kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ওমানের জাতীয় পোশাক তৈরি করেন বাংলাদেশের আলাক

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ওমানের জাতীয় পোশাক তৈরি করেন বাংলাদেশের আলাক

ওমানের নাগরিক মোহাম্মদ বালুসি ও তাঁর বাগদত্তাকে পোশাকের কাপড় দেখাচ্ছেন আবরাজ আলাক

ওমানের মুতরাহ শক মার্কেটের পাশেই একটি সরু গলিতে ঢুকে দেখা যায় বাংলাদেশি ও ভারতীয় টেইলার্স দোকানগুলোতে অর্ডার নেওয়ার ব্যস্ততা। এ দৃশ্য উপসাগরীয় প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। প্রবাসীদের হাতেই তৈরি হয় এসব দেশের নাগরিকদের পছন্দের পোশাক।

 

‘দিশদাশা’ নামে গলা থেকে পা পর্যন্ত বিশেষ গাউনটি ওমানের জাতীয় পোশাক। দেশটির আলাদা পরিচয় তুলে ধরে দিশদাশা। সে কারণেই এ পোশাকের ডিজাইন সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী করতে হয়, যাতে হাজার বছর ধরে দেশটির সংস্কৃতির সুরক্ষা হয়। আলাদা কদর থাকায় পোশাকটি টেইলার্সে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে থাকে নাগরিকরা। তবে সবার পক্ষে এ পোশাক বানানো সম্ভব হয় না, বাংলাদেশ ও ভারতের নির্দিষ্ট টেইলাররা এটি করে থাকেন। দিশদাশা ওমানের নাগরিকদের উপসাগরীয় অন্য দেশের নাগরিকদের চেয়ে আলাদা করে।

প্রবাসী বাংলাদেশি আবরাজ আলাক ৪০ বছর ধরে ওমানে টেইলারিংয়ের ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশে আমার টেইলারিং ব্যবসার ভিত গড়ে দিয়েছে দিশদাশা। আমি এ দেশটিতে ১৯৭৮ সালে আসি। প্রথমে একজন ওমানি টেইলরের সঙ্গে কাজ করি। যখন এসেছিলাম তখন দিশদাশা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তিনি আস্তে আস্তে আমাকে সব কিছু শিখিয়েছেন। পরে তাঁর স্পন্সর নিয়েই নিজে আলাদা ব্যবসা খুলি। সেই সম্পর্কের সূত্রে এখনো কাজ করে যাচ্ছি।’

মোহাম্মদ বালুসির পোশাকের মাপ নিচ্ছেন আলাক

তিনি জানান, দিশদাশা সব সময় সাদা হয়ে থাকে, তবে এর মধ্যেও রঙের বৈচিত্র্য আছে। এ জামার গলা, কাঁধ ও হাতায় এমব্রয়ডারির কাজ থাকে। এ ছাড়া মাপজোখেও আরো অনেক সূক্ষ্ম কাজ থাকে। কারখানায় আলাকের তিনজন সহকরী এসব পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটান।

গ্রীষ্মের এক বিকেলে তাঁর দোকানে আসেন ওমানি নাগরিক মোহাম্মদ বালুসি ও তাঁর বাগদত্তা হানান মাসকতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিয়ে হতে যাচ্ছে কয়েক দিন পরই। এ জন্য পাঁচটি দিশদাশার অর্ডার দিয়েছি। এগুলোর কালার ও কাজে বৈচিত্র্য থাকতে হবে। আমরা আমাদের জাতীয় পোশাক পরে সব সময় গর্ব অনুভব করি। আর বিশেষ অনুষ্ঠানে তো এর অপরিহার্যতা থাকছেই।’

আরবের আরেক দেশ কাতারি টেইলারিংয়ের কাজ করেন আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘কাতারিরা পোশাক পছন্দের ক্ষেত্রে নিজেদের ঐতিহ্যকে খুব গুরুত্ব দেয়। এ কারণে ডিজাইন দেখিয়ে অর্ডার দিয়ে যায়, আমরা তাদের পছন্দমতো পোশাক তৈরি করে দিই। এ ছাড়া অনারবরাও নানা ধরনের পোশাকের অর্ডার দেয়। তারা জুব্বা, পায়জামা ও প্যান্ট-শার্টের অর্ডার দেয়।’ তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় আমাদের অর্ডার ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়, উত্সব শেষ হলে কিছুদিন বিরতি দিয়ে কাস্টমাররা আবার আসতে শুরু করে।’ নিউ ইয়র্ক টাইমস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা