kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

ভ্যাট আইন আগে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তারপর কার্যকর

মো. জামাল হোসেন
সদস্য, ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি, এনবিআর

ফারুক মেহেদী   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ভ্যাট আইন আগে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তারপর কার্যকর

ছবি : মঞ্জুরুল করিম

নতুন ভ্যাট আইন, ভ্যাট দিবস ও রাজস্ব আয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়ন শাখার সদস্য মো. জামাল হোসেন।

ভ্যাট দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভ্যাট দিবসের মধ্য দিয়ে আমরা এটিকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে চাই। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে চাই, একইভাবে কর্মকর্তাদের মধ্যে সেবার মনোভাব জাগ্রত করতে চাই। এটাই আসলে ভ্যাট দিবসের মূল উদ্দেশ্য। অনেক জাঁকজমকভাবেই বিগত কয়েক বছর ধরে এই ভ্যাট দিবস পালন করে আসছি। আর এ বছরে ভ্যাট দিবসের বিশেষত্ব হলো—এবার আমরা নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করেছি। এ জন্য এ বছরে ভ্যাট দিবস পালন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।’

রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি ভ্যাট দিবস দেশের বিভিন্ন স্থানেও পালন করার কথা জানিয়ে মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশের বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেটগুলো পৃথকভাবে দিবসটি পালন করবে। আরেকটি বিশেষত্ব হলো—যারা সৎ করদাতা এবং বেশি কর বা ভ্যাট দেন তাঁদের আমরা পুরস্কার দেব। মোট ১৩৫ করদাতাকে আমরা পুরস্কৃত করব। এর মধ্যে ঢাকায় ৯ জন আর বাকিরা দেশের অন্য জায়গায়।’

ভ্যাট আদায়ের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে জামাল হোসেন বলেন, ‘ভ্যাট দিচ্ছে জনগণ, দেশের হচ্ছে উন্নয়ন—এই স্লোগানেই আমরা ভ্যাট দিবস পালন করব।’ তিনি বলেন, ‘নতুন যেকোনো জিনিসের শুরুটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। আমাদের জন্যও এটা চ্যালেঞ্জ। আপনি জানেন যে, এই আইনটি প্রবর্তন হয় ২০১২ সালে আর কার্যকর শুরু হয় ২০১৯ সালে। মানে এই কয়েক বছর আমরা আইনটির নানা বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী মহল ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি, মতবিনিময় করেছি। তাদের মতামত নিয়েছি, বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমরা এটি কারো ওপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। আমরা চেয়েছি, আইনটি তারা জানুক, ভালো করে বুঝুক। তারা বুঝতে পারলে আমাদের জন্য কাজ করা সহজ হবে। অনেক সময় জনগণকে সম্পৃক্ত না করেই একটি আইন চালু করে দেওয়া হয়। এতে এটি বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে। এ জন্য গেল ছয় বছর আমরা আইনটি মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। প্রচার করেছি। এরপরই তা কার্যকর শুরু করি। এর অবশ্যই চ্যালেঞ্জ আছে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণকে যেমন বুঝতে হবে, কর্মকর্তাদেরও জানতে হবে। আমরা বিগত ২৬ বছর একটি আইনের মধ্যে ছিলাম। এখন একটি নতুন আইন শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এর বিধি-বিধান আত্মস্থ করা সহজ নয়। এটিই চ্যালেঞ্জ। তা ছাড়া আপনারা জানেন যে এটি প্রযুক্তিনির্ভর বা অটোমেটেড। এতে অভ্যস্ত হতে সময় দিতে হবে। একদিকে জনগণকে যেমন বুঝতে হবে, কর্মকর্তাদের এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সময় লাগবে।’

নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীসহ সব মহলের সমর্থন আছে জানিয়ে জামাল হোসেন বলেন, ‘অর্থবছরের প্রথম তিন মাস আমরা সময় দিয়েছি, যাতে সবাই আইনটা বুঝতে পারে। রাজস্ব আয়ের ব্যাপারে এ সময়ে আমরা অত বেশি চাপ দিইনি। তাই আইনটি মানুষ গ্রহণ করেছে, একটা স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। আইন নিয়ে কোথাও কোনো আপত্তি ওঠেনি। ১৯৯০ সালে যখন প্রথম ভ্যাট চালু হয়, তখন কিন্তু বেশ আপত্তি উঠেছিল। এ আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এমনটি হয়নি। কারণ আমরা দীর্ঘ সময় দিয়েছি। আমাদের উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের সর্বক্ষেত্রেই এফবিসিসিআইয়ের সমর্থন ছিল। তাদের পক্ষ থেকে কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। তা ছাড়া এ আইনকে বলা হয় ব্যবসাবান্ধব আইন। সাধারণত আইন হয় রাষ্ট্রের পক্ষে, সরকারের পক্ষে বা রাজস্বের পক্ষে। আর এটি হয়েছে ব্যবসার পক্ষে। এটি যখন পুরোপুরি কমপ্লায়েন্ট হবে তখন রাজস্ব বাড়তে থাকবে। এর জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। একসময় গিয়ে এর সুফল পাওয়া যাবে।’

ভ্যাট বাস্তবায়ন শাখার সদস্য জামাল হোসেন মনে করেন, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। উন্নয়নের জন্য রাজস্বের চাহিদা আছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই এ রাজস্ব আসবে। তাঁর মতে, নতুন আইনের ফলে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে এটা সাময়িক। তিনি বলেন, ‘অক্টোবর মাস থেকে ভ্যাটের আদায় কিছুটা ভালোর দিকে। একটু একটু করে বাড়ছে। সবাই আইনটি বুঝতে পেরেছে। অফিসাররা এখন আরো বেশি রাজস্ব আয়ে মনোযোগী হবেন। আইনের ভেতরে রাজস্ব আয়ের যেসব হাতিয়ার আছে, আমরা তা আস্তে আস্তে প্রয়োগ করা শুরু করব। ফলে আগামী দিনে ভ্যাট আদায় আরো বাড়বে। আশা করি, এভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে যাব। সব কিছু অনুকূল থাকলে হয়তো বা আমরা লক্ষ্যমাত্রা বড় হলেও তা পূরণ করতে সক্ষম হব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা