kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ইশোর নতুন সংযোজন

তৈরি হচ্ছে স্মার্ট ফার্নিচার বাজার

মাসুদ রুমী   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



তৈরি হচ্ছে স্মার্ট ফার্নিচার বাজার

রায়ানা হোসেন, এমডি, ইশো

ডিজিটাল যুগে ফার্নিচার মানে শুধু কাঠের কোনো জড় বস্তু নয়, স্মার্ট ডিভাইসও। এই যেমন—একটি চেয়ারে যেমন বসা যাবে আবার গানও শোনা যাবে। আবার পড়ার টেবিলে শুধু পড়াশোনা নয়, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনের চার্জও দেওয়া যাবে! তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাসার প্রতিটি ব্যবহার্য বস্তু সেন্সরসহ ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকবে। ফলে একটি শোবার ঘরের বিছানাটি বলে দেবে ঘুম কেমন হলো, বসার চেয়ারটি সংক্রিয়ভাবে বলে দেবে শরীরের তাপমাত্রা, প্রেসারসহ আরো কত কী। আর এই পথে পা রেখেছে দেশের ব্যসসায়ী গ্রুপ ডেকোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অনলাইনভিত্তিক ফার্নিচার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইশো (আইএসএইচও)। প্রতিষ্ঠানটি তরুণ প্রজন্মের হোম থিয়েটারের অভিজ্ঞতা দিতে এনেছে ব্লুটুথ অটোম্যান ফার্নিচার, স্মার্ট চার্জিং ওয়ার্কস্টেশন, স্মার্ট চার্জিং শেলফ, স্মার্ট চার্জিং

এল-টেবিল, শতরঞ্জি সিরিজসহ অনেক কিছু।

আর এই কাজটি যিনি করছেন তিনি রায়ানা হোসেন। লেখাপড়া করেছেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার অ্যান্ড ভিজ্যুয়াল স্টাডিজ বিভাগ থেকে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার ডিগ্রি অর্জন করেন। বিদেশে লেখাপড়া শেষ করে নিজ দেশে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন এই তরুণী। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইশো। যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য জিনিসগুলোর গতানুগতিক ডিজাইনে পরিবর্তন এনে আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে তাল রেখেই নতুনত্ব নিয়ে আসে ডেকো ইশো গ্রুপের অনলাইন ভিত্তিক ফার্নিচার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইশো।

ফার্নিচারের ডিজাইনে নতুনত্ব নিয়ে আসার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য জিনিসগুলোর গতানুগতিক ডিজাইনে পরিবর্তন এনে আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে তাল রেখে নতুনত্ব নিয়ে আসাই ইশোর লক্ষ্য। যাত্রার শুরু থেকে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও সম্প্রতি রাজধানীর বারিধারায় প্রথম অফলাইন শোরুম চালু হয়েছে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ইশোর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ডেকো ইশো গ্রুপের পরিচালক রায়ানা হোসেন বলেন, ‘আমরা ফার্নিচারের ডিজাইনে নতুন কিছু আবিষ্কার নিয়ে আসার চেষ্টা করি। দীর্ঘদিন যাবত্ আমরা নান্দনিক ডিজাইনের সব ফার্নিচার নিয়ে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। অনলাইনে গ্রাহকপ্রিয়তা এবং গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে নতুন করে অফলাইন শোরুম চালু করেছি। এখন থেকে গ্রাহকরা শোরুমে এসে তাঁদের পছন্দমতো ফার্নিচার দেখে কিনতে পারবেন।’

তিনি বলেন, “ইশো’তে বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের সব ফার্নিচার রয়েছে। গ্রাহকরা যাতে আমাদের অভিনব ডিজাইনের ফার্নিচারের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সে জন্য আকর্ষণীয় অফারসহ আমরা আমাদের ফার্নিচারগুলো বাণিজ্য মেলায় প্রদর্শন করেছি।’  

স্মার্ট ফার্নিচারের এই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় উদ্বোধন করেছে ‘ব্লুটুথ অটোম্যান’ ফার্নিচারটি। ইশোর ফার্নিচারটি গ্রাহকরা একই সঙ্গে বসার সিটার ও স্পিকার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। বসার এই সিটারটি ব্লুটুথের মাধ্যমে সব ধরনের ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ করে গ্রাহকরা মিউজিক উপভোগ করতে পারবে। এতে মিউজিকপ্রেমীদের জন্য বাসায় আলাদা করে কোনো স্পিকারের প্রয়োজন হবে না। ইশোর ব্লুটুথ অটোম্যান ফার্নিচারটি অটোমান সিরিজের অভ্যন্তরে সমন্বিত এবং প্রগ্রাম করা ব্লুটুথ স্পিকার, যা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার এবং টেলিভিশনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে একটি ইনহাউস ডিজাইনে করা হয়েছে। ফার্নিচারের অভ্যন্তরে স্পিকারটির সর্বাধিক আউটপুট ক্ষমতা ২৫ ওয়াটের সাউন্ড এবং উচ্চমানের স্পষ্টতা দ্বারা সমর্থিত। এটি ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি সম্পন্ন, যা একটানা পাঁচ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। এটি অপটিক্স সমর্থনসহ একটি শক্তিশালী কোয়ালকমের চিপ দ্বারা পরিচালিত। এ ছাড়া ইশোর স্মার্ট সিরিজের ফার্নিচারগুলোর মধ্যে আছে স্মার্ট চার্জিং ওয়ার্কস্টেশন, স্মার্ট চার্জিং শেলফ, স্মার্ট চার্জিং এল-টেবিল, কাউলুন ফুটন বেড এবং ইশোর অন্যতম আকর্ষণীয় শতরঞ্জি সিরিজ। ইশোর এসব অত্যাধুনিক ফার্নিচারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ব্লুটুথ অটোম্যান ফার্নিচার, যা গ্রাহকদের মাঝে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। এই ফার্নিচারগুলোর মধ্যে থাকবে নানা সব প্রযুক্তির সমাহার।

বাড়ি ও অফিসের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে অত্যাধুনিক সব ডিজাইনের স্মার্ট ফার্নিচার আছে ইশোর। ইশোর প্রতিষ্ঠাতা রায়ানা হোসেন বলেন, ‘গ্রাহকরা যাতে আমাদের অভিনব ডিজাইনের ফার্নিচারের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সে জন্য ইশোর নির্দিষ্ট কিছু আনুষঙ্গিক পণ্যের ওপর ৫% এবং বাণিজ্য মেলায় স্টল থেকে ২৫ হাজার টাকার বেশি পণ্য কিনলে ১০% ছাড় এবং ৫০ হাজার টাকার বেশি পণ্য কিনলে ২০% ছাড় দিচ্ছি। এ ছাড়া স্টলে ভিআর গেম প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে, যেখানে মেলার প্রথম ১৫ দিনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন বিজয়ী পাবেন এক লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় ১৫ দিনে একজন বিজয়ী পাবেন আরো এক লাখ টাকা জেতার অনন্য সুযোগ।’

বিয়ের মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এসেছে ‘ইওর ড্রিম হোম’ ওয়েডিং অফার। এই অফারে বিশেষ ছাড়ে বাসার একটি বেডরুম ও একটি লিভিং-ডাইনিং রুম আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে দেবে ইশো। গ্রাহকরা এক লাখ ৫৯,৯৯০ টাকা খরচ করলে পাবেন একটি ম্যালমো সিটার, একটি মুকো ওয়ার্ডরোব, একটি বুশউইক ল্যাপটপ টেবিল, একটি বুশউইক সেন্টার টেবিল, একটি বুশউইক সাইড টেবিল, একটি পম্পেই ব্ল্যাক ডাইনিং টেবিল, চারটি ভেস্টারব্রো ডাইনিং চেয়ার, একটি পম্পেই শেলফ, একটি স্মার্ট চার্জিং শেলফ, একটি কাউলুন ফুটন বেড, একটি এলগিন গ্রে ভেলভেট বেড, একটি নাভিলি স্ট্যান্ডিং লাইট এবং একটি মুকো ফ্লোটিং শেলফ। এ প্রসঙ্গে রায়ানা হোসেন বলেন, “এখন চলছে বিয়ের মৌসুম। সদ্য বিবাহিতরা যাতে খুব কম খরচে নিজের মনের মতো করে ঘর সাজিয়ে নিতে পারেন, সে জন্যই আমরা ‘ইওর ড্রিম হোম’ অফারটি নিয়ে এসেছি। আশা করছি, ইশোর অনন্য ডিজাইনের ফার্নিচারে ঘর হয়ে উঠবে অনেক বেশি নান্দনিক।”

আর্কিটেকচার অ্যান্ড ভিজ্যুয়াল স্টাডিজ বিভাগ থেকে লেখাপড়া তাঁর ফার্নিচার ব্যবসায় ভূমিকা রেখেছে কি না জানতে চাইলে রায়ানা হোসেন বলেন, ‘আমার শিক্ষার ফলেই এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হতে পেরেছি। সেই সচেতনতা থেকেই জনগণের বাসার ফাঁকা জায়গাগুলো ব্যবহার করার জন্য আমি প্রথমে এ ধারণাটি নিয়ে আসি। তবে নতুন ডিজাইন তৈরি করার ক্ষেত্রে আমার শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি বড় মাপের শহুরে নকশা করার সময় বা নকশা করার আগে পরিবেশ, ইতিহাস, রাজনীতি, জনসংখ্যা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা থাকা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘পণ্যগুলো নকশা করা হয় ইনহাউস ডিজাইন স্টুডিওতে। প্রযুক্তির প্রতি ফোকাস করেই আমাদের পণ্য তৈরি করা হয়। শতরঞ্জি প্রজেক্ট, স্মার্ট চার্জিং টেবিলের বাইরে আমরা শিগগিরই সৌর বাতি ছাড়ব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা