kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পণ্য খালাসে ই-পেমেন্টে শতভাগ রাজস্ব পরিশোধ হবে

মোহাম্মদ ফখরুল আলম কমিশনার, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পণ্য খালাসে ই-পেমেন্টে শতভাগ রাজস্ব পরিশোধ হবে

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ডিজিটাল করার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। মোট ২৮টি মডিউলের মধ্যে চারটি ছাড়া বাকি সবগুলো মডিউল চালু হয়েছে এর মধ্যে। বাকি মডিউলগুলো তৈরি হয়েছে, পরীক্ষামূলক কাজ চলছে, শিগগিরই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। বলছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম।

তিনি বলেন, এর মধ্যে আমরা ইএক্সপি, ইএলসি চালু করেছি, ইজিএম নিয়ে কাজ হচ্ছে। ইজিএম মডিউল ফাইনাল হয়নি। আর ই-অকশন সফটওয়্যার এর মধ্যে পরীক্ষামূলক চালু হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। বিষয়টিগুলো আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানিয়েছি। সেগুলো উত্তরণের কাজ চলছে। শিগগিরই আমরা চালু করতে পারব।

তিনি বলেন, অনলাইনে রাজস্ব জমা দেওয়া বা ই-পেমেন্ট সিস্টেম কাস্টমসের জন্য অনেক বড় কাজ। সেই সফটওয়্যার চালু হয়েছে কাস্টম হাউসে। অ্যাসইকুডা ওয়ার্ল্ড সফটওয়্যারে লগইন করে অনেকেই এর মধ্যে ই-পেমেন্ট মাধ্যমে রাজস্ব পরিশোধ করছেন। কিন্তু সেটা বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলে সব স্টেকহোল্ডাররা সেটি পরিশোধ করছেন না। একটি সরকারি আদেশে বাধ্যতামূলক করলেই ঘরে বসেই শতভাগ রাজস্ব পরিশোধ করা সম্ভব হবে। প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনে একটু সময় দিয়ে হলেও এটি করা জরুরি।

কাস্টমস কমিশনার মনে করেন, ই-পেমেন্ট কঠিন বা জটিল কিছু নয়। লগইন করে মাত্র ৬টি তথ্য পূরণ করবে। এর পরই রাজস্ব পরিশোধ করতে পারবে। এ জন্য দরকার একটু প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ। কারণ কাস্টমস ডিজিটাইজড হচ্ছে, নিশ্চয়ই স্টেকহোল্ডাররা সেই সেবা নেওয়া থেকে পিছিয়ে থাকবেন না।

কিন্তু সব বাণিজ্যিক এই সিস্টেমে সেবা দিতে প্রস্তুত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেসব ব্যাংক সেবা দেবে গ্রাহকরা তাদের কাছে যাবেন; যাঁরা দেবেন না তাঁরা গ্রাহক হারাবেন।

কাস্টমস কমিশনার বলেন, ইজিএম চালুর প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়েছে। এটি চালু হলে রপ্তানিতে জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। এখন সনাতন পদ্ধতিতে জমার কারণে যাচাই করা সময়সাপেক্ষ এবং যাচাই করা সম্ভব হয় না।

মোহাম্মদ ফখরুল আলম চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর ডিজিটাল কাস্টমস বাস্তবায়নে অনেকগুলো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, কাস্টমস ল্যাব রিপোর্টে জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা। চট্টগ্রাম বন্দরের ইউ ব্যাগেজের আওতায় আসা পণ্যগুলো এখন অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের আওতায় চলে এসেছে। আগে সেই কাজ হতো সনাতন পদ্ধতিতে। এর ফলে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে বন্দর থেকে পণ্য বের করা আর সম্ভব হচ্ছে না।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও কার্গো শাখায় চালু হয়েছে অনলাইন পদ্ধতি। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়াটারওয়েজ কেলেঙ্কারির পর আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে সেই অনলাইন পদ্ধতি চালু করেছি। এখন গেটে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তা পণ্য বের হওয়ার সময় পেমেন্ট পরিশোধ করা হয়েছে কি না অনলাইনে নিশ্চিত করছে। ফলে জালিয়াতি ঠেকানো গেছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী বিদেশ যাওয়ার সময় হাতে হাতেই ব্যাগেজ রুলস সম্পর্কে অবহিত হচ্ছেন। এটা জেনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মহোদয় খুব প্রশংসা করে বলেছেন, ঢাকা কাস্টম হাউসে এটা আরো আগে চালু করা উচিত।

প্রতিদিন দেড় শ কোটি টাকার রাজস্ব জমা হলেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এখন প্রায়শই সার্ভার ডাউন হচ্ছে। এর ফলে দিনে ৫ হাজার বিল অব এন্ট্রি এবং বিল অব এক্সপোর্ট জমা করায় ব্যাঘাত ঘটছে। এতে বিক্ষুব্ধ হচ্ছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা, কাজও বন্ধ থাকছে। কিন্তু সুফল মিলছে না।

জানতে চাইলে কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব দেখে। এর পরও আমি যতটুকু জানি তাতে দুটি বিষয় আছে। সেগুলো হলো সার্ভারের মেশিন ও যন্ত্রপাতিগুলো পুরনো হয়ে গেছে; ব্যান্ডউইথ সমস্যা। এই দুটি সমস্যার সমাধান করা গেলে কাজের গতি নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।

ডিজিটাল কাস্টমস বাস্তবায়নে সবগুলো স্টেকহোল্ডারকে সমানভাবে তৈরি হতে হবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, এ জন্য সরকার ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডো’ চালু করতে যাচ্ছে। তখন কাস্টমস অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের সঙ্গে সেটি সংযোগ হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা