kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সেগুন কাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী শুধুই সেগুন

বছরে কয়েক শ কোটি টাকার ফার্নিচার বেচাকেনা

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেগুন কাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী শুধুই সেগুন

পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এই জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার সীমানার একটি অংশ সাতকানিয়ার হলুদিয়া এলাকা। এখান থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে দস্তিদার হাট। নামে হাট শব্দ শোনালেও এখানে শাকসবজি, মাছ-মাংসের বাজার বসে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন। আর সপ্তাহজুড়ে চলে ফার্নিচার তৈরির কাজকারবার। কারখানাগুলোতে দিনমান চলে হাতুড়ি কিংবা করাত দিয়ে কাঠ কাটার শব্দ। দস্তিদারহাটে নতুন আগন্তুকদের মনে হতে পারে, এটি আসলে ‘ফার্নিচার হাট।’

কী ফার্নিচার তৈরি হয় এখানে? এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন খাঁজা ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী আবু ছৈয়দ। তিনি বলেন, ‘শতভাগ সেগুন কাঠের ফার্নিচার তৈরি হয় আমার কারখানায়। নিত্যনতুন ডিজাইন ও বৈচিত্র্যময় রং ব্যবহার করা হচ্ছে এখন।’ কারখানা ঘুরে দেখা গেল, একদল শ্রমিক ফার্নিচার তৈরি করছেন। কেউ করাত চালাচ্ছেন। কেউ বা হাতুড়ি-পেরেকের সেতুবন্ধ তৈরি করছেন। আর একদল করছেন রঙের কাজ।

সেগুন কাঠের ফার্নিচার, আলমারি, সোফা, আলনা, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল-চেয়ার, ডিভাইন—কী নেই এই হাটে? সবই তৈরি হয় ফার্নিচার হাটে।

সেগুন কাঠের জোগান আসে বান্দরবান থেকে। জোত পারমিট ও বন বিভাগের নিলাম ডাকের মাধ্যমে সেগুন কাঠ সংগ্রহ করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় ক্রেতাদের পছন্দের ফার্নিচার। তবে এখানে স্থানীয় ক্রেতাদের চেয়ে বেশি ক্রেতা চট্টগ্রাম নগরী কিংবা দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। ঢাকার সেগুন কাঠের চাহিদার বড় অংশের জোগানদাতা এখানকার ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা। তাঁরা ফার্নিচার তৈরির পর বিভিন্ন পরিবহনে ফার্নিচার ক্রেতার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন।

এভাবে শুধু দস্তিদারহাট নয়, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সঙ্গে লাগোয়া চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া কিংবা চন্দনাইশ উপজেলায় সেগুন কাঠ তৈরির শত শত কারখানা গড়ে উঠেছে। আবার তিন পার্বত্য জেলার পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা সেগুন কাঠ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে গড়ে উঠেছে বহু ফার্নিচারের দোকান। উপজেলা পর্যায়ের ফার্নিচার দোকান আর নগরীর ফার্নিচার দোকানের মধ্যে মূল পার্থক্য দামের। নগরীতে প্রতি ঘনফুট সেগুন কাঠের দাম পড়ে মানভেদে ১৮০০-৪০০০ টাকা। আর উপজেলা পর্যায়ে ১০০০-২৫০০ টাকায় একই মানের সেগুন কাঠ পাওয়া যায়। এই কারণে ক্রেতারা উপজেলা পর্যায়ের দোকান থেকে বেশি ফার্নিচার সংগ্রহ করেন।

 সেগুন কাঠের জোগান আসে বান্দরবান থেকে। এরপর তৈরি করা হয় ক্রেতাদের পছন্দের ফার্নিচার। তবে এখানে স্থানীয় ক্রেতাদের চেয়ে বেশি ক্রেতা চট্টগ্রাম নগরী কিংবা দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। ঢাকার সেগুন কাঠের চাহিদার বড় অংশের জোগানদাতা এখানকার ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা। তাঁরা ফার্নিচার তৈরির পর বিভিন্ন পরিবহনে ক্রেতার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন

 

আবার চট্টগ্রাম জেলার চেয়েও বেশি ভালো মানের সেগুন কাঠ পাওয়া যায় তিন পার্বত্য জেলায়। মূলত এই তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকেই সেগুন কাঠ সরবরাহ হয়। ফলে সেগুন কাঠের উত্স জেলা হিসেবে এখানে ভালো মানের কাঠও পাওয়া যায় বেশি। দামও তুলনামূলক ভালো।

পার্বত্য জেলা থেকে সেগুন কাঠ সংগ্রহ করে ফার্নিচার তৈরি করেন চট্টগ্রাম নগরীর আসকারদীঘির পাড় এলাকার শৈল্পিক ফার্নিচারের মালিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ। তিনি বলেন, ‘আমরা বোর্ড এবং উড—দুই ধরনের ফার্নিচার তৈরি করি। এর মধ্যে স্থায়িত্বের দিক দিয়ে সেগুন কাঠের ফার্নিচারই সেরা বলা চলে। দীর্ঘদিন স্থায়িত্ব হওয়ার কারণে সেগুন কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা সর্বাধিক। কিন্তু সেই চাহিদার তুলনায় জোগান নেই। এ ছাড়া সেগুন কাঠের দাম বেশি হওয়ায় ফার্নিচারের দামও বেশি পড়ে। ফলে অনেক ক্রেতা সামর্থ্য বিবেচনা করে সেগুন কাঠের পরিবর্তে বোর্ড দিয়ে তৈরি করা ফার্নিচার কেনেন। যদিও বোর্ডের ফার্নিচার বাজারজাত বেশি, তার পরও সেগুন কাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী শুধুই সেগুন কাঠ। বলা চলে প্রতিদ্বন্দ্বী।’

সেগুন ফার্নিচারের বার্ষিক বিপণন বিষয়ে ফার্নিচার

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটি ধারণা পাওয়া গেছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর কয়েক শ কোটি টাকার ফার্নিচার বেচাকেনা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা