kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুধ বিক্রি হলেও দাম বাড়ছে না

রোগ-বালাইয়ে উদ্বিগ্ন খামারিরা

মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোগ-বালাইয়ে উদ্বিগ্ন খামারিরা

খামারে উৎপাদিত দুধ নিয়ে দুশ্চিন্তা কেটেছে কৃষকের। রাষ্ট্রায়ত্ত সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটাসহ অন্যান্য বেসরকারি দুগ্ধ কম্পানি এখন খামারে উৎপাদিত সম্পূর্ণ দুধ ক্রয় করছে। দুধের গুণগত মান নিয়েও সন্তুষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৃষকরা কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে। এর আগে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও গুণগত মানের অভিযোগ তুলে মাঝেমধ্যেই দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখত কম্পানিগুলো। তবে সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গোখাদ্যর মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও দুধের মূল্য না বাড়ায় দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে উপজেলার খামারিদের। এ ছাড়া নতুন নতুন রোগ এবং তা প্রতিরোধের জন্য ওষুধের দুষ্প্রাপ্যতা তো রয়েছেই। এ অবস্থায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে খামারিদের। এরই মধ্যে লোকসানে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কৃষকের প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। কিন্তু উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে। লোকসানে দুধ বিক্রি করলেও গাভির নতুন বাছুর কৃষকের আর্থিক ঘাটতি কিছুটা পূরণ করছে। তবে খামারের ব্যয়ভার বহনের জন্য এটি যথেষ্ট নয়।

বর্তমানে উপজেলায় পাঁচটি দুগ্ধ কম্পানির ১৫টি দুধ সংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রাণ কম্পানির ৯টি, ব্র্যাকের তিনটি, আকিজের দুটি, মিল্ক ভিটার একটি ও বারো আউলিয়ার একটি দুগ্ধ ক্রয় ও শীতলীকরণ কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে খামারগুলোতে উৎপাদন বেড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯৫ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। কম্পানিগুলো এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৭৫ হাজার লিটার দুধ ক্রয় করে। অবশিষ্ট দুধ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে খামারিরা। উপজেলার দুগ্ধ উৎপাদনে শীর্ষ প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে বিভিন্ন কম্পানির দুগ্ধ ক্রয় ও শীতলীকরণ কেন্দ্র। এতে কম্পানির দুধ দোহন থেকে বেঁধে দেওয়া তিন ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই শীতলীকরণ কেন্দ্রে দুধ সরবরাহ করতে পারছে কৃষক।

এদিকে দুধের দাম গত তিন বছরের মধ্যে না বাড়লেও গোখাদ্যের মূল্য দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

স্থানীয় খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাভি পালনে কাঁচা ঘাস গোখাদ্যের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এক বিঘা জমির কাঁচা ঘাস বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা দরে। অথচ ছয় মাস আগেও এর দাম ছিল ১২ হাজার টাকা। অনুরূপভাবে নারিকেলের খৈলে ৩০০ টাকা, তিলের খৈলে ৩০০ টাকা ও ভুসি প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা করে দাম বেড়েছে।

এ অবস্থায় দুধের দাম নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয় কৃষক। স্থানীয় খামারি ও প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এ উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ৭৪৫টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার ছোট পরিসরে গাভি পালন করছে। ছোট-বড় গরুর খামার মিলিয়ে উপজেলায় গবাদি পশুর সংখ্যা ৪৮ হাজার ২০৫টি। সম্প্রতি এসব খামারের গরু কয়েকটি অজানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ও এফএমডি নামে দুটি ভাইরাসজনিত রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই রোগ দুটি প্রতিরোধ কিংবা প্রতিষেধক হিসেবে সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ এখনো বাজারে আসেনি। এ রোগে গাভি মারা না গেলেও দুগ্ধ উৎপাদন অনেক কমে যায়। ফলে গাভি রোগে আক্রান্ত হলেই খামারিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

এরই মধ্যে লোকসানের মুখে পড়ে উপজেলার টলটলিয়াপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমান, আফাজ আলী, ভেড়ামারা গ্রামের মজিবর রহমান, পাথরঘাটা গ্রামের শরিফুল ইসলামসহ শতাধিক কৃষকের খামার প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। গাভি, বাছুরসহ ১৯টি গরু থাকলেও আনিসের খামার এখন শূন্য। তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে একটানা লোকসানের মুখে পড়ে খামারের সব গরু ও বাছুর বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছি।’

এ বিষয়ে আকিজ দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের ভাঙ্গুড়া অফিসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সোহেল রানা বলেন, খামারের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কেন কমে যাচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা মুশকিল। তবে আর্থিক লোকসানের কারণে কৃষকরা গাভি পালনে আগ্রহ হারাচ্ছে সেটা বোঝা যায়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এ উপজেলার কৃষকরা মাঠে ফসল আবাদের চেয়ে খামারের ওপর বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু খামারে পশুর রোগ-বালাই নিত্যদিনের সঙ্গী। এই সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর পরও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত রোগে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাইরাস আক্রান্ত এই রোগের প্রতিকার ও প্রতিষেধক ওষুধ খুবই দুষ্পাপ্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা