kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জুয়েলারি শিল্পের জন্য ‘স্বর্ণপল্লী’ দরকার

ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন কর্ণধার, সিরাজ জুয়েলার্স

রফিকুল ইসলাম   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জুয়েলারি শিল্পের জন্য ‘স্বর্ণপল্লী’ দরকার

ছবি : মঞ্জুরুল করিম

সিরাজ জুয়েলার্সের কর্ণধার ড. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম। তিনি ঢাকা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতিরও সভাপতি। দেশের সোনার বাজার নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে।

ড. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, সোনা একটি সেনসিটিভ আইটেম, নিজেদের অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতি মুদ্রা বিনিময়ের সঙ্গে জড়িত। অল্পতেই সোনার দামের ওপর প্রভাব পড়ে। সব দেশেরই একটা নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশেও স্বর্ণনীতি হয়েছে। কিন্তু এর আগেও ব্যবসা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সোনা পাওয়া যেত। জুয়েলার্স সমিতি কিছু রেগুলেশন করেছিল সব মিলিয়ে এই ব্যবসা চলছিল কিন্তু একটা শিল্পকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য যে নীতিমালা প্রয়োজন ছিল সেটা দীর্ঘদিন পর হয়েছে। আমাদের অনেক দিনের প্রতীক্ষিত এই নীতিতে এখন বিধিগুলো তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে সোনা কিভাবে সরবরাহ করা হবে বা কারা আমদানি করবে। সেটা নির্ধারণ করতে হবে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় যেকোনো উত্সব হলেই সোনার চাহিদা বাড়ে। অলংকারের কারণেই এটা বাড়ে। বাণিজ্যযুদ্ধের ওপরও দাম বাড়া-কমা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ওঠানামার প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়ে গেলে পরিশুদ্ধ সোনা বিক্রি করতে চায় না। তারা মনে করে আরো দাম বাড়বে।

আমরা সরকারের কাছে দীর্ঘদিন যাবৎ বলে আসছি কেউ যদি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্বল্প মুনাফায় আমাদের সোনা সরবরাহ করত তাহলে আমাদের স্থানীয় বাজারে দাম কমত। তবে আমাদের দেশে তৈরি অলংকার বিশ্ববাজারে উপস্থাপন করতে পারতাম। বিশ্ববাজারে ভারতীয় অলংকার নামে যেসব পণ্য আছে সেগুলো মূলত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হাতেই তৈরি। দেশের মানুষের ক্রাফটসম্যানশিপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে এটা একটা শিল্প। এটাই হচ্ছে আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও সম্ভব। এটাকে শিল্প মনে করে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। এটা আমরা শিল্প হিসেবে গণ্য করে আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থাপন করতে পারব। এ জন্য কিছু নীতি নির্ধারণে সহায়তা প্রয়োজন।

আমাদের দেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকা খুব ছোট। শিল্প সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ালে সোনার অলংকার রপ্তানি হতে পারে। কোনো কোনো দেশ থেকে আমরা এক লাখ, দুই লাখ কোটি টাকার আমদানি করি। কিন্তু আমরা রপ্তানি করে থাকি এক হাজার বা দুই হাজার কোটি টাকা। বিচক্ষণ নেতারা এসব দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানির বিষয়ে ভাবতে পারেন। আমাদের হ্যান্ড মেড জুয়েলারি রপ্তানিতে উত্সাহিত করতে প্রণোদনা ভর্তুকি পেলে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হতে পারেন।

সোনার কারিগররা যেখানে পণ্য তৈরি করে সে জায়গাটা খুবই ঘিঞ্জি, শিল্পীকে প্রটেক্ট না করলে শিল্পই টিকবে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো বিশেষভাবে ব্যবসায়ীদের জায়গা দিতে হবে। যেখানে স্বর্ণপল্লী পড়ে উঠবে। ব্যাংকিং খাতেও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের হাই রিস্ক ভাবা হয়। ঋণ দেওয়া হয় না। ঋণ না পেলে ব্যবসা করবে কিভাবে? তবে ঋণ দিলে এই শিল্প এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

যেকোনো অনুষ্ঠানে মানুষের একটা গিফট আইটেম ছিল সোনার পণ্য উপহার। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ এখন আর সোনা উপহার দেয় না। কেউ টাকা দিচ্ছে কিংবা অন্য কোনো পণ্য উপহার হিসেবে দিচ্ছে, যা এই শিল্পকে অনেক বেশি প্রভাবিত করছে।

সিরাজ জুয়েলার্স মনে করে, গ্রাহকরা সম্মানিত। তারা এখানে আসেন বলেই আমাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়। আমরা চেষ্টা করি আমাদের যতটুকু সম্ভব ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। ভালো মানের পণ্য দেওয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা