kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

২০২১ সালের মধ্যে সোনা রপ্তানি করতে চাই

মো. রিপনুল হাসান, কর্ণধার, জুয়েলারি হাউস সহসম্পাদক, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




২০২১ সালের মধ্যে সোনা

রপ্তানি করতে চাই

দেশে জুয়েলারিশিল্পের সম্ভাবনা কেমন জানতে চাইলে জুয়েলারি হাউসের কর্ণধার ও বাজুসের সহসম্পাদক রিপনুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে জুয়েলারিশিল্প অনেক সম্ভাবনাময়। কারণ হাতে তৈরি অলংকারের জন্য আমরা পৃথিবী বিখ্যাত। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এটার আলাদা চাহিদা আছে। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আরো বিকশিত হবে।’

এ শিল্পের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বাজুসের সহসম্পাদক বলেন, ‘আমাদের দেশে সোনার কোনো খনি নেই। আমরা আমদানিনির্ভর শিল্প। ৪৮ বছর ধরে এ ব্যবসার কোনো নীতিমালা ছিল না। বৈধতা ছিল না। এখন নীতিমালা হচ্ছে। এখন আমাদের আরো বিকশিত হওয়ার সময়। এ সময়ে আমরা যখন রপ্তানির চিন্তা-ভাবনা করছি তখন বিদেশি কম্পানিগুলো যদি এ দেশে এসে ব্যবসা করা শুরু করে তাহলে আমরা পিছিয়ে যাব। বর্তমানে এটাই বড় চ্যালেঞ্জ।’

স্বর্ণশিল্পের বয়স ৪৮ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো সেভাবে বড় কোনো ব্র্যান্ডের জন্ম নেয়নি। এর কারণ কী—প্রশ্ন করা হলে রিপনুল বলেন, ‘এ শিল্পের আইনগত কোনো বৈধতা ছিল না। এখানে কোনো গ্রুপ অব কম্পানি কখনো আসেনি। একটা ব্র্যান্ড তখনই জন্ম নেবে, যখন বৈধভাবে স্বর্ণ আসবে। আশা করছি, নীতিমালা হয়ে যাওয়ার কারণে এখন অনেক ব্র্যান্ড সৃষ্টি হবে। কারণ বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করে ব্যবসা করার জন্য অনেকেই আগ্রহী।’

প্রযুক্তির কারণে সব কিছু দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তির সঙ্গে দেশের স্বর্ণশিল্প কতটুকু খাপ খাওয়াতে পারছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে বদলে ফেলাটা জরুরি। আমরাও বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছি। দেশে নীতিমালা ছিল না। ফলে কার কাছে কত বৈধ সোনা আছে, তা কেউ ঘোষণা দিতে পারেনি। এখন নীতিমালা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, তবে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিগরদের দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আর দক্ষতা উন্নয়নে ‘ইনস্টিটিউট’ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন কোর্স চালু করতে হবে। স্বর্ণশিল্পে আরো বেশি শিক্ষিত লোকজনকে আনতে হবে।’

নবনির্বাচিত কমিটি কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে—জানতে চাইলে রিপনুল বলেন, ‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার থাকবে, বৈধ স্বর্ণ আমদানি করে সবাই যেন সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা। কোনো ব্যবসায়ী যাতে আর হয়রানির শিকার না হয় সেটা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য এবং চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের নানা অসুবিধা দেখা এবং সে অনুযায়ী কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। তবে আমরা সরকারের সুবিধাও দেখব। আমরা ২০০ কোটি টাকা সরকারকে ট্যাক্স দিয়েছি। এটা তো সবে শুরু। সামনে আরো অনেক ট্যাক্স দেব। সবাই যাতে ট্যাক্স দেয় তা দেখাও আমাদের কর্তব্য।’

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্ন সম্পর্কে বাজুসের সহসম্পাদক বলেন, ‘আমার স্বপ্ন হলো, আমার নিজের প্রতিষ্ঠানটিকে শিল্পে রূপান্তরিত করা। দেশের মানুষের কর্মসংস্থান করা। আর আমার ব্যাক্তিগত লক্ষ্য হলো, ২০২১ সালের মধ্যে স্বর্ণ রপ্তানি করা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা