kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

দেশে বাজার ২৫ হাজার কোটি টাকার

উদ্ভাবনে এগিয়ে যাচ্ছে ফার্নিচারশিল্প

কর সহায়তা ও দক্ষতা বাড়ানো গেলে বিশ্ববাজারের একটা বড় অংশ দখলে নেওয়া সম্ভব

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উদ্ভাবনে এগিয়ে যাচ্ছে ফার্নিচারশিল্প

নিত্যনতুন উদ্ভাবন আর ডিজাইনের সুবাদে দেশে ক্রমেই বড় হচ্ছে ফার্নিচারের বাজার। আর রুচিশীল ও মানসম্মত পণ্য পেয়ে ঘর সাজাতে দেশি ব্র্যান্ডেই আস্থা রাখছেন ক্রেতারা। হাতিল, পারটেক্স, নাভানা, অটোবি, রিগ্যাল, আখতার, হাইটেক, ব্রাদার্সসহ দেশের বড় ব্র্যান্ডগুলো এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাড়াচ্ছে রপ্তানিও।

ফার্নিচার খাত নিয়ে সম্প্রতি এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়, দেশে ফার্নিচার খাতের বাজার ২৫ হাজার কোটি টাকার। কর সহায়তা পেলে এবং দক্ষতা বাড়ানো গেলে বিশ্ববাজারের বড় অংশ দখলে নিতে পারে বাংলাদেশ।

গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশ্বে ৪৮ হাজার ৭০ কোটি ডলারের ফার্নিচারের বাজারের ৩১.৭ শতাংশই চীনের দখলে। ২০২৫ সালে বিশ্বে ফার্নিচার খাতের বাজার হতে পারে ৬৫ হাজার ৪৬০ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরে মাত্র সাত কোটি ৪৭ লাখ ডলারের ফার্নিচার রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ০.১৮ শতাংশ। তবে ইতিবাচক দিক হলো—গত অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি ১০.৫৫ শতাংশ বাড়লেও ফার্নিচার রপ্তানি বেড়েছে ১৮.৫২ শতাংশ।

গবেষণাটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীয়ত উল্লাহ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসাইন, ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং ড. গাজী মোহাম্মদ হাসান জামিল।

২০২২ সালে দেশের ফার্নিচার রপ্তানি ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা, উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা, আলাদা ফার্নিচার শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠা, ভ্যাট কাঠামো সহজ করা এবং এই খাতের উদ্যোক্তা ও কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো গেলে চীনের দখলে থাকা ফার্নিচার বাজারের একটা বড় অংশ দখলে নিতে পারে বাংলাদেশ।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে নকশা ও কাঠামোয় নতুনত্ব আসছে। এ কারণে দেশি ফার্নিচারের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ফার্নিচার ব্যবসার। ফলে কম্পানিগুলোর বিনিয়োগও বাড়ছে এ শিল্পে।

ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ব্র্যান্ড এবং নন-ব্র্যান্ড মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠান আসবাবপত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর এ বাজার ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।

ফার্নিচারের বাজার নিয়ে ব্রাদার্স ফার্নিচারের পরিচালক শরিফুজ্জামান সরকার বলেন, ফার্নিচারের নন-ব্র্যান্ড মার্কেটটা এখনো ৮০ শতাংশ। আমি বলব যে, দিন দিন মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে তত ব্র্যান্ডের ফার্নিচারের দিকে এগিয়ে আসছে। পছন্দ করছে। ইউরোপ থেকে শুরু করে চীন, তাইওয়ানের প্রযুক্তি এনে আমরা এটিকে ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। এখন বিদেশ থেকে আর ফার্নিচার আমদানি করতে হবে না। এ দেশেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের ফার্নিচার। অন্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রপ্তানিতেও আমরা এগোচ্ছি।

দেশের ফার্নিচার শিল্পের সম্ভাবনা সম্পর্কে নাভানা ফার্নিচারের প্রজেক্ট ইনচার্জ ইয়ামিন রিখু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দিন দিন বড় হচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে। ফলে এখন জীবনধারণ সম্পর্কে মানুষ অনেক সচেতন। মানুষ বাসার ডেকোরেশনের সঙ্গে মিলিয়ে ফার্নিচার কেনে। তাই এ শিল্পের সম্ভাবনা ব্যাপক। গ্রামে চাহিদা সৃষ্টি করতে পারলে তা আরো বাড়বে। আর আমদানি শুল্কের বাধা দূর হলে প্রবৃদ্ধি ৩০-৩৫ শতাংশ বাড়বে। এতে দেশীয় বাজার বৃদ্ধি পাবে। নতুন শিল্প-প্রতিষ্ঠান এই বাজারে আসবে। এতে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিযোগিতা বাড়বে। আর প্রতিযোগিতা বাড়লে ক্রেতা লাভবান হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা