kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আধুনিক কাস্টমস বন্ধ করবে সন্ত্রাস ও অর্থপাচার

ফারজানা লাবনী   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 আধুনিক কাস্টমস বন্ধ করবে সন্ত্রাস ও অর্থপাচার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে হলে কাস্টমসের আধুনিকায়ন এখন সময়ের জোরালো দাবি। হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাংলাদেশ কাস্টমসের আধুনিকায়ন এগিয়ে চললেও এখনো গন্তব্যে পৌঁছতে বহু দূর।

দেশের কাস্টমসের আধুনিকায়নের ওপর নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলো নিরর্ভশীল। আধুনিকায়নের ফলে কাস্টমস খাতের সব কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সক্ষমতা বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, আগামী দিনে কাস্টমসের আধুনিকায়ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও বাড়বে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং অর্থপাচার কমবে।

শুল্ক খাতের (কাস্টমস) কার্যক্রম এককভাবে একটি দেশ পরিচালনা করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে যেকোনো নীতিনির্ধারণে অন্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রণয়ন করতে হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক হালচাল অনুযায়ী ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্রুত প্রসার ঘটাতে হলে কাস্টমসের প্রতি ধাপে ধাপে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

সময়ের দাবি বিবেচনায় এবং বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্রুত প্রসার ঘটাতে চলতি বাজেটেও একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বিশেষভাবে বন্দরে স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কাস্টমস অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ২০১২ সালে রিভাইজড কিয়োটো কনভেনশন স্বাক্ষর করেছে, যা আধুনিক কাস্টমসের নকশা নামে পরিচিত। এরই আলোকে এরই মধ্যে বাংলাদেশ কাস্টমস ২০১৩ সালে মন্ত্রী পর্যায়ের বালি সম্মেলনে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটিজ অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একমত হয়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশও এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এসব চুক্তি সামনে কাস্টমস মর্ডানাইজেশন স্ট্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৯-২২ প্রণীত হয়েছে। এ পরিকল্পনাকে ভিত্তি করে কাস্টমসের আধুনিকায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো (এনএসডাব্লিউ) বাংলাদেশ কাস্টমসের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে স্বতন্ত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট এবং ৩৯টি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়োগ করা হয়েছে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিট ও কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স (পিএমকিইউএ) পরামর্শক। এ প্রকল্প বাস্তবায়নেরর মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২১ সাল।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে বাণিজ্যের ধারা গতিশীল হবে।

বাংলাদেশ কাস্টমসের আধুনিকায়নে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী, উন্নত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা এবং অতীত রেকর্ডে প্রমাণিত বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন করে প্রাথমিকভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করে এইও কার্যক্রম শুরু করেছে। গ্রিন চ্যানেল সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কাস্টমস বিভাগের কাজে ব্যাপী বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও সে অনুযায়ী রিস্ক জনবল বাড়েনি। এ ক্ষেত্রে সীমিত জনবল ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে পণ্যের চালান দ্রুত ছাড়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন ও বিধি সংস্থার পাশাপাশি এনবিআরে একটি কেন্দ্রীয় ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিট গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য চালান, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, এজেন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এ ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল ও কার্যকর কার্যক্রম করতে সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে পিসিএ চালু করা হয়েছে। প্রতিটি কাস্টমস হাউসে গঠন করা হয়েছে স্বতন্ত্র পিসিএ ইউনিট। কার্যকর পিসিএ চালু হলে দেশে বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকবে।

অ্যাসাইকুডা (অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডাটা) ওয়ার্ল্ড নব্বইয়ের দশকের শুরুতে অ্যাসাইকুডা সিন্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমসের ডিজিলাইজেশনের সূচনা হয়। প্রথমে ল্যানভিত্তিক অ্যাসাইকুডা এবং পরবর্তী সময়ে অ্যাসাইকুডা প্লাস সিস্টেম চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল তথ্য কাস্টমসের যাত্রা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ইএলসি, ইএক্সপি এবং ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে আমদানীকৃত পণ্য চালানের শুল্কায়ন ও খালাস ত্বরান্বিত হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা