kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

তৈরি ফার্নিচারেই আগ্রহ ক্রেতাদের

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তৈরি ফার্নিচারেই আগ্রহ ক্রেতাদের

ছবিঃ নূরুজ্জামান সেলিম

বাসায় কাঠের মিস্ত্রি এনে কাঠ থেকে খাট, চেয়ার-টেবিল বানানো কিংবা রং বার্নিশ দেওয়ার দৃশ্য এখন ময়মনসিংহ শহরে খুব বেশি চোখে পড়ে না। নতুন সংসার, অফিস কিংবা প্রতিষ্ঠান চালু, কিংবা ঘরের প্রয়োজনে লোকজন এখন তৈরি কাঠের আসবাবের দিকেই নজর দেন। বিশেষ করে বিভিন্ন বোর্ডের তৈরি টেবিল, আলমারির চাহিদা এখন ব্যাপক। আবার যাঁরা দামি কাঠের আসবাব কিনতে চান তাঁরাও ফার্নিচারের দোকান থেকে রেডিমেড মালামালই কেনেন বেশি। ময়মনসিংহ শহরের সিকে ঘোষ রোড এলাকার বড় অংশজুড়েই এখন এসব ফার্নিচারের দোকান। আবার উপজেলা কিংবা বড় হাট-বাজারগুলোতেও ফার্নিচার তৈরির দোকান গড়ে উঠছে।

ফার্নিচারের মালিকরা বলেন, কাঠের চেয়ে তুলনামূলক বেশ কম দামে বোর্ডের ফার্নিচার পাওয়া যায়। যত্ন দিয়ে এসব ফার্নিচার ব্যবহার করলে অনেক দিন টিকে। অনেকেই এখন এসব তৈরি ফার্নিচারের দিকে ঝুঁকছেন। তৈরি ফার্নিচারের সুবিধা হলো ক্রেতা তাঁর সাধ্যমতো এবং পছন্দমতো মাল কিনে নিয়ে যান। এ ছাড়া শহরে এখন একাধিক বড় বড় দোকান থাকায় দাম এবং মালামাল পরখ করে নেওয়ারও সুযোগ আছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এমডিএফ বোর্ড, ভিনিয়ার বোর্ড, মেলামাইন বোর্ড ইত্যাদি দিয়ে খাট, টেবিল, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল তৈরি হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এসব বোর্ড দিয়ে তৈরি খাটের দাম ১২ থেকে ১৭ হাজার টাকার মতো পড়ে। কম্পিউটার টেবিলের দাম পড়ে ১৭০০ থেকে ২২০০ টাকা। পড়ার টেবিলের দাম পড়ে ২২০০ থেকে ৩০০০ টাকা। এ ছাড়া স্টিলের আলমারিরও চাহিদা আছে। যার মূল্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কাঠ এবং স্টিল বোর্ডের খাটের দাম পড়ে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। শহরের তৈরি ফার্নিচারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান লিটন ফার্নিচার্সের লিটন আহমেদ বলেন, ২০০৩ সালে তিনি এ ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এখন আরো দোকানপাট গড়ে উঠছে। উপজেলা পর্যায়েও দোকান হচ্ছে, কারখানা হচ্ছে। লিটন আহমেদ বলেন, নিজেরা মাল তৈরির পাশাপাশি তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন কম্পানির আসবাবও বিক্রি করে থাকেন। এসব ফার্নিচার ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।

সেগুন কাঠের দামি আসবাব বিক্রি হচ্ছে ‘নকশী’তে। এখানে বিভিন্ন ডিজাইনের খাট, টেবিল, সোফা, আলমারি আছে। এগুলোর মূল্য আকার ও ডিজাইন অনুযায়ী। ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ, দুই লাখ টাকার আসবাব আছে এ দোকানে। দোকানের কর্ণধার হীরা আহমেদ বলেন, ‘অনেকে সেগুন কাঠের আসবাব কিনতে চান। আমরা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মাল সরবরাহ করি।’

তৈরি আসবাবকে ঘিরে ময়মনসিংহে বেশ কিছু কারখানা গড়ে উঠেছে। অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ক্রেতারাও লাভবান হচ্ছেন। শিল্পটির প্রসার ঘটছে। কাঠের মিস্ত্রির ওপর আস্থা কমে যাওয়াতে এখন অনেকে সরাসরি তৈরি ফার্নিচারই কিনে ফেলেন। ওয়ারেছ বাবু নামের একজন ক্রেতা জানান, তিনি গ্রামের বাড়িতে সোফা পাঠিয়েছেন ফার্নিচারের দোকান থেকে কিনে। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন বাড়িতে মিস্ত্রি এনে এসব বানানো ঝামেলা। সালেহা খাতুন নামের আরেকজন গৃহিণী বলেন, এখন বাসায় ফার্নিচার বানানোর জায়গা নাই। আর এত সময়ও নাই। তাই প্রয়োজন হলে চেয়ার-টেবিল ফার্নিচারের দোকান থেকেই কিনে ফেলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা