kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

দেশীয় দুগ্ধ সম্পদ আগের চেয়ে সমৃদ্ধ ও নিরাপদ

মো. আশরাফ আলী খান খসরু
প্রতিমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

তৌফিক মারুফ   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশীয় দুগ্ধ সম্পদ আগের

 চেয়ে সমৃদ্ধ ও নিরাপদ

দেশীয় দুগ্ধ খাত মাত্র কিছুদিন আগেই পড়েছিল বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মুখে। বিশেষ করে গবাদি পশু থেকে প্রাপ্ত বা উৎপাদিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার তথ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত। একপর্যায়ে আদালতের সিদ্ধান্ত-নির্দেশনা ও সরকারের অবস্থানের কারণে আবার ঘুরে দাঁড়ায় এ খাতটি। দুগ্ধ সম্পদ উৎপাদনকারী ও ভোক্তা—সবার মধ্যেই ফিরে আসে স্বস্তি। এর পরও বসে নেই সরকার। সামনে যাতে এমন পরিস্থিতি আর না হয়, সেদিকে নজর রেখেই কাজ করে যাচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতে উৎপাদন এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ ও মানসম্মত। মানের দিক থেকেও অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্যই দুধের মান সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এ জন্যই মাঝখানে দুধে ক্ষতিকর উপাদান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আমরা চেন্নাইয়ের বিশ্বমানের ল্যাবে নমুনা পাঠিয়ে ওই দুধ পরীক্ষা করিয়ে এনেছি। তাতে দেখা যায় যে যেসব উপাদান পাওয়া গেছে, তা মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং সহনশীল পর্যায়েই আছে। সুতরাং এসব দুধ নিরাপদ। এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুধের ওই পরিস্থিতি তৈরির পেছনে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীচক্রের ষড়যন্ত্র ছিল। যারা নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় এমন চক্রান্ত করে থাকে। আমরা এখন এসব বিষয়ে খুবই সতর্ক। সামনে যাতে এ পরিস্থিতি কেউ তৈরি করতে না পারে, সেদিকেও আমরা নজর রাখছি। এ ছাড়া খামার পর্যায়ে আমরা নিয়মিত মনিটর করি। আমি নিজেও মাঠঘাট ঘুরে পরিস্থিতি দেখে থাকি।’

প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘আমরা একই সঙ্গে দুধ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আগের চেয়ে আরো নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছি। গবাদি পশুর নতুন নতুন জাত নিয়ে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। এরই মধ্যে প্রাণিসম্পদ খাতের বহুমুখী উন্নয়নে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জনবল বাড়ানো হয়েছে ও হচ্ছে। খামারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কার্যক্রম চলছে। উন্নত জাতের গাভি প্রজননে বিদেশ থেকে সিমেন আমদানি করে এখানে তা নিয়ে গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ানোর কাজের প্রক্রিয়া চলছে। খাদ্যে যাতে কোনো অনিরাপদ বা ক্ষতির কিছু না থাকে, তা নিশ্চিত করতেও কঠোর মনিটরিং চালানো হচ্ছে। ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহারেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়েই আমাদের দেশে উৎপাদিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যকে নিরাপদ করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা