kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিথ্যা অপবাদ থেকে ব্যবসায়ীদের মুক্তি দেবে নীতিমালা

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড; সাধারণ সম্পাদক, বাজুস

মাসুদ রুমী   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মিথ্যা অপবাদ থেকে ব্যবসায়ীদের মুক্তি দেবে নীতিমালা

ছবি : মঞ্জুরুল করিম

ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মেয়ে ইশা আম্বানির বিয়ের গয়নার ৮০ শতাংশই হাতে তৈরি। শুধু ভারত নয়, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে হাতে তৈরি গয়নার চাহিদা আছে, যা পূরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক জুয়েলারি শিল্পের নতুন রপ্তানিকারক দেশ হতে পারে বাংলাদেশ। এ জন্য স্বর্ণ নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন ও সরকারের ধারাবাহিক নীতি সহায়তা চান বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি বলেন, বাঙালি কারিগররা পৃথিবীর সেরা। এখন আমাদের সেই দক্ষতা বিশ্বজুড়ে তুলে ধরার সুবর্ণ সময়। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জুয়েলারি শিল্পের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

কর দেওয়া সত্ত্বেও একমাত্র সোনা ব্যবসা বৈধতা পায়নি উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘স্বর্ণ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ১৫ লাখ পরিবারের এই শিল্প নানা মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি পাবে। একই সঙ্গে দেশে বৈধভাবে সোনা আমদানি হলে জুয়েলারি রপ্তানির দুয়ারও খুলে যাবে। তখন সরকারের এই খাত থেকে রাজস্ব আদায় ১০ গুণ বেড়ে যাবে বলে আশা করছি।’

দেশে বছরে ২০ থেকে ৪০ টন সোনা লাগে; যার বড় অংশ আসে বিদেশফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে, কিছুটা আমদানি করে ও পুরনো সোনা গলিয়ে সংগ্রহ করা হয়। জুয়েলারি শিল্পের বাজারের আকার জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য নেই। আমার ধারণা, পাঁচ হাজার কোটি টাকা হবে। ৬৫০ জন ব্যবসায়ী বাংলাদেশে ডায়মন্ড বিক্রি করেন। এ ছাড়া স্বর্ণের গহনা বিক্রি করেন ১৪ হাজার ২০০ জন।’

সোনায় বিনিয়োগ শতভাগ নিরাপদ উল্লেখ করে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘বাংলাদেশে একমাত্র জুয়েলারি পণ্য কিনে আজীবন বাইব্যাক গ্যারান্টি পাওয়া যায়। মাত্র ১০ শতাংশ মূল কর্তন সাপেক্ষে ব্যবহূত পণ্য ফেরত দিয়ে নতুন পণ্য কিংবা ২০ শতাংশ কমে গহনার পুরো অর্থ ফেরত দিচ্ছি আমরা সবাই।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি যখন ব্যবসায় আসি তখন দেখেছি ডায়মন্ডের অপবাদ ছিল, এগুলো আসল ডায়মন্ড নয়। তাই যদি হতো, তাহলে ব্যবসা টিকত না।’

দেশে ডায়মন্ডসহ জুয়েলারি শিল্পের প্রসারে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো বাজুসের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় এই শিল্পের জন্য নিজের পাঁচটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা জানালেন তিনি। বললেন, ‘চলতি বছরের মধ্যে আমরা সোনা আমদানির ব্যবস্থা করব। আগামী জুনের মধ্যে আমাদের ড্রিলিং লাইসেন্স সহজ করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা, বন্ড সুবিধা চালু এবং এই শিল্পকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থানান্তরে বর্তমান কমিটি ভূমিকা রাখবে।’

পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশের জুয়েলারি শিল্প ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বাজুসের এই নেতা বলেন, ‘তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজারের কারিগরদের যেভাবে বেড়ে ওঠা দরকার, সেভাবে তারা বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে না। একসময় আমরা বলতাম এই শিল্প ২৮ লাখ পরিবারের, যা কমে এখন ১৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সারা দেশে চার লাখ কারিগর আছে, যাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এই শিল্পকে কেরানীগঞ্জে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্রুত স্থানান্তরের মাধ্যমে আরো বিকশিত করতে হবে।’

দেশের জুয়েলারি শিল্পের সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমদানিযোগ্য পণ্য হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ করা ভুল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সালের একটি আইনের একটি কালে অধ্যাদেশ বলে এটি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সর্বশেষ আমার সৌভাগ্য আমার মেয়াদে এই শিল্পের জন্য দীর্ঘ আন্দোলনের পর একটি নীতিমালা হয়েছে।’

কিছু আশঙ্কার কথাও শোনালেন বাংলাদেশ ডায়মন্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি বলেন, ‘জুয়েলারি শিল্পে এখনো কালো ছায়া রয়ে গেছে যারা চায় না জুয়েলারি ব্যবসা বৈধভাবে পরিচালিত হোক। মিথ্যা সম্পদের হিসাব দেখিয়ে, কাউকে স্মাগলার, গডফাদার সাজিয়ে একটা পক্ষ নামে-বেনামে বিভিন্ন সংস্থার মিথ্যা চিঠি দিচ্ছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংক ডিলার লাইসেন্স দিলেই দেশে আন্তর্জাতিক দরে সোনা বেচা-বিক্রি শুরু হবে। তাই যত দ্রুত লাইসেন্স দেবে ততই মঙ্গল বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

দেশে প্রথম ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড হীরা আমদানি করেছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের এমডি বলেন, ‘এখনো আমার পরিমাণ এবং বাকি সবার ডায়মন্ড আনার পরিমাণ সমান হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা