kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নতুন কষ্টের জায়গা

মো. হেলাল উদ্দিন,
সভাপতি, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি

এম সায়েম টিপু   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নতুন কষ্টের জায়গা

ভ্যাট আইন ২০১২ ব্যবসা সহায়ক না হওয়ায় দীর্ঘদিন এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ আট বছর পর চলতি অর্থবছরে জাতীয় বাজেট থেকে এই আইনটি চালু করার নির্দেশনা আসে। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা না থাকায় এই আইন কার্যকর করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এনবিআরকে। এ ছাড়া সবাইকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসার সরকারের কৌশলে নতুন করে কষ্টের জায়গা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এ মন্তব্য করেন।

হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারের আশ্বাস ছিল ব্যবসায়ীদের যেখানে সমস্যা হবে সেখানে এই আইন বাস্তবায়ন হবে না। কারণ ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের কষ্ট দেওয়ার জন্য তারা এই আইন করেনি। ২০১২ ভ্যাট আইনে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ভ্যাটের আওতামুক্ত ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। একসময় আমাদের দাবির প্রেক্ষাপটে ৩০ থেকে ৫০ লাখ করা হয়। এনবিআর নতুন কৌশল নেয় ভ্যাট আদায়ে। জাতীয় বাজেটে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আওতার বাইরে রাখা হয়। এনবিআর সব ব্যবসায়ীকে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসতে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এটা বর্তমানে ব্যবসায়ীদের নতুন করে কষ্টের জায়গা।

তিনি বলেন, যারা ভ্যাটের আওতার বাইরে; তাদের কেন ভ্যাট নিবন্ধন করতে হবে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন এটা একটি সূক্ষ কৌশল নিয়েছে। এই কৌশল ব্যবসায়ী আর এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত কথা-কাটাকাটিসহ পারস্পরিক আস্থা হারাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এই প্রজ্ঞাপন জারি করায় সংক্ষুব্ধ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকারের নানা ধরনের চাপে ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠছে উল্লেখ করে হেলাল উদ্দিন বলেন, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে একটি ট্রেড লাইসেন্স নিতেই খরচ করতে হয় ১০ হাজার টাকার বেশি। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত সরকার থেকে ইএফডি মেশিন দিতে পারেনি। ভিআইএন নিয়ে আতঙ্ক।

ব্যবসায়ীদের ওপর এসব চাপের কারণে সরকারের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে রাজস্ব কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্যাকেজ ভ্যাট থেকে যেখানে আয় হয় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। সেখানে গত অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকায়। তিনি বলেন, বিশাল জনগোষ্ঠীকে আঘাত করলে এমনটাই হয়।

হেলাল উদ্দিন বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ। অর্থাৎ এক লাখ টাকার পণ্য কিনলে ভোক্তাদের এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে এটা কোনো ভোক্তা মানবে না। ভোক্তা তার আগ্রহ হারাবে একই সঙ্গে বেচাকেনা কমবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা