kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাড়ছে রপ্তানি ও স্থানীয় বাজার

অর্থনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে সম্ভাবনাময় ফার্নিচারশিল্প

♦ কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক না কমালে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জিত হবে না
♦ উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা, দক্ষতা বাড়ানো ও আলাদা ফার্নিচারশিল্প পার্ক প্রয়োজন
♦ নগদ সহায়তা ১৫ শতাংশ থেকে আরো বাড়াতে হবে

এম সায়েম টিপু   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে সম্ভাবনাময় ফার্নিচারশিল্প

দিনের পর দিন বাড়ির আঙিনায় বসে একসময় প্রতিবেশী কাঠমিস্ত্রি নিজের মতো করে বাড়ির খাট, আলমারি, টেবিল-চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সব আসবাব তৈরি করতেন। এখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই আদি চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

এখন আর একটি খাট বা আলমারির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় না। ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র মুহূর্তেই চলে যাচ্ছে তাঁর বাসা-বাড়িতে। ফলে একসময়ের ক্ষুদ্র কুটির শিল্প এখন স্বয়ংসম্পন্ন, বিশ্বমানের আধুনিক শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে দেশের আসবাবশিল্প।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, স্বস্তা শ্রম, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, আর ঐতিহ্যের কারণে বিশ্ববাজারে কদর বেড়েছে বাংলাদেশের ফার্নিচারশিল্পের। বর্তমানে ইউরোপ-আমেরিকাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়ছে। গত অর্থবছরে প্রায় সাড়ে সাত শ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া এর স্থানীয় বাজারও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে বন্ডের ওয়্যারহাউস ও কর সহায়তা এবং রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ালে বিশ্ববাজারের একটি বড় অংশ দখল করে নিতে পারে দেশের ফার্নিচারশিল্প।

খাত বিশ্লেষকরা আরো জানান, একসময় বিশ্ববাজারে চীনা ফার্নিচারের কদর থাকলেও মজুরি এবং আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উত্পাদিত আসবাবের দামও বেড়ে গেছে। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চীন থেকে ফার্নিচার নেওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছে। তারা এখন বাংলাদেশি আসবাবের প্রতি ঝুঁকেছে। এভাবেই বাংলাদেশে তৈরি ফার্নিচারের বাজার বাড়ছে।

জানতে চাইলে ফার্নিচার রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ও আকতার ফার্নিচারের চেয়ারম্যান কে এম আকতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের ফার্নিচার বাজার দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে রপ্তানি আয়। তিনি বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাসহ রাজধানীর প্রধান প্রধান এলাকাগুলোতে গেলেই দেখা যাবে নজরকাড়া সব শোরুম। এর বিস্তৃতি বেড়েছে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে।

একসময়ের বাড়ির আঙিনার এই শিল্প প্রযুক্তির কল্যাণে বড় শিল্প হিসেবে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আকতার, হাতিল, নাভানা, পারটেক্স, প্রাণ-আরএফএলসহ প্রায় ২০টি বড় প্রতিষ্ঠান অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি করছে আধুনিক ফার্নিচার।

বিশ্ববাজারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বে ৪৮ হাজার ৭০ কোটি ডলারের ফার্নিচারের বাজারের ৩১.৭ শতাংশই চীনের দখলে। ২০২৫ সালে বিশ্বে ফার্নিচার খাতের বাজার হতে পারে ৬৫ হাজার ৪৬০ কোটি ডলারের। অথচ গত অর্থবছরে মাত্র সাত কোটি ৪৭ লাখ ডলারের ফার্নিচার রপ্তানি করেছে, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ০.১৮ শতাংশ।

আকতারুজ্জামান বলেন, কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা, উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা, আলাদা ফার্নিচার শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা, ভ্যাট কাঠামো সহজ করা এবং এ খাতের উদ্যোক্তা ও কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের ফার্নিচারের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্ববাজারে।

আসবাব রপ্তানি বাড়াতে বন্ড সুবিধার কথা বলেছেন, বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির চেয়ারম্যান ও হাতিলের এমডি সেলিম এইচ রহমান। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের মতো আসবাব রপ্তানিতে বন্ড সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। আসবাব রপ্তানিতে সরকার ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। কারণ, আসবাবের সরঞ্জাম আমদানিতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। তাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন করা যায় না।

ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত গবেষণা করে পণ্যের মান উন্নয়ন করছে উল্লেখ করে ব্রাদার্স ফার্নিচারের পরিচালক শরীফুজ্জামান সরকার বলেন, ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণার মাধ্যমে দেশের ফার্নিচারশিল্পকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এর ফলে একসময়ে চীনা পণ্যে দেশের বাজার সয়লাব হলেও এখন ওই বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলে করপোরেট ফার্নিচার, মেডিকেটেড ফার্নিচারসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর চাহিদা বাড়ছে। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরো দুই হাজার কোটি টাকার নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান।

তিনি আরো বলেন, রপ্তানিতে সরকারের নগদ আর্থিক সহায়তা বাড়লে ও অপরিহার্য কিছু কাঁচামালে আমদানি শুল্ক কমলে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় খাতটি আরো এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা