kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

দুগ্ধপণ্যে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি আমরা

মো. হালিমুজ্জামান
ডিএমডি ও সিইও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড উপদেষ্টা, শিলাইদহ ডেইরি (হেলথকেয়ার গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান)

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুগ্ধপণ্যে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি আমরা

সুষম খাবারের সবচেয়ে বড় উৎস দুধ ও দুধের তৈরি খাবার। শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে ও মেধা বিকাশে দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারের বিকল্প নেই। উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে অসাধু ব্যক্তিবর্গের দ্বারা দুধে ভেজাল মেশানো নতুন কিছু নয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ভেজাল শনাক্ত করা সম্ভব। আমরা তা করি। সরকারের উচিত দুধ উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে এসব ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। 

সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডিএমডি ও সিইও এবং শিলাইদহ ডেইরির উপদেষ্টা মো. হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করি তখন বিভিন্ন পর্যায়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্ল্যাটফর্ম টেস্ট ও কেমিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে দুধের মান পরীক্ষা করে নিই, যা পরে প্রয়োজনীয় কুল চেইন মেনটেইন করে ফ্যাক্টরিতে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য আনা হয়।’

বাংলাদেশে ডেইরি খাতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের ডেইরি খাত এখনো আধুনিক নয়। আমরা যারা তরল দুধ প্রক্রিয়াজাত করি, তারা হয়তো আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকি কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিরা এখনো সেই গতানুগতিক ধারায়ই খামার পরিচালনা করছে। আসলে আমি বলতে চাচ্ছি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো আমাদের দেশে খামারি পর্যায়ে প্রসার লাভ করেনি।

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এখানে প্রচুর পরিমাণ দুধ ও মাংসের চাহিদা রয়েছে। তা ছাড়া চামড়া প্রসেসিং করে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারি। আমাদের দেশের জৈব সারের অভাবও পূরণ হতে পারে এসব খামার থেকে।

আর এসব ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরি। এতে করে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিনিয়োগ আরো উৎসাহিত হবে।

দুধে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুধে অনুজৈবিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছি। বিশেষ করে ফ্যাক্টরির যন্ত্রপাতি আধুনিককরণ, সব ফ্যাসিলিটিসংবলিত আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব স্থাপন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যথাযথ কুল চেইন মেনটেইন ও খামারি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করে থাকি। তা ছাড়া আমরা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও পরামর্শ যথাযথভাবে পালন করে থাকি। প্রতি মাসে আমরা দেশের স্বনামধন্য তিনটি ল্যাব থেকে দুধের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল টেস্ট করে তা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরে বরাবর জমা দিই।

মো. হালিমুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশে দুগ্ধজাতীয় পণ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য খুবই কম। দুধজাত পণ্য বলতে আমরা সাধারণত পাস্তুরিত তরল দুধ, ঘি, দই ইত্যাদিকেই বুঝি। কিন্তু আমরা এ জায়গাটিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি। যেমন—বাংলাদেশে আমরাই প্রথম ম্যাংগো ও স্ট্রবেরির দুটি ভিন্ন ফ্লেভারের ইয়োগার্ট ড্রিংক বাজারে এনেছি, যা প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ।

আপনারা জানেন, পরিপাকতন্ত্রে যে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থাকে, তা মানবদেহের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস যথাযথ নয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, অ্যাসিডিটি, ডায়রিয়া ইত্যাদি অসুখবিসুখ লেগেই থাকে। এসব সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধানে প্রোবায়োটিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৩০ সালে জাপানের বিজ্ঞানী উৎ. গরহড়ত্ঁ ঝযরত্ড়ঃধ প্রথম মানবদেহের জন্য উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব আবিস্কার করেন। আপনারা অবশ্যই ণধশঁষঃ এর নাম শুনেছেন যা বিশ্বব্যপী পরিচিত। আমরা প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ আলট্রা ইয়োগার্ট ড্রিংক বাংলাদেশের মার্কেটে লঞ্চ করেছি, যা নিয়মিত পানে এসব সমস্যা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, প্রোবায়োটিক বাচ্চাদের শারীরিক গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করছি এ ধরনের অ্যাডেড ভ্যালুর বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্যসামগ্রী বাংলাদেশের জনগণকে উপহার দিতে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা