kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাণিজ্যযুদ্ধের অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে

সোনার দাম ১৬০০ ডলার ছুঁবে!

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনার দাম ১৬০০ ডলার ছুঁবে!

বাণিজ্যযুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-চীন আলোচনা শুরু হলেও চুক্তির বিষয়টি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বাজার অস্থিরতার আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনায় আগ্রহী হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে অব্যাহতভাবে বাড়ছে মূল্যবান এ ধাতুর দাম। গত সপ্তাহে স্পট সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি এক হাজার ৪৬২ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের সোনার দাম এক হাজার ৪৬৩ ডলার।

বছরের শুরুতে সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ১২৭০ ডলার। বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তাপে গত আগস্টে দাম ১৫০০ ডলারও ছাড়িয়েছিল, যদিও পরবর্তী সময় কিছুটা কমে আসে। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকসের হিসাব অনুযায়ী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় গত এক বছরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে ২১ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ইকোনমিক ক্লাব অব নিউ ইয়র্কে দেওয়া এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের সঙ্গে প্রাথমিক একটি বাণিজ্য চুক্তিতে আমরা কাছাকাছি এসেছি। যদিও উভয় পক্ষের আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে কিংবা চুক্তির ব্যাপারে বাড়তি কোনো তথ্য দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সিএমসি মার্কেটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক মিখায়েল ম্যাককার্থি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে বলছেন চুক্তি কাছাকাছি, অন্যদিকে বলছেন, যদি চুক্তি না হয় তবে তিনি চীনের ওপর শুল্ক বাড়াবেন। মূলত বিপরীতমুখী এসব কথায় বাজার অস্থিরতার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। এতে মূল্যবান এ ধাতুর দাম বাড়ছে।

এদিকে আগামী বছর সোনার দাম যদি প্রতি আউন্স ১৬০০ ডলার অতিক্রম করে তবে এ নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বাজার বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার লোনে বলেন, আমাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী এ বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সোনার দাম ১৪৮৪ ডলারের কাছাকাছি থাকবে। ২০২০ সাল নাগাদ এ দাম ১৬০০ ডলার অতিক্রম করবে একাধিকবার। তিনি বলেন, অর্থবাজারে ঝুঁকি বাড়তে থাকায় সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের দাবির সমর্থন পাওয়া যায় বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসেও। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়, অর্থবাজারে অনিশ্চয়তা থাকায় সোনার দাম আগামী বছরও বাড়বে। ২০২০ সালে সোনার দাম আরো ৫.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ১৬০০ ডলার হবে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়, সোনার ফিজিক্যাল চাহিদা বৃদ্ধি, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নীতি অনিশ্চয়তায় সোনার দাম বাড়বে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো থেকে সোনায় বিনিয়োগ বেড়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও বেড়েছে। পাশাপাশি অলংকার বিক্রিও বাড়ছে। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সোনার দাম বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ। ওই সময় মূল্যবান এ ধাতুর দাম বেড়ে ছয় বছরে সর্বোচ্চ হয়।

এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে সোনার চাহিদা বেড়েছে ৮ শতাংশ, যা ২০১৬ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় এবং সোনানির্ভর এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) ব্যাপক বিনিয়োগে মূল্যবান এ ধাতুর চাহিদা বেড়েছে বলে জানায় ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডাব্লিউজিসি)। মূল্যবান ধাতু প্রতিষ্ঠান সিলভার বালিয়নের বিক্রয় ব্যবস্থাপক ভিনসেন্ট টাই বলেন, বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক অর্থনৈতিক ডাটায় বিশ্ব প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে নিরাপদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ বাড়ছে।

ডাব্লিউজিসি জানায়, জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে বিশ্বে সোনার চাহিদা ছিল দুই হাজার ১৮২ টন, যা এক বছর আগের একই সময়ে ছিল দুই হাজার ২১ টন। বছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনা ক্রয় করেছে ৩৭৪ টন, যা এক বছর আগের এ সময়ে ছিল ২৩৮ টন।

ডাব্লিউজিসির বাজার প্রধান আলিস্তেয়ার হেউইট বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় ও ইটিফিতে বিনিয়োগ বাড়ায় মূলত সোনার চাহিদা বেড়েছে। এর পাশাপাশি শিথিল মুদ্রানীতি এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও এতে প্রভাব ফেলেছে। যদিও ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবান এ ধাতুর চাহিদা খুব বেশি নেই দামের কারণে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে গেলেও এখন আবার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার আশঙ্কা ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর প্রবণতার দিকে যাওয়ায় তারা দীর্ঘ মেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা বেছে নিচ্ছে। মূল্যবান ধাতু গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফএমএসের বিশ্লেষক রেফিনিটিভ বলেন, ‘আমরা মনে করি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ায় শক্তিশালী হবে সোনা। তবে দাম বাড়লে খুচরা বাজারে আবার অলংকার বিক্রি কমে যাবে। ফলে সোনার বাজার ভারসাম্যপূর্ণই থাকবে। সিএনবিসি, ট্রেডিং ইকোনমিকস, রয়টার্স, কিটকো নিউজ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা