

ব্যবসায়ীদের মতে, দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজার ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। বর্তমানে এই শিল্পের বাজার ৪৫ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। ক্রমবর্ধমান হারে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত দেশের পথে এগিয়ে যেতে দেশে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগে ইলেকট্রনিকশিল্পকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে। কারণ বিদ্যুত্ সরবরাহে প্রয়োজন তার। সেই তারের জোগান দিচ্ছে দেশীয় সব কম্পানি। প্রণোদনা ও কাঁচামাল আমদানিতে কর হ্রাস করা হলে এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্যের বড় বাজার রাজধানীর নবাবপুর। এখানে কয়েক হাজার দোকানে ইলেকট্রনিকস পণ্য কেনাবেচা হয়। আর এখান থেকে ছড়িয়ে যায় দেশের নানা প্রান্তে। সাধারণত বাসাবাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগে ব্যবহার করা হয় পাওয়ার কেবল ২.৫ আরএম। সাধারণ ইলেকট্রিক সংযোগে ব্যবহার করা হয় ১.৫ আরএম কেবল। ফ্রিজ, এসি, টিভি, গিজার, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, কুকারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস সরঞ্জামে একটু শক্তপোক্ত তার প্রয়োজন, এ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় ৪ আরএম তার।

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্য উত্পাদনে আড়াই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে পণ্য উত্পাদন করে। ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে উত্পাদনের পরিমাণ। দেশের চাহিদার ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে দেশীয় কম্পানি। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু তার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

গুলিস্তান মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে এগোতেই হাতে বামপাশে কাপ্তানবাজার। চতুর্মুখী সড়ক পেরিয়ে সামনে গেলেই নবাবপুর রোড। এই রাস্তা শেষ হয়েছে রায়সাহেব বাজার মোড়ে গিয়ে। নবাবপুর রোডের দুই পাশে বড় বড় মার্কেট, রয়েছে শত শত ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকান।

নবাবপুর রোডের সিফাত আব্দুল্লাহ ইলেকট্রিক মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা জহির ইলেকট্রিক মার্কেট, ঢাকা ইলেকট্রিক মার্কেট, দিপা মার্কেট, জনতা ইলেকট্রিক মার্কেট, আলী আহম্মদ ইলেকট্রিক মার্কেট, তালুদকার ইলেকট্রিক মার্কেট, তাজ ইলেকট্রিক, তৌফিক ইলেকট্রিক মার্কেট, নূর ইলেকট্রিক মার্কেট, খাজা ইলেকট্রিক মার্কেট ও আল জাফর ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল মার্কেটে ইলেকট্রনিকসজাতীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে নবাবপুর ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট দোকানে ইলেকট্রনিকস পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানদার। কারো দোকানে বৈদ্যুতিক বাল্ব, হোল্ডার, সুইচ ও অন্যান্য সব ধরনের ইলেকট্রনিকস পণ্য। কারো দোকানে কেবল ইলেকট্রিক তার। আবার কারো দোকানে বৈদ্যুতিক ফ্যান। গ্রীষ্মকাল আসন্ন বিধায় বেশির ভাগ দোকানেই দেখা মিলল ফ্যান। গাড়িতে করে ফ্যান আসছে, সেটা দোকানে সাজিয়ে রাখছেন ব্যবসায়ীরা।

হিমেল ইলেকট্রিক কম্পানির দোকানে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের বৈদ্যুতিক তার। বিভিন্ন কম্পানির তারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন এই দোকানের ব্যবসায়ী। দেশে ক্রমবর্ধমান তারের চাহিদা বাড়ছে এমন তথ্য জানিয়ে ওই দোকানের এক কর্মচারী জানান, এখন তার বিক্রি বেড়েছে। আগে তার বিক্রি কম ছিল কিন্তু এখন অনেকটাই বেড়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা তার কিনছেন।

আরআর ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে বৈদ্যুতিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এই ইলেকট্রনিকস শিল্পের বাজার দাঁড়িয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। পণ্য রপ্তানিতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ করহার। বর্তমানে কাঁচামাল আনতে প্রায় ৪০ শতাংশ কর দিতে হয়। ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানিতে সরকারের কাছে ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা চাওয়া হয়েছে। পোশাক শিল্পের মতো প্রণোদনা পেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আরেকটি বড় খাত হবে এই শিল্প।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা