kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকদেরও দিতে হয় আবগারি শুল্ক

জিয়াদুল ইসলাম   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকদেরও দিতে হয় আবগারি শুল্ক

সরকারের করজাল থেকে মুক্ত নন ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকরাও। ব্যাংকের আমানতকারীদের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকদেরও বছরে একবার আবগারি শুল্ক দিতে হচ্ছে। এটা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তুষ্টি রয়েছে।

ক্রেডিট কার্ড হলো কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণসুবিধা, যার অধীনে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (ক্রেডিট লিমিট) খরচ করতে পারেন। ব্যাংকের দেওয়া ওই ক্রেডিট লিমিট আবার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাকে ফেরত দিতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি হ্রাস, ঝামেলামুক্ত কেনাকাটা করা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়াসহ নানা সুবিধার কারণে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তবে আবগারি শুল্ক কাটা নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টি আছে।

এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক তৃষ্ণা হোম রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন সুবিধার কারণে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি। তবে এর অসুবিধাও আছে। যেমন সময়মতো ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি সুদ গুনতে হয়। এ ছাড়া এক লাখ টাকার বেশি ঋণ সীমার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে আছে ব্যাংকের সার্ভিস চার্জও। এতে গ্রাহক হিসেবে আমি অবশ্যই সন্তুষ্ট নই।’

জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্রেডিট কার্ড একটি ঋণপণ্য। এখানে গ্রাহকদের একটি ক্রেডিট সীমা দেওয়া হয়। বছর শেষে ওই সীমার ওপর নির্ধারিত আবগারি শুল্ক কাটা হয়। এই ক্ষেত্রে গ্রাহকদের থেকে কোনো অসন্তুষ্টি পান কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো সেবায় গ্রাহক থেকে চার্জ বা শুল্ক কর্তন করা হলে গ্রাহক অসন্তুষ্টি থাকতেই পারে। তবে আমার কাছে এ রকম কোনো অভিযোগ আসেনি।’

জানা যায়, কোনো গ্রাহক বাণিজ্যিক ব্যাংকে মেয়াদি আমানত হিসাবে টাকা জমা রাখলে বছর শেষে গ্রাহককে যে মুনাফা দেওয়া হবে, তার ওপর উেস কর কেটে নেওয়া হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকলে তার আমানতের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ এবং টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে উেস কর কেটে রাখা হয়। শুধু উেস করই নয়, সঞ্চয়ী গ্রাহকের হিসাব বছরে একবার কাটা হয় আবগারি শুল্কও। যেমন : এক লাখ এক টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে আমানত হলে অ্যাকাউন্টধারীকে ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা, ১০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার ক্ষেত্রে দুই হাজার ৫০০ টাকা, এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষেত্রে ১২ হাজার টাকা এবং পাঁচ কোটি টাকার ওপর যেকোনো পরিমাণ অর্থে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। তবে শূন্য থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত স্থিতির গ্রাহকদের এই আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। ঋণপণ্য হলেও ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকদেরও নির্দিষ্ট সীমার ওপর নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ তিন হাজার ৪২৭ জন। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের ব্যাংকের গ্রাহক ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৯ জন। এ ছাড়া বিদেশি খাতের ব্যাংকে এক লাখ ৩০ হাজার ৪৬৮ জন ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকে চার হাজার ৫৬১ জন গ্রাহক রয়েছেন। তবে বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ডের কোনো গ্রাহক নেই। চলতি বছরের জুন শেষে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ব্যাংকের ঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬ কোটি দুই লাখ টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল চার হাজার ৫৩৬ কোটি এক লাখ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা