kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জাহাজ আগমন ও আয় বেড়েছে মোংলায়

এম এ মোতালেব, মোংলা   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 জাহাজ আগমন ও আয় বেড়েছে মোংলায়

পণ্য খালাসে বিদেশি জাহাজ আসার রেকর্ড করেছে মোংলা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত অক্টোবর মাসেই এ বন্দরে ৯৩টি জাহাজ ভিড়েছে। অতীতে একসঙ্গে এত জাহাজ আর মোংলা বন্দরে ভেড়েনি বলে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মোজাম্মেল হক নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মোংলা বন্দর এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এ বন্দরে নতুন নতুন জাহাজের আগমন ঘটছে।

এক দশক আগেও ব্যয়ভার বহনে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হতো মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে। ২০০৮ সাল থেকে এ বন্দরে গাড়ি, খাদ্যশস্য, সার ও ক্লিংকার আমদানি এবং হিমায়িত পণ্য রপ্তানি হওয়ার কারণে লোকসান কাটিয়ে বর্তমানে বন্দরটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এদিকে দিনে দিনে এ বন্দরে জাহাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকদের কাজও বেড়েছে। মোংলা বন্দরের শ্রমিক সর্দার মো. ইস্রাফিল হাওলাদার ও শাজাহান সিদ্দিকি বলেন, ২০০৮ সালের আগে এ বন্দর মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। দিনের পর দিন বন্দরের পশুর চ্যানেল জাহাজশূন্য থাকত। শ্রমিকদের একসময় না খেয়ে দিন কাটাতে হতো। তবে এখন চিত্র ভিন্ন। তাঁরা বলেন, এখন এ বন্দরে যে পরিমাণ জাহাজ আসছে, সেসব জাহাজে কাজ করাতে এখন শ্রমিক পাঠাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এ বন্দর ঘিরে সরকারের নানা পরিকল্পনার কারণে জাহাজের আনাগোনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, মোংলা বন্দর এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। গত পাঁচ অর্থবছরে বন্দরে জাহাজের আগমন ও আয় বেড়েছে।

তিনি বলেন, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৪১৬টি। সেই অর্থবছরে এ বন্দরে আয় হয়েছে ১৭০ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৪৮২টি। অর্থবছরে আয় হয়েছে ১৯৬ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৬২৩টি। আর এই অর্থবছরে আয় হয়েছে ২২৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৭৮৪টি। আর এই অর্থবছরে আয় হয়েছে ২৭৬ কোটি ১৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৯১২টি। এই অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩২৯ কোটি ১২ লাখ ১৩ হাজার টাকা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মোজাম্মেল হক বিএন জানান, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং এ বন্দর ঘিরে সরকারের নানা রকম পরিকল্পনার কারণে এ বন্দরে জাহাজের আনাগোনা বেড়েছে। এ অবস্থার আরো উন্নতি করতে এরই মধ্যে ব্যপক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এ বন্দরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বন্দরের চিত্রই পাল্টে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা