kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

একটি গরু থেকে তপন ঘোষের ২৫ গরুর খামার

কম্পানিগুলো কিনে নেওয়ায় দুধ বিক্রিতে সমস্যা হয় না

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কম্পানিগুলো কিনে নেওয়ায় দুধ বিক্রিতে সমস্যা হয় না

বিয়ের পরের বছরের ঘটনা। তপন ঘোষ সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন। দুধেল গরু। স্বপ্ন দেখতেন একটি বড় খামার গড়বেন। আজ তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি এখন বড় খামারি। তাঁর খামারে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে ২৫টি গরু। সবগুলোই বিদেশি। বারো মাসই একাধিক গরু দুধ দেয়। এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ১২৫ লিটার দুধ হয়। খামারের নামে তাঁকে এক নামে সবাই চেনে। তিনি মিল্ক ভিটার খুলনা বিভাগের পরিচালকও।

তপন ঘোষের বাড়ি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার দেড়ুলি গ্রামে। কথা হয় তপন ঘোষের স্ত্রী নন্দিতা ঘোষের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিয়ে হয়েছে ১৯ বছর। আর খামারের বয়স ১৮ বছর। নিজেরা স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও গরুগুলো দেখাশোনা করার জন্য দুজন লোক আছে। খামার পরিষ্কার করা, গরুগুলোর খেয়াল রাখা, খাবার দেওয়া, রোগ-ব্যাধির জন্য চিকিৎসক ডাকা, প্রতিদিন তিনবার দুধ সংগ্রহ করা এবং সেই দুধ মিল্ক ভিটার অফিসে পৌঁছে দেওয়া। এককথায় অনেক কাজ।

তিনি জানান, একটি গরু থেকে ধীরে ধীরে অনেকগুলো গরু হয়েছে। মাঝেমধ্যে বিক্রিও করা হয়। আর প্রতিদিন দুধ বিক্রি হয়। তপন ঘোষের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, খামার বড় হয়েছে। একসময়ে ৪০টি গরু ছিল। কিছু বিক্রি করে দেওয়ায় এখন সংখ্যায় কম। আবারও গরুর সংখ্যা বাড়তে পারে। দুধ তো নিয়মিত দিচ্ছে। খরচও হয় বেশ। তবে লাভ না হলে তো গরুর সংখ্যা বাড়ত না।’

দুধের দাম কেমন, জানতে চাইলে তিনি জানান, দুধের দাম নির্ভর করে দুধে ফ্যাট বা ননির উপস্থিতির ওপর। যে দুধে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, সেই দুধের দাম বেশি। তবে সাধারণভাবে ৩৭ টাকা লিটারে তিনি দুধ বিক্রি করে থাকেন। তাঁর বাড়ির আশপাশের প্রায় প্রতি বাড়িতেই একটি, দুটি; কোথাও তিন-চারটি গরু আছে। তাঁর মতে, আগে দুধ বিক্রিতে সমস্যা ছিল। চাইলেও দুধ বিক্রি করা যেত না। এখন সরকারি দুধ বিক্রেতাদের সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা ছাড়াও আড়ং, প্রাণ, আকিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুধ কিনছে। তারা দুধের মান পরীক্ষা করে দাম দিচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে গাভী পালন ও দুধ উৎপাদনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন গাভী পালনে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উৎসাহ দেওয়া হয়। আছে সুদমুক্ত ও নামমাত্র সুদে ঋণ। সহজে পরিশোধযোগ্য। ফলে মানুষ গরু পালনে আগের চেয়ে উৎসাহী হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা