kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সোনা খনি থেকে অলংকারে

শরিফ রনি   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনা খনি থেকে অলংকারে

সোনা পাওয়া যায় মূলত খনিতে। ফলে জনপ্রিয় এই মূল্যবান খনিজ পদার্থের যেখানেই সন্ধান মিলেছে, সেখানেই মানুষ ছুটে গেছে। তবে বিশ্বের সব দেশেই সোনার ভাণ্ডার নেই। হাতে গোনা কয়েকটি দেশে রয়েছে এই খনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সোনা পাওয়া যায় গ্রাসবার্গ, ইন্দোনেশিয়ার খনিতে। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ সোনার খনি। এখানে সোনা, তামা এবং রূপা সংরক্ষিত আছে। সর্বশেষ ২০১৮ সাল শেষে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী ২৭ লাখ আউন্স সোনা উত্তোলিত হয় এই খনি থেকে।

এরপর মুরুনতাউ গোল্ড ডিপোজিট, উজবেকিস্তান খনি থেকে উত্তোলিত হয় ২৪ লাখ আউন্স সোনা। গোল্ডস্ট্রাইক, ইউএসএ, উত্তর আমেরিকার খনিটি থেকে পাওয়া যায় ২১ লাখ আউন্স সোনা। অলিম্পিয়াডা, রাশিয়ার খনি থেকে উত্তোলিত হয় ১৩ লাখ আউন্স সোনা। লিহির, পাপুয়া নিউগিনি খনি থেকে উত্তোলিত হয় ৯ লাখ ৭৬ হাজার আউন্স সোনা।

খনি থেকে চারটি উপায়ে কাঁচা সোনা উত্তোলন করা হয়। এগুলো হলো প্লাসার মাইনিং, হার্ড রক মাইনিং, উপজাত-দ্রব্য খনন, সোনার আকরিক প্রক্রিয়াকরণ। আজকের দিনে সোনা নিষ্কাশনে লিচিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত জনপ্রিয়ভাবে ব্যবহূত হয়।

ই বি মিলারের ক্লোরিন গ্যাসের সঙ্গে অশুদ্ধ সোনা পরিশুদ্ধ করার পদ্ধতি এবং ইমিল ওহলউইলের ইলেকট্রো-রিফাইনিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে খাঁটি সোনার উন্নয়নের প্রযুক্তি বাজার সরগরম করে তোলে। এমনকি ৯৯.৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা এই প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে হয়। বিশুদ্ধিকরণ শেষে এগুলো সোনার বার আকারে তৈরি করা হয় এবং গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে অলংকার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এগুলো সংগ্রহ করে তা দিয়ে নানা ধরনের গয়না তৈরি করে।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনা ক্রয়-বিক্রয়ের স্থান হলো সাংহাই এক্সচেঞ্জ। যে কাউকে এই বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের দিকে ক্রেতা ও বিক্রেতার সমারোহে চীনের এই বাজার হয়ে ওঠে রমরমা। পশ্চিম থেকে সোনার বার গলিয়ে ছোট ছোট পাত আকারে পাঠানো হতো পূর্বে। থমসন রয়টার্সের গবেষণা ইউনিট জিএফএমএস বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সময়টাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সোনার বেচাকেনা হয়। তবে সোনার মুদ্রা হিসেবে প্রথম ব্যবহূত হয় গ্রিসে।

প্রাচীনকাল থেকেই সব জাতিতেই সোনার ব্যবহার ছিল। মিসরীয় সম্রাটদের মাধ্যমে নির্মিত পিরামিডগুলো খনন করে প্রচুর সোনার অলংকার ও জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অনেককাল ধরেই মিসরীয়রা সোনা নিয়ে গবেষণা করেছে।

মুসলিম যুগে যখন মোগলরা ভারতে আগমন করে, তখন অলংকারশিল্পের পরিবর্তন ঘটে। পারস্য থেকে শৈল্পিক সুষমামণ্ডিত অলংকারের প্রচলন ঘটে। তখন সোনার অলংকারের সঙ্গে দামি রত্নের ব্যবহার শুরু হয়। মোগল রাজকন্যারা সোনার সঙ্গে মুক্তা, হীরা, পান্না, চুনি, নীলা ইত্যাদি রত্ন ব্যবহার করতে পছন্দ করত। বাদশাহ ও বেগমদের মুকুটে রত্নের ব্যবহার ছিল অত্যাবশ্যকীয়। মোগল যুগের গয়না বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

১৮ শতকের পরবর্তী সময়টি গয়নার আধুনিক যুগ। এ সময় এই উপমহাদেশে ইংরেজদের আগমন ঘটে। তার সঙ্গে সঙ্গে পাশ্চাত্যের সভ্যতার প্রসার লাভ করে। পাশ্চাত্য ঘরানার অলংকারশিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দামি পাথর ও অল্প সোনার ব্যবহার। প্রধানত সেই সময় থেকে সোনার সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম, স্টিল বেশি ব্যবহূত হতে থাকে এবং নকশার দিকেও বেশি নজর দেওয়া শুরু হয়।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সোনার পাঁচ ধরনের ব্যবহার দেখা যায়। যার একটি হলো সোনার অলংকার। এর বাইরে ব্যাংক ও আর্থিক খাত, চিকিত্সা, ইলেকট্রনিকস ও কম্পিউটার, মেডেল অথবা সম্মাননা স্মারক তৈরিতে সোনার বহুল ব্যবহার হয়ে থাকে। এ ছাড়া শৌখিন ব্যক্তিদের নানা বিলাস পণ্যে সোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ঘড়ি, মোবাইল ফোন, কলমসহ নানা পণ্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা