kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

এ দেশের কারিগররা বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ

প্রণোদনা পেলে অলংকার রপ্তানিতে বড় সাফল্য আসবে

আনোয়ার হোসেন, প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স ও এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রণোদনা পেলে অলংকার রপ্তানিতে বড় সাফল্য আসবে

এত দিন যেসব উত্স থেকে ব্যবসায়ীরা সোনা পেতেন সরকার বলছে তা সঠিক না, তার সমাধান করতেই এ স্বর্ণনীতিমালা। এ নীতিমালা নিয়ে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে আমিও একজন। মূলত সরকার চেয়েছে নির্ধারিত ডিলাররা সোনা আমদানি করবে এবং ব্যবসায়ীরা সঠিক উপায়ে সোনা পাবে। এতে করে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে এবং যোগ্যরা লাভবান হবে।

এ নীতিমালার ফলে দেশের অলংকার রপ্তানির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হলো। অনেক আগে থেকে আমাদের একটি রপ্তানি নীতিমালা ছিল কিন্তু সেটি সময়োপযোগী ছিল না। সুতরাং সেটি সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। আমরা যদি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সোনা কিনে এনে আন্তর্জাতিক বাজারে আবার বিক্রি করি সে ক্ষেত্রে আমাদের তো লাভ করতে হবে। কিন্তু সরকারের নীতি সহায়তা না পেলে লাভ করা আমাদের জন্য কঠিন হবে। কারণ আমরা যখন ভ্যালু অ্যাড (মূল্য সংযোজন) করতে যাব অর্থাৎ সুন্দর গয়না তৈরি করব সে ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের মজুরি খরচ পড়বে সেই সঙ্গে ওয়েস্টেজও আছে। আর অন্য যেকোনো পণ্যের চেয়ে সোনার ওয়েস্টেজের মূল্য অনেক বেশি। তাই আমরা যদি এ খরচ কমিয়ে আনতে না পারি সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারব না। সে কারণেই আমরা সোনা রপ্তানিতে নীতি সহায়তা কামনা করছি।

আমরা যদি আন্তর্জাতিক দরে সোনার কাঁচামাল এনে ভ্যালু অ্যাড করি। আর সরকার মজুরি ও ওয়েস্টেজ খরচ বাবদ আমাদের ৫০ শতাংশ প্রণোদনা দেয়, তাহলে রপ্তানি করে আমরা লাভবান হতে পারব।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশের স্বর্ণ কারিগররা হালকা ওজনের সোনার অলংকার তৈরিতে বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ। এমনকি বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের মতে হাতের তৈরি গয়নার কারিগরদের ৮০ শতাংশ এ দেশের। ফলে দেশের এ সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি। এ জন্য কারিগরদের ভালো মজুরিও দিতে হবে।

তাই সরকার যদি এ ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ প্রণোদনা পাঁচ বছর অব্যাহত রাখে তাহলে এ দেশের জুয়েলারি শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা অনেক দিন ধরে সরকারের কাছ থেকে নীতি সহায়তা চেয়ে আসছি। আমরা সহায়তা না পাওয়ায় রপ্তানিতে প্রতিবেশী ভারত ভালো করছে। অথচ তারা ভারী সোনার অলংকার তৈরি করতে পারে। আমরা হালকা সোনা তৈরি করে রপ্তানি করলে অনেক ভালো করতে পারব। প্রতিযোগিতায়ও টিকে থাকতে পারব।

অনুলিখন : মুহাম্মদ শরীফ হোসেন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা