kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

আয়ের তুলনায় কর কম দেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনীরা

সম্পদশালীরা ফাঁকফোকর বের করলেও চাপে থাকে মধ্যবিত্ত

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আয়ের তুলনায় কর কম দেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনীরা

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ধনী বিলিয়নেয়াররা মধ্যবিত্তের চেয়ে তুলনামূলক কম হারে কর দিয়েছেন। ‘দ্য ট্রাম্প অব ইনজাস্টিস’ শীর্ষক একটি বইয়ে এ নিয়ে গবেষণা উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ এমানুয়েল সায়েজ এবং গ্যাবরিয়েল জুকম্যান ১৯৬০ সাল থেকে আমেরিকায় বাস্তবিক যে কর প্রদান করা হয় তার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তাতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে আমেরিকার সবচেয়ে ধনী ৪০০ পরিবার প্রকৃত অর্থে ২৩ শতাংশ হারে কর দিয়েছে। এর বিপরীতে দেশটির নিম্ন অর্ধেক পরিবার কর দিয়েছে ২৪.২ শতাংশ হারে।

দেখা যায়, ১৯৮০ সালে ৪০০ ধনী পরিবার কার্যত ৪৭ শতাংশ হারে কর দিয়েছেন, ১৯৬০ সালে এ হার ছিল ৫৬ শতাংশ। কিন্তু ওই সময় থেকেই নিম্ন অর্ধেক পরিবার যে হারে কর দিয়ে আসছে তাতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ধনীদের মাঝে প্রকৃত আয়ের চেয়ে কর কম দেওয়ার প্রবণতা থাকলেও সে সুযোগ আরো বেড়ে যায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দেওয়া কর ছাড় কার্যকর হওয়ায়। ওই সময় করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২১ শতাংশ করা হয়। বিরোধীরা এর সমালোচনা করলেও হোয়াইট হাউস তখন বলেছিল করপোরেট কর ছাড়ের কারণে ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানে বড় প্রবৃদ্ধি আসবে। কিন্তু এতে আমেরিকার ধনীরা মধ্যবিত্ত কর্মজীবীদের তুলনায় আরো বেশি কর ছাড় পায়।

সম্প্রতি এন্টারপ্রেনার ডটকমের এক বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে বিলিয়নেয়াররা প্রকৃত আয়ের চেয়ে কম কর দেন। এতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্ ধনী ওয়ারেন বাফেটের উদাহরণ দিয়ে বলা হয় ৮২.৫ বিলিয়ন ডলার নেট সম্পদের মালিক এ সফল বিনিয়োগকারী বার্কশেয়ার হেথাওয়ের চেয়ারম্যান ও সিইও। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনীদের একজন হলেও নিজের সেক্রেটারির চেয়েও কম হারে কর দেন।

ধনীরা আইনগতভাবে তাঁঁদের কর কমানোর জন্য দক্ষ অ্যাকাউন্ট্যাট নিয়োগ দিয়ে থাকেন। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সর্বোচ্চ কর হচ্ছে ৩৭ শতাংশ। একজন ভালো কর উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে নানা ফাঁকফোকর বের করে উল্লেখযোগ্য হারে এই কর কমানো যায়। ওয়ারেন বাফেটসহ বিলিয়নেয়াররা তা-ই করে থাকেন

বলা হয়, গত ২৫ বছর ধরেই কম্পানির সিইও হিসেবে ওয়ারেন বাফেট বেতন নেন এক লাখ ডলার, যা তাঁর প্রকৃত আয়ের চেয়ে অনেক কম। এতে তাঁকে সামান্য অর্থই আয়কর দিতে হয়। তাঁর আয়ের বেশির ভাগ আসে শেয়ারবাজার বিনিয়োগ থেকে। এ ক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বা দীর্ঘ মেয়াদে মূলধনীয় মুনাফা কর দিয়ে থাকেন, যা শ্রেণিভেদে ০%, ১৫% বা ২০% হয়ে থাকে। এ হার সাধারণ আয়করের চেয়ে অনেক কম। দীর্ঘ মেয়াদে মূলধনীয় মুনাফা কর হচ্ছে এক বছরের বেশি সময় হাতে থাকা সম্পদের বিক্রি হলে তার মুনাফার ওপর কর। এ কর প্রতিবছর দিতে হয় না, শুধু সম্পদ বিক্রি করলে দিতে হয়। আবার বিভিন্ন কারণে এটি কমানোও যায়। এ ছাড়া বাফেট বিপুল অঙ্কের অর্থ দান করে কম্পানি থেকে প্রাপ্ত মজুরিও কমিয়ে এনেছেন। এতে সরকারকে দেওয়া আয়করও কমেছে।

ধনীরা আইনগতভাবে তাঁঁদের কর কমানোর জন্য দক্ষ অ্যাকাউন্ট্যাট নিয়োগ দিয়ে থাকেন। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সর্বোচ্চ কর হচ্ছে ৩৭ শতাংশ। একজন ভালো কর উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে নানা ফাঁকফোকর বের করে উল্লেখযোগ্যহারে এ কর কমানো যায়। বাফেটসহ বিলিয়নেয়াররা তাই করে থাকেন। দেশটিতে যেসব কম্পানি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে সরকার তাদের কর প্রণোদনা দিয়ে থাকে। এতে বড় বড় কম্পানিগুলোর জন্য কর কমানো সহজ হয়।

গত বছর বার্কশেয়ার হেথাওয়ের নেট সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৬৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলার এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে কর আইন সংশোধনের কারণে। বাফেট জানান, প্রধানত করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২১ শতাংশ করায় বিপুল অঙ্কের কর কমেছে। এর পাশাপাশি ফিক্সড সম্পদে বোনাস মূল্য হ্রাস করা হয়েছে।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত মূলত তিন ধরনের কর রয়েছে, যা ফেডারেল, রাজ্য এবং স্থানীয় সরকার কর। ফেডারেল এবং রাষ্ট্রীয় করগুলো সম্পূর্ণ পৃথক এবং প্রত্যেকের কর চার্জের নিজস্ব কর্তৃত্ব রয়েছে। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব কর ব্যবস্থা রয়েছে, যা অন্যান্য রাজ্য থেকে পৃথক। এই করগুলো বিভিন্ন ধরনের আয়, বেতন, বিক্রয়, সম্পত্তি, লভ্যাংশ, আমদানি এবং সম্পদ পাশাপাশি বিভিন্ন ফিতে প্রয়োগ করা হয়।

ফেডারেল কর্তৃক ব্যক্তি ও করপোরেশনের নিট আয়ের ওপর কর আদায় করা হয়। বেশির ভাগ রাজ্য এবং কিছু স্থানীয় সরকার- নাগরিক ও বাসিন্দাদের বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর কর প্রয়োগ করে। ওয়াশিংটন পোস্ট, উইকিপিডিয়া, এন্টারপ্রেনার ডটকম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা