kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

দেশি শিল্প সুরক্ষায় শুল্ক আরোপ

সজীব হোম রায়   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশি শিল্প সুরক্ষায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে আমদানি এবং রপ্তানি পর্যায়ে পণ্যভেদে শুল্ক ছাড় ও আরোপ করেছে সরকার। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কহার রাখা হয়েছে।

 

গুঁড়া দুধ

চলতি অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় দুগ্ধশিল্প সুরক্ষায় আমদানীকৃত গুঁড়া দুধে বাড়ানো হয়েছে শুল্ক। শিশুখাদ্যের গুঁড়া দুধে অবশ্য কোনো শুল্ক বাড়ানো হয়নি। গুঁড়া দুধে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

 

চিনি

চিনিশিল্প সুরক্ষায় আমদানীকৃত র-সুগার বা কাঁচামালের ক্ষেত্রে স্পেসিফিক ডিউটি দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হয়েছে। রিফাইন্ড সুগারের স্পেসিফিক ডিউটি সাড়ে চার হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ছয় হাজার টাকা করা হয়েছে। আর এই দুই প্রকার চিনির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের বাজেটে এই রেগুলেটরি ডিউটি ছিল ২০ শতাংশ।

 

আইসিটি খাত

দেশে তৈরি মোবাইলশিল্পকে উত্সাহিত করতে অর্থমন্ত্রী স্মার্টফোন আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। আর ফিচার ফোনের জন্য রয়েছে ১০ শতাংশ শুল্ক। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ দুই ফোন আমদানিতেই ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ ছিল। চার্জার সংযোগকারী পিন আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সিমের স্লট বের করতে ব্যবহূত পিন আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

 

স্বর্ণ খাত

বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি উত্সাহিত করার জন্য চলতি অর্থবছর তিনটি ক্যাটাগরিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতি ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম অগঠিত বা কাঁচা স্বর্ণ আমদানিতে ডিউটি ছিল তিন হাজার টাকা। চলতি অর্থবছর এটি কমিয়ে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। একই পরিমাণ অর্ধেক তৈরি করা স্বর্ণ আমদানিতে তিন হাজার টাকার পরিবর্তে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। ২৩৪ গ্রাম স্বর্ণের বার আমদানিতে (ব্যাগেজের ক্ষেত্রে) তিন হাজার টাকা থেকে কমিয়ে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে পার্টিক্যাল বোর্ড ও বৈদ্যুতিক গৃহস্থালি আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর পাদুকাশিল্পে ব্যবহূত বিভিন্ন উপকরণে রেগুলেটরি ডিউটি ও সম্পূরক শুল্ক মওকুফ করা হয়েছে। প্রধান প্রধান খাদ্যদ্রব্য যেমন : ডাল, গম, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেলে শুল্কহার অপরিবর্তিত। এ ছাড়া সার, বীজ এবং কাঁচা তুলাসহ বেশ কিছু কাঁচামালে দেশীয় শিল্পের স্বার্থে শুল্কহার শূন্য শতাংশ রাখা হয়েছে। পোল্ট্রি/ডেইরি/মত্স্যশিল্পে ব্যবহূত উপকরণও শূন্য শুল্কহার রাখা হয়েছে।

চলতি বাজেটে অর্থমন্ত্রী দেশি শিল্পের স্বার্থে পরিবেশবান্ধব ‘বিল্ডিং ব্রিকস’ রপ্তানি উত্সাহিত করতে রপ্তানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন।

 

ঔষধশিল্প

বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত ঔষধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব সময় প্রশংসিত হয়ে আসছে। এ খাতের সুরক্ষায় চলতি বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কাঁচামাল আমদানিতে যেমন দিয়েছেন শুল্ক রেয়াত সুবিধা তেমনি কমানো হয়েছে রেগুলেটরি ডিউটি। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জীবন রক্ষাকারী মেডিক্যাল গ্যাস প্রস্তুতকারী শিল্পের কাঁচামাল লিকুইড অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আরগন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ওপর ২০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা ছিল। চলতি অর্থবছরের বাজেটে তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা