kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রে যত কর

রেমিট্যান্স ও পেনশনে কর অব্যাহতি

জিয়াদুল ইসলাম   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রে যত কর

টাকার প্রবৃদ্ধি চাইলে বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের বৈধ উৎসগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজার। এর পাশাপাশি রয়েছে সরকারের সঞ্চয়পত্র খাত। যেখানে ঝুঁকি কম ও মুনাফা বেশি পাওয়া যায় সেখানেই মানুষ টাকা রাখতে আগ্রহী হয়। এ বিবেচনায় ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র খাতেই মানুষের আগ্রহ বেশি লক্ষ করা যায়। তবে এ দুই জায়গায়ই বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন হারে উৎসে কর ও আবগারি শুল্ক কাটা হচ্ছে। এটা নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তুষ্টি রয়েছে। তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন আয়কর অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছে।

 

সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর

নিম্ন-মধ্যবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষ, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন প্রকল্প চালু রয়েছে। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এ মুনাফাও করমুক্ত নয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ আইন-২০১৯ এর দ্য ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৪ এর সেকশন ৫২ (ডি) সংশোধনের মাধ্যমে করা হয়। ওই সেকশনে সঞ্চয়পত্রে ৫ শতাংশ উৎসে কর নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। সেটি পরিবর্তন করে ১০ শতাংশ হবে মর্মে সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ করা হয়। আর পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশই বহাল রাখা হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট উৎসে করের হার কমিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্য ধরা আছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাত থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে করা হয় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্রে ঋণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। মূলত ব্যাংকে আমানতের সুদহার কমে যাওয়া ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। এতে এ খাতে সরকারের সুদের বোঝাও বাড়তে থাকে। তাই সঞ্চয়পত্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ঠেকাতে সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ই-টিন সনদ জমা দিতে হবে। টাকার পরিমাণ এক লাখের বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য সঞ্চয়কারীর ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এ ছাড়া নতুন ফরম এবং ‘ম্যান্ডেট’ ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়পত্র কেনা নিরুত্সাহ করতে সঞ্চয়পত্র বিধিমালা ১৯৭৭ যথাযথভাবে ব্যাংকগুলোকে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ব্যাংক আমানতে উৎসে কর ও আবগারি শুল্ক

কোনো গ্রাহক বাণিজ্যিক ব্যাংকে মেয়াদি আমানত হিসাবে টাকা জমা রাখলে বছর শেষে গ্রাহককে যে মুনাফা দেওয়া হবে, তার ওপর উৎসে কর কেটে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতের বিপরীতে বছরে একবার আবগারি শুল্কও কাটা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের কোনো গ্রাহকের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকলে তাঁর আমানতের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ এবং টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখা হয়। শুধু উৎসে করই নয়, সঞ্চয়ী গ্রাহকের হিসাব কাটা হয় আবগারি শুল্কও। যেমন : এক লাখ এক টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে আমানত হলে অ্যাকাউন্টধারীকে ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা, ১০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার ক্ষেত্রে দুই হাজার ৫০০ টাকা, এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষেত্রে ১২ হাজার টাকা এবং পাঁচ কোটি টাকার ওপর যেকোনো পরিমাণ অর্থে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। তবে শূন্য থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত স্থিতির গ্রাহকদের এই আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকের আমানতকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩২৬ জন। তাঁদের আমানতের পরিমাণ ৯ লাখ ১৩ হাজার ৬১২ কোটি ৩৭ লাখ। এর মধ্যে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৮০ হাজার ৩৯৬ জন।

 

রেমিট্যান্স ও পেনশনে করমুক্তি সুবিধা

প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয়কর অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছে। রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধিতেই এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে পেনশন সুবিধা পান তাও কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ষষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত মোট আয়বহির্ভূত আইটেম যেমন পেনশন আয় ও ফরেন রেমিট্যান্স ইত্যাদি মূল রিটার্নে প্রদর্শন না করে পরবর্তীতে সংশোধিত রিটার্নে প্রদর্শন করা হলেও ওই আইটেমগুলোর ওপর কোনো কর আরোপ করা হবে না বলে উল্লেখ আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা