kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন পুরুষের ব্যবসা সানন্দা জুয়েলার্স

সোনার ব্যবসা উত্সবনির্ভর

রনজিৎ ঘোষ এমডি, সানন্দা জুয়েলার্স সহসভাপতি, বাজুস

রফিকুল ইসলাম   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনার ব্যবসা উত্সবনির্ভর

ছবি : শেখ হাসান

তিন পুরুষের উত্তরাধিকার জুয়েলারি ব্যবসা দেখাশোনা করছেন রনজিৎ ঘোষ। তিনি সানন্দা জুয়েলার্স (প্রাইভেট) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। নতুন স্বর্ণনীতি, জুয়েলারি ব্যবসার আদ্যোপান্ত নানা বিষয় জানিয়েছেন কালের কণ্ঠকে।

রনজিৎ ঘোষ বলেন, বাংলাদেশের সোনার বাজার কেবল শীতকালে, যখন বিয়ে বা অন্যান্য কোনো উত্সব থাকে। বাকি সময়টাতে অলস সময় কাটাতে হয়। বিশ্বব্যাপী অশান্তির কারণে সোনার দাম এখন বেশি। আর বিশ্ববাজারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ছে। সোনা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গ্যাম্বলিং করছেন।

অনেক প্রাচীন আমল থেকে আমরা পারিবারিকভাবে এই ব্যবসা করছি। দাদা সোনার ব্যবসা করেছেন। বাপ-চাচারাও করছেন। এখন আমরা করছি। পাকিস্তান আমলে পুরান ঢাকার ইসলামপুরে দোকান ছিল। নতুন প্রজন্ম হিসেবে আমরা এই ব্যবসা হাতে নিয়েছি, ৩০ বছর ধরে নতুন আঙ্গিকে ব্যবসা করছি।

প্রকৃতপক্ষে আমরা যে কারিগর দিয়ে সোনা তৈরি করি, তাদের দুই আনা করে সোনা মজুরি হিসেবে দিতে হয়। এটাই তাদের মজুরি। কিন্তু ক্রেতার কাছ থেকে কোনো চার্জ নেওয়া হয় না। বর্তমানে এক আনা সোনার দাম সাড়ে তিন হাজার টাকা, কাজেই কারিগরকে দুই আনা সোনার মূল্য দিতে হয় সাত হাজার টাকার বেশি।

জুয়েলারি ব্যবসায় জড়িতরা এখন শান্তিতে ব্যবসা করতে পারবে কারণ দীর্ঘদিন পর একটা স্বর্ণ নীতি পাওয়া গেছে। এখন চ্যালেঞ্জ হবে আমরা কিভাবে সোনা পাব। এই খাত থেকে সরকার প্রচুর কর পাবে। দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পর সোনা ব্যবসায়ীদের জন্য স্বর্ণনীতি পাওয়া গেছে, এটা একটা বিশাল কাজ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সব সময় এই নীতি চেয়েছে কিন্তু আমরা তা পাইনি। আমলারা বারবার প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরনো সোনা পরিশোধন করে আমরা কাজে লাগাই। এই শিল্পটি অনেক অবহেলিত রয়ে গেছে। কোনো নীতিমালা না থাকায় প্রায় সময় হুহু করে দাম বেড়েছে। এখন একটা নীতির মধ্যে এসেছে।

তিনি বলেন, দেশের কারিগররা যত্নের সঙ্গে জুয়েলারি পণ্য তৈরি করে। কিন্তু আমাদের দেশে বিদেশি সোনা-রুপার চাহিদা বেশি। দেশের বাইরে যেসব বাংলাদেশি রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই ১০০ গ্রাম করে সোনা নিয়ে আসতে পারেন। আমরা সোনা ব্যবসায়ীরা সেটা সংগ্রহ করে শিল্পে কাজে লাগাই।

চোরাই কিছু সোনা বাংলাদেশে আসে কিন্তু সেটা দেশে থাকে না। অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। চোরাচালানের সোনা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। দেশে যে পরিমাণ সোনা ধরা পড়ে এটার সঙ্গে কোনো জুয়েলার্স বা কোনো দেশের ব্যবসায়ী জড়িত নন।

রনজিৎ ঘোষ বলেন, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনার চাহিদা বেড়েছে। একসময় সোনার দাম কম থাকলেও বর্তমানে ৫৬ হাজার টাকা ভরি। সোনার দাম যেমন বেড়েছে তেমনি মানুষের কেনার সামর্থ্যও বেড়েছে।

বিদেশি সোনার দাম একটু বেশি হওয়ায় দেশি কারিগর দিয়ে তৈরি সোনার গ্রাহকের চাহিদা বেশি। আমাদের দেশের স্বর্ণ কারিগররা ভালো মানের সোনার অলংকার তৈরি করতে পারে। যেটা অন্য কোনো দেশের শিল্পীরা পারে না। শিল্প হিসেবে কারিগরদের প্রশিক্ষণ বা শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও তারা নিজেরা করতে পারে। দেখতে দেখতে কাজ শিখে ফেলেছে তবে আমরা চাই শিল্প হিসেবে গণ্য হবে। আমরা পর্যাপ্ত সোনা পেলে দেশের অলংকার বিদেশে রপ্তানি করতে পারব। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বড় সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। সরকার এগিয়ে না এলে সোনা ব্যবসায়ীরা একা কিছু করতে পারবে না।

 

তিনি জানান, সানন্দা জুয়েলার্স প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ ভরি সোনা বিক্রি করতে পারে। সেই হিসাবে বছরে ৬০ থেকে ৭০ কেজি সোনার প্রয়োজন। এভাবে সারা দেশে সোনা ব্যবসায়ী রয়েছে। আমাদের জুয়েলারি সমিতির সদস্য ৬৬৬ জন। কাজেই সোনা ব্যবসায় ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা