kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

নতুন আইনে হয়রানি বেড়েছে

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ,
সাবেক সভাপতি, এফবিসিসিআই

এম সায়েম টিপু   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন আইনে হয়রানি বেড়েছে

নতুন ভ্যাট আইন প্রয়োগে হয়রানি হচ্ছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, এই আইন কার্যকর করার আগে এর ভালো-মন্দ নিয়ে জরিপ করা হবে  এমন কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এমনকি যেখানে সমস্যা; সেখানেই নতুন ভ্যাট আইন প্রয়োগ বন্ধ করা হবে এমন আশ্বাসও ছিল। পণ্য দাম বেড়ে গেলে এর দায় নেবে সরকার। বরং বাস্তবতা হলো, এই আইন প্রয়োগে অদক্ষতার কারণে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বাড়ছে। 

চলতি অর্থবছরের নতুন ভ্যাট বাস্তবায়ন নিয়ে জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি একটা ভালো অবস্থানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান টেকসই করতে অর্থনীতি প্রায় সব সূচকেই ইতিবাচক দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল । কিন্তু এখন  আর সে অবস্থানেই নেই। রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস রপ্তানিতে ধস নেমেছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহও কমেছে। ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা। এসব নেতিবাচক সংকেত আমাদের অর্থনীতির জন্য ভালো নয়।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্যে সরকারের নেওয়া অনেক ভালো ভালো উদ্যোগ কাজ করছে না। এ উদ্যেগ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সরকার ব্যবসায়ীবান্ধব বলা হলেও ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে নেই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। ভ্যাটের নামে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। ভ্যাট দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও জোর করে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করানো হচ্ছে। কোনো রকম আলোচানা না করেই এনবিআর  প্রজ্ঞাপন জারি করে ভ্যাটের আওতার নামে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব  নেতিবাচক উদ্যোগে ব্যবসার সব পর্যায়ে প্রভাব পড়ছে। এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের অর্থনীতিকে টেকসই করতে হবে উল্লেখ করে শফিউল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাচ্ছি। তৈরি পোশাক খাতের দ্বিতীয় অবস্থান থেকে ছিটকে পড়েছি। আমাদের পেছনে ফেলে ভিয়েতনাম এগিয়ে গেছে। কেন পেছনে পড়েছি? এই বিষয়গুলো এখন ভেবে দেখার সময় হয়েছে। প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া না গেলে সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া স্বপ্ন শুধু পরিকল্পনাতেই থেকে যাবে।

ভোগ্যপণ্যের বাজারের বর্তমান অস্থিরতা থামাতে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই উল্লেখ করে এফবিসিসিআইয়ের  সাবেক সভাপতি বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে হলে এর সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। এর ফলে যেন কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, ভোগ্যপণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। রাজস্ব বাড়াতে দরকার এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো। করের পরিধি বাড়াতে হবে। আইন বাস্তবায়নে সর্তক পদক্ষেপ নিতে হবে। যেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ না হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা