kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সোনার মান ঠিক রাখতে কোনো ছাড় দিইনি

কাজী সিরাজুল ইসলাম এমডি, আমিন জুয়েলার্স সাবেক সভাপতি, বাজুস

এম সায়েম টিপু   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সোনার মান ঠিক রাখতে কোনো ছাড় দিইনি

ছবি : মঞ্জুরুল করিম

দেশের স্বর্ণশিল্পীদের নিখুঁত কাজের দক্ষতার ফলে একসময় সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মসলিন কাপড়ের মতো অলংকারের বেশ কদর ছিল। রাজধানীর তাঁতীবাজারে গেলে এখনো দেখা যায়, বাহারি এসব স্বর্ণাংলকারের বিশাল কর্মযজ্ঞ। এসব কর্মযজ্ঞ যে কাউকে রোমাঞ্চিত করে। তবে তাঁতীবাজার পুরনো গৌরব ধরে রাখলেও এখন এর পরিধি বেশ বেড়েছে। রাজধানীর বায়তুল মোকারমসহ অভিজাত এলাকায় সোনার অলংকার বিক্রির জন্য তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল মার্কেট। এসব মাকের্টেও রয়েছে চোখ ধাঁধানো জুয়েলারির দোকান।

সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে কালের কণ্ঠকে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক ও অন্যতম জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান আমিন জুয়েলার্স লিমিটেডের এমডি কাজী সিরাজুল ইসলাম। আবহমান বাংলার অলংকারশিল্পের ঐতিহ্য এই প্রতিষ্ঠান পাঁচ দশক ধরে দেশের স্বর্ণশিল্পের শীর্ষস্থানটি দখল করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আমিন জুয়েলার্সের রয়েছে ছয়টিরও বেশি ডিসপ্লে শপ। এসব শপ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১২ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়।

কাজী সিরাজুল ইসলাম প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ফরিদপুর-১ থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স এবং সিটি হাসপাতালের উপদেষ্টা এবং চেয়াম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ জুয়েলার্স সিমিতির সাবেক সভাপতি। সফল ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ কাজী সিরাজ ১৯৪০ সালের ১৬ অক্টোবর ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বানা ইউনিয়নের গড়ানিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

বাবা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে আমিন জুয়েলার্সের নির্বাহী পরিচালক ও বাজুসের সহসভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম কাজল

কিভাবে জুয়েলারি ব্যবসায় এলেন—জানতে চাইলে কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই শিল্পে প্রায় শতভাগ মালিকানা ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুকূলে। তবে আমি আমার একজন নিকটাত্মীয়ের অনুপ্রেরণায় এই শিল্পে আসি। প্রথম দিকে জেবা জুয়েলারি নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে ব্যবসায় যোগ দিই। কিছু টাকা জমিয়ে পরে বায়তুল মোকাররমে একটি দোকান নিই। কিন্তু পুঁজি কম বলে দমে যাইনি। এখানেও সহয়োগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে আসেন আত্মীয়-স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা ১০০ ভরির মতো সোনা দিলেন। শর্ত—গয়নার একটিও বিক্রি করা যাবে না। কাস্টমারদের আকর্ষণ করার শর্তে দোকান সাজিয়ে নিতে পারব। ব্যস, সেই শুরু; আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।’

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্বাচন ২০১৯-২০২১-এ দোলন-দিলীপ সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আমিন জুয়েলার্সের এমডি কাজী সিরাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে ৪০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আমিন জুয়েলার্সের নির্বাহী পরিচালক কাজী আমিনুল ইসলাম। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ায় বাজুসের নেতারা, কার্যনির্বাহী পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট যাঁরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁদের  কাছে তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞ।

 

আমিন জুয়েলার্সের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ব্যবসা বাড়াতে ছুটে গিয়েছি ভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি। গাড়িতে গেলে খরচ বেড়ে যাবে, তাই অনেক সময় হেঁটেই গিয়েছি ভোক্তাদের বাড়ি। ছোট-বড় যেকোনো অর্ডারই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছি। সরবরাহ করেছি সময়মতো। মান ঠিক রাখতে কোনো ছাড় দিইনি। তাই দিন দিন গ্রাহক বেড়েছে এবং ব্যবসাও বাড়িয়েছি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।’

স্মৃতি হাতরিয়ে দেশের অর্থনীতি-রাজনীতিতে অবদান রাখা জীবন্ত এই কিংবদন্তি বলেন, ‘ব্যবসার কল্যাণে দেশের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তির সান্নিধ্য পেয়েছি। এই তালিকায় বাদ পড়েননি সর্বকালের সেরা বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও।’ 

স্বর্ণশিল্পের কথা তুলে ধরে কাজী সিরাজ বলেন, ‘স্বর্ণশিল্পের আকার বাড়লেও দামের কারণে এর ব্যাপকতা হারিয়েছে। এখন শুধু উচ্চবিত্তের মানুষের একচ্ছত্র আধিপত্য। বিয়ে বা উত্সবে বাধ্য হয়ে কিনলেও পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। যেখানে বিয়ের উত্সবে একটি পরিবার ১০-১২ ভরি সোনা নিত। এখন তা নেমে দাঁড়িয়েছে চার ভরিতে। আমরা যখন এই ব্যবসা শুরু করি তখন প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২০০ টাকা। সেই সোনা প্রতি ভরি দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। ফলে দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে অর্ধেকের চেয়ে বেশি। গত দুই মাসেই বেড়েছে ভরিতে ১০ হাজার টাকা।’

সোনা ব্যবসায় আপনার পরবর্তী প্রজন্মের আগ্রহ কেমন—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে আমিনুল ইসলামই তো এখন ব্যবসাটা চালাচ্ছে। আমিন নামটা ওরই। বিদেশে পড়াশোনা শেষে মাসিক পাঁচ-ছয় হাজার ডলার বেতন পেত। তারপর আমি ওকে নিয়ে এলাম, নইলে দোকান চালাবে কে?

আমার পরবর্তী প্রজন্মের অনেকেই আগ্রহের সঙ্গে সোনা বাণিজ্য চালাচ্ছে। তাদের মধ্যে লন্ডন, সিঙ্গাপুর থেকে পড়াশোনা করে আসা তরুণরাও রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা