kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

টেকনাফ স্থলবন্দর

অর্থবছরের ছয় মাসে রাজস্ব আদায় ৮২ কোটি টাকা

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থবছরের ছয় মাসে রাজস্ব আদায় ৮২ কোটি টাকা

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৮২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০১৮-১৯ পূর্ণ অর্থবছরে এ বন্দরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৭৯ কোটি ৫৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছরের বাকি ছয় মাসে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক থাকলে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৮২ কোটি আট লাখ ৬৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই মাসে ১৪ কোটি ৭০ লাখ ১২ টাকা, আগস্টে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা, সেপ্টেম্বরে ১০ কোটি ৯৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা, অক্টোবরে ১০ কোটি ২৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, নভেম্বরে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ছয় হাজার টাকা এবং ডিসেম্বর মাসে রেকর্ড ২০ কোটি ৯৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মিয়ানমার থেকে ৫৪৫ কোটি ৫৫ লাখ দুই হাজার টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছে এবং ৯ কোটি ৬০ লাখ ৯৬ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা আবছার উদ্দীন জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বন্দর শুল্ক বিভাগ ১৭৯ কোটি ৫৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়। অর্থবছরের শুরুতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পেঁয়াজ আমদানি বেশি হয়েছে। তাই অন্যান্য পণ্য আমদানি কম হওয়ায় রাজস্ব আদায় কিছুটা কম ছিল। তবে ডিসেম্বর মাস থেকে অন্যান্য পণ্যের আমদানি বাড়াতে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো জানান, শাহপরীর দ্বীপ করিডরে মিয়ানমার থেকে আমদানীকৃত গবাদি পশুর রাজস্বও এ শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে আদায় করা হয়। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে মিয়ানমার থেকে ৪৩ হাজার ৮০৮টি গবাদি পশু আমদানির বিপরীতে দুই কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এদিকে স্থলবন্দর ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের পেঁয়াজের সংকট মোকাবেলায় ব্যবসায়ীরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। যে কারণে মিয়ানমার থেকে অন্যান্য পণ্য আমদানি কিছুটা কম হয়েছে। পেঁয়াজ আমদানির পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য আমদানির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আদায় সম্ভব হলেও বন্দরে বেশ কিছু অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সময়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

স্থলবন্দর ব্যবসায়ী এম এ হাশেম সিআইপি বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অনেক ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করেন। ২০১৯-২০ অথবছরের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য আমদানিও স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা রয়েছে।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বন্দরে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য সব ধরনের অত্যাধুনিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের যেসব অভিযোগ ছিল সব সমাধান করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এখন বন্দর কার্যক্রম সুষ্ঠু ধারায় পরিচালিত হচ্ছে, কারো কোনো অভিযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, টেকনাফ সীমান্তে চোরাচালান রোধে ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নাফনদের তীরে কেরুনতলী নামক এলাকায়  স্থাপন করা হয়েছিল টেকনাফ স্থলবন্দর। এ বন্দরের বিপরীতে রয়েছে মিয়ানমারের মংডু স্থলবন্দর। বন্দর স্থাপনের পর থেকে টেকনাফ ও মিয়ানমারের মংডুর সঙ্গে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়। মিয়ানমারের মংডু ও আকিয়াব থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। বিশেষ করে কাঠ, হিমায়িত মাছ, পেঁয়াজ, চাল, শুঁটকি ও আচার মিয়ানমার থেকে এ বন্দর দিয়ে আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, ওষুধ ও সিরামিকসহ প্রায় ৫০টির অধিক পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানি হয় প্রতিবছর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা