kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গোখাদ্যের দাম বাড়লেও দুধের মূল্য না বাড়ায় বিপাকে খামারিরা

আতাউর রহমান পিন্টু, শাহজাদপুর   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোখাদ্যের দাম বাড়লেও দুধের মূল্য না বাড়ায় বিপাকে খামারিরা

দুধের পর্যাপ্ত দাম না পাওয়া, গোখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, পশু চিকিৎসকের সংকট ও ওষুধের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় চিন্তিত শাহজাদপুরের দুগ্ধ খামারিরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুরে নিবন্ধনকৃত খামার রয়েছে চার হাজার ৩৫৫টি। গাভি রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার। মিল্ক ভিটার পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির জানান, বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটার আওতাধীন সমিতি রয়েছে ৭০০। চালু সমিতি রয়েছে ৫০০। বৃহত্তর পাবনা জেলার সাতটি উপজেলাকে নিয়ে মিল্কশেড এড়িয়া গড়ে তোলা হয়। বর্তমান ডিসেম্বর মাসে বাঘাবাড়ি মিল্কশেড এড়িয়া থেকে বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটার দুগ্ধ কারখানায় প্রায় এক লাখ লিটার দুধ খামারিরা সরবরাহ করছে।

শাহজাদপুর উপজেলায় মিল্ক ভিটার পাশাপাশি প্রাণ ডেইরি, আড়ং, আকিজ, ইগলুসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একাধিক পয়েন্টে চিলিং পয়েন্ট গড়ে তুলেছে। এ চিলিং পয়েন্ট থেকে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করছে তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, বাঘাবাড়িতে মিল্ক ভিটা, প্রাণ ডেইরি, আড়ং, আকিজ, ইগলুসহ বিভিন্ন কম্পানি খামারিদের কাছ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন এক লাখ ৭০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করছে। শুধু মিল্ক ভিটা প্রতিদিন প্রায় ৯৫ হাজার লিটার দুধ তাদের সমিতিভুক্ত খামারিদের কাছ থেকে নিচ্ছে। বাকি দুধ অন্য কম্পানিরা নিচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি নিজেও একজন দুগ্ধ কৃষক। তাঁর পরিবারের খামারে দুই শতাধিক গাভি রয়েছে। তিনি পোতাজিয়া দুগ্ধ সমিতির সদস্য। এ সমিতিতে তিনি প্রতিদিন দুই বেলা ২৫০ লিটার দুধ দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া রেশমবাড়ি দুগ্ধ সমিতিতে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ লিটার দুধ তাঁর রেশমবাড়ি খামার থেকে দেওয়া হয়। দুধ বিক্রি করে তাঁদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। রোগবালাই নিয়ে সব সময় ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি করতে হয়। পোতাজিয়া দুগ্ধ সমিতির সভাপতি ওয়াজ আলী দুধের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, গরু লালন-পালন এ অঞ্চলের মানুষের পৈতৃক পেশা। পেশাটি কোনোভাবে টিকিয়ে রেখেছে স্থানীয় খামারিরা। দুধের দাম কমপক্ষে ৪০ টাকা করলে তাঁরা কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন।

খামারিদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ৩৭ কেজির এক বস্তা গমের ভুসির দাম এক হাজার ১৫০ টাকা। ২৮ কেজির এক বস্তা খেসারি ভুসির দাম এক হাজার ২৫০ টাকা। ৪০ কেজির এক বস্তা মসুর ভুসির দাম ৯৫০ টাকা। ৫০ কেজির এক বস্তা মাষকলাই ভুসির দাম এক হাজার ২০০ টাকা। ৭৫ কেজির এক বস্তা খৈলের দাম এক হাজার ২০০ টাকা। তারা জানায়, উচ্চ মূল্যে গোখাদ্য কিনে দুধ বিক্রি করে তাদের কিছুই থাকে না। বছর শেষে বাছুর ও পালের (খামারের) ষাঁড় বিক্রি করে খামার কোনোভাবে টিকিয়ে রেখেছে। তবে কোনো কারণে বাছুরের মৃত্যু বা গাভির ওলান ফোলা রোগ দেখা দিলে খামারিদের মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া কিছুই থাকে না।

প্রাণে কর্মরত ডা. রাকিবুর রহমান জানান, দুধ সংগ্রহে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি খামারিদের বিশেষ ঋণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা আড়ংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, শাহজাদপুরে দুগ্ধ চাষিদের বিশেষ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গরুর চিকিৎসার জন্য বিনা মূল্যে ওষুধ ও ঋণের ব্যবস্থা করা হয়।

বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটার দুগ্ধ কারখানার ব্যবস্থাপক (সমিতি) অমিয় কুমার মণ্ডল জানান, বর্তমানে চারজন চিকিৎসক মিল্ক ভিটার সমিতিভুক্ত খামারিদের ১০০ টাকা ফি নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ ছাড়া বিনা মূল্যে ওষুধ ও সাশ্রয়ী মূল্যে উত্কৃষ্ট মানের দানাদার খাবার দিচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা