kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিদেশি পণ্যপ্রীতিতে মার খাচ্ছে দেশি অলংকার

এম এ হান্নান আজাদ, এমডি, অলংকার নিকেতন জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, বাজুস

এম সায়েম টিপু   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশি পণ্যপ্রীতিতে মার খাচ্ছে দেশি অলংকার

বিদেশি পণ্যপ্রীতি আর বৈশ্বিক সক্ষমতার অভাবে বাংলাদেশের অলংকারশিল্পের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অলংকার নিকেতন প্রাইভেট লিমিটেডের এমডি এম এ হান্নান আজাদ।

সম্প্রতি বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে এক সাক্ষাত্কারে কালের কণ্ঠের কাছে তাঁর এই মতামত তুলে ধরেন। তিনি একেধারে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি।

শুরুতেই তিনি দেশের বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি তুলে ধরেন। তবে সেই চিত্র খুব ভালো নয়। এম এ হান্নান আজাদ বলেন, দেশের কোনো ব্যবসাই ভালো যাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ দেশের মানুষের বিদেশি পণ্য ব্যবহার প্রীতি। সবচেয়ে বড় যে উদ্বেগের কারণ তা হলো মাত্র দুই হাজার টাকা খরচ করে প্রতিবেশী সহজে ভ্রমণ করা যায়। ভিসা প্রক্রিয়াও খুব সহজ। আর এই সুযোগে দেশের বড় উত্সবগুলো এলে আমাদের ক্রেতারা স্রোতের মতো চলে যায় ভারতে। একসময় এই স্রোতটা ছিল বসুন্ধরা সিটিতে। এখন তা অনেক কমে গেছে। ফলে দেখা যায়, এসব উত্সবে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা ও তার আশপাশের এলাকায় কোনো হোটেলে সিট খালি পাওয়া যায় না। এ ছাড়া চিকিত্সা বা ভ্রমণ ভিসায় যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ। আর যারা বিদেশ যাচ্ছে শুল্ক ছাড়ের সুযোগ নিয়ে তারা বড় বড় দুই স্যুটকেস নিয়ে আসে। এতে থাকে বিপুল পরিমাণ প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় পণ্য।

তিনি বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার ফলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ ব্যাগেজ রুলের আওতায় প্রচুর পণ্য নিয়ে আসছে। ১০০ গ্রাম সোনা বিনা শুল্কে নিয়ে আসতে পারে। ফলে তিন-চার বছর ধরে দেশের ব্যবসায় ব্যাপক মন্দা যাচ্ছে।

সোনা ব্যবসায়ীদের অবস্থা আরো খারাপ। প্রতিবেশী দেশে ডলারের দাম কম, সোনার দামও কম। এর ফলে বড় বড় উত্সব-পার্বণের অংলকার এখন ভারত থেকেই নিয়ে আসছেন ভোক্তারা। অথচ আমাদের হাতের তৈরি সোনার দেশে-বিদেশে বিপুল চাহিদা ছিল; এখনো অনেক সম্ভাবনা আছে। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণনীতি তৈরি করে দেওয়া পর প্রতি ভরিতে এক হাজার টাকা কর দিয়ে স্বর্ণের উত্সকেও বৈধ করা হয়েছে। আমদানি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে আমাদের রপ্তানি করার সুযোগও তৈরি হবে। নিজের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ১০০টির বেশি স্বর্ণ মেলায় অংশ নিয়েছি। বিশ্বের স্বর্ণবিলাসী মানুষের কাছে আমাদের হাতের তৈরি নিখুঁত নকশার স্বর্ণের বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া দেশেই এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অলংকার তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে। যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অনেক দেশেই নেই। আমাদের আছে মাননিয়ন্ত্রণের অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান। যা সারা বিশ্বে স্বীকৃত। এত কিছু থাকার পরও এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছি না বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতার অভাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা