kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গয়নার সেকাল-একাল

ফখরে আলম, যশোর   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গয়নার সেকাল-একাল

দেশীয় কারিগর ও প্রযুক্তিতে তৈরি সীতাহার ছবি : কালের কণ্ঠ

সোনা হচ্ছে একধরনের হলুদ রঙের উজ্জ্বল ধাতু। যাকে সোনাও বলা হয়। সহজে বহনযোগ্য, চকচকে—এ জন্য বিশ্বজুড়ে সোনার চাহিদা রয়েছে। সোনা নিয়ে প্রবাদ, গান, কবিতার শেষ নেই। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জাতীয় সংগীত লিখেছেন, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’

মানুষ সমাজবদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনার গহনা ব্যবহার শুরু করে। নব্য প্রস্তর যুগে সোনার তৈরি দ্রব্য ব্যবহূত হতো। প্রাচীনকালে সোনার জন্য জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ হয়েছে। মিসরীয় সভ্যতায় লোহার গয়না ব্যবহূত হলেও আধুনিক সভ্যতায় সোনা-রুপার গহনা ব্যবহারের চল শুরু হয়। হাজার হাজার বছর আগের মিসরীয় পিরামিড খনন করে সোনার গহনা পাওয়া গেছে। মোগল সম্রাটরা বেগমদের সাজানোর জন্য মণ মণ সোনার গহনা তৈরি করেছেন। ভারতবর্ষে সব ধর্মের লোকই গয়না ব্যবহার করেছে।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মৃণালিনীকে সাজানোর জন্য ‘গোলাপবালা’ তৈরি করে দিয়েছেন। আগে এ দেশের রমণীরা সীতাহার, টিকলি, তাগা, পায়েল, মান্তাসা, কণ্ঠহার, নোলক, নথ, বিছা, মুকুট, চূড়, পায়ের খাড়ু, আমলেট, অনন্তবালা, হাতের বাজু, বাউটি গয়না ব্যবহার করেছে। যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া গ্রামের প্রবীণ গৃহবধূ রওশন আরা বেগম বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান আমলে ৯০ টাকা ভরি সোনা কিনেছি। সেই সোনা দিয়ে তৈরি করেছি গোলাপবালা, তাগা, সীতাহার।’

যশোর শহরের সোনার দোকান ‘চৌধুরী গোল্ড’-এর বিক্রয়কর্মী আব্দুল হালিম বলেন, ‘এখন কম ওজনের সোনার গহনা বেশি বিক্রি হয়। এসব গহনার মধ্যে রয়েছে ছেলেদের ঢালাই আংটি, ইরাক থেকে আসা ডিজাইনে ইরাকি আংটি, সলিড চুড়ি, জড়োয়া হার, ঝুমকা, চিকহার, কানপাশা, রজনীগন্ধা বালা, ব্রেসলেট, রেসলেট, পাথরের নাকফুল, ভাটিয়া চেন, ছিকল চেন, কাশ্মীরি চেন। তবে বনেদি পরিবারের মধ্যে এখনো সোনার চামচ তৈরির প্রথা রয়েছে। নবজাতককে এই চামচ দিয়ে মধু খাওয়ানো হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা