kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সোনার বাজারে বিদেশি কম্পানিকে যেন ঢুকতে দেওয়া না হয়

গঙ্গা চরণ মালাকার, কর্ণধার, ভেনাস জুয়েলার্স সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি

সজীব হোম রায়   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনার বাজারে বিদেশি কম্পানিকে যেন ঢুকতে দেওয়া না হয়

সোনার বর্তমান বাজার একটু খারাপ মন্তব্য করে ভেনার্স জুয়েলার্সের কর্ণধার গঙ্গা চরণ মালাকার বলেন, সোনার বাজার কয়েক মাস ধরে একটু বাড়তি। ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ৫৪ হাজার ৬২৯ টাকা। এখন সোনার দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। অবশ্য দাম সব সময়ই ওঠানামা করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে এসিড সোনার সংকট থাকায় এখানে দাম তুলনামূলক বাড়তি। আর সোনার দাম বাড়ার কারণে বড় ক্রেতারা আসছে না। তবে ছোট ক্রেতারা আসছে।

স্বর্ণ নীতিমালা সম্পর্কে গঙ্গা চরণ মালাকার আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বর্ণ নীতিমালা পাস করা হয়েছে। স্বর্ণ নীতিমালায় অবদান রাখার জন্য সভাপতি হিসেবে আমি পুরস্কার পেয়েছিলাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। আমাদের কাছে জমা করা যে সোনা ছিল তা আমরা ঘোষণা দিয়ে দিয়েছি। সোনা আমদানির ক্ষেত্রে ডিলার নিয়োগের কাজ অনেকটাই শেষের পথে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এটি ফাইনাল হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে কাজ করছে। তাই বলা যায়, স্বর্ণ নীতিমালা শেষের দিকে রয়েছে।’

ভারতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশে ব্যবসা করতে চাচ্ছে। এর প্রভাব সম্পর্কে গঙ্গা চরণ মালাকার বলেন, ‘বাইরের দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশে জয়েন্ট ভেঞ্চারে দোকান খুলতে পাঁয়তারা করছে। শুনেছি কিছু দোকানও নাকি তারা নিয়েছে। এগুলো যদি হয় তাহলে দেশি জুয়েলারি ধ্বংস করা হবে। আমরা পথে বসব। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব বিদেশি কোনো কম্পানিকে যেন ঢুকতে দেওয়া না হয়। তৈরি অলংকার আমদানি করার ব্যাপারে সব সময়ই আমরা বাধা দিয়ে আসছি। কারণ পাকা সোনা এলে সেটি দিয়ে আমাদের দেশি শিল্পীরা কাজ করবে। এতে দেশের শিল্প প্রসার ঘটবে, কর্মসংস্থান হবে। তা ছাড়া আমাদের দেশি শিল্পীদের তৈরি করা অলংকার আন্তর্জাতিকমানের, পৃথিবী বিখ্যাত। তা ছাড়া তৈরি অলংকার আমদানির সুযোগ দিলে তখন আর কেউ পাকা সোনা আমদানি করবে না। সবাই অলংকারই আনবে। ফলে স্বর্ণ নীতিমালা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। পাশাপাশি সারা দেশে কয়েক লাখ স্বর্ণশিল্পী বেকার হবে। তাই সরকারকে এসব বিষয় ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই।’

দেশে তৈরি সোনার অলংকার রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারের সাহায্য ছাড়া তা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের স্বর্ণশিল্পীদের বানানো অলংকার পৃথিবী বিখ্যাত। ভারতেও বানায়। আমরা চাই আমাদের হাতে বানানো এই অলংকার রপ্তানি করতে। এ ব্যাপারে সরকারের সাহায্য লাগবে। সরকারের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়।’ অবৈধ সোনার ব্যাপারে সদ্য সাবেক সভাপতি মালাকার বলেন, দেশে এখন আর অবৈধ সোনা আমদানি হয় না। আগে ভারতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হতো। কারণ বাংলাদেশে সংকট ছিল। তা ছাড়া এখন অবৈধ সোনা ধরা পড়ার পরিমাণ কমে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা