kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

শিল্প বাঁচাতে কারিগরদের বাঁচাতে হবে

এম এ ওয়াদুদ খান , এমডি, চন্দ্রিমা জুয়েলার্স সাবেক সভাপতি, বাজুস

এম সায়েম টিপু   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিল্প বাঁচাতে কারিগরদের বাঁচাতে হবে

প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে জুয়েলারির ব্যবহার এবং জুয়েলারি ব্যবসা জড়িত। বস্ত্রশিল্প, পাটশিল্প, চামড়াশিল্প, হস্তশিল্প, কুটির শিল্পের মতো এটিও একটি শিল্প। এই শিল্পে আমাদের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। এমন কোনো বিয়ে নেই যেখানে কমবেশি গয়নার ব্যবহার না হয়। শুধু বিয়ে নয় এখন তো জন্মদিন, ঈদ, পূঁজা, ভ্যালেনটাইসন ডে, মাদারস ডে, ওমেনস ডে, নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গয়না ব্যবহার বেড়েছে। এই গয়না একমাত্র পণ্য, যা শুধু সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করবে না, সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি করে। অথচ এই শিল্পের কারিগররাই ভালো নেই। তাই এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে স্বর্ণ শিল্পীকে বাঁচাতে হবে। মনে করেন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সাবেক সভাপতি ও চন্দ্রিমা জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদ খান।

সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে চন্দ্রিমা জুয়েলার্সের কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে এক সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন। প্রথমেই তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়াদুদ খান বলেন, চন্দ্রিমা জুয়েলার্স ১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরু করে। তখন শুরু হয় ছোট পরিসরে চাঁদনী চকে। জুয়েলারি ব্যবসায় তখন চন্দ্রিমা ছিল বেশ জনপ্রিয়। সব বয়সের ক্রেতা আসত। চাঁদনী চকেই বেশি আসত। চন্দ্রিমা জুয়েলার্স দীর্ঘ সময় ধরে তার ব্যবসার সুনাম ও খ্যাতির সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

ব্যবসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ওয়াদুদ খান আরো বলেন, ব্যবসার পরিধি না বাড়ালেও দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের ভোক্তার আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। পুঁজির অভাবে ব্যবসার প্রসার করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া সুবিধাজনক স্থানে দোকান করতে হলে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে হয়। প্রচুর বিনিয়োগ লাগে। দক্ষ কারিগরের সংকটও তৈরি হয়েছে। সুযোগ-সুবিধার অভাবে সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। তারা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মও এই শিল্পে আসতে চায় না।

শিল্পের কারিগরদের জন্য আবাসন, সন্তানদের জন্য শিক্ষা ও চিকিত্সা নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে ওয়াদুদ খান আরো বলেন, ‘আমাদের বর্তমান সরকার খুবই ব্যবসাবান্ধব সরকার। বিদেশি বিনিয়োগে উত্সাহী করার জন্য সারা দেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ করেছে। ব্যাংকঋণের হারেও ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে জুয়েলারি শিল্পের জন্য একটি স্পেশাল জোন তৈরি করে জমি বরাদ্দ ও অবকাঠামো নির্মাণে সাহায্য করতে পার। একই সঙ্গে শিল্পকে বাঁচাতে শিল্পের কারিগরদের জন্য আধুনিক আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারে।’

স্বর্ণের বাজার কেমন জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির এই সাবেক সভাপতি বলেন, বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম প্রায় ৫৭ হাজার টাকা। গত এক বছরেই প্রতি ভরি সোনায় দাম বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। তার পরও বিয়ে কিংবা বড় কোনো উত্সবে এর এক ধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে দেশের বিশাল এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে হিমশিম খেতে হয় অর্ধলাখ টাকার বেশি এই অলংকার কিনতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা