kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

করদাতাদের হয়রানি করা যাবে না

মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া,চেয়ারম্যান, এনবিআর

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করদাতাদের হয়রানি করা যাবে না

ছবি : মঞ্জুরুল করিম

আয়কর মেলা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর। সংস্থার চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠ’র সিনিয়র বিজনেস এডিটর ফারুক মেহেদীর সঙ্গে মেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তা এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো।

 

২০১০ সাল থেকে আয়কর মেলা চালু হয়। যাঁরা ওই সময় মেলাটি আয়োজন করেন, তাঁদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এ আয়কর মেলা করে যাচ্ছি। প্রতিবছরই মেলার পরিধি ও কর আহরণ বাড়ছে। গেল বছর আমরা রাজস্ব পেয়েছি দুই হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আমরা আশা করছি এবার মেলা থেকে আয়কর পাব প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। মেলায় রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিআইএনও খোলা হয়েছে। এ বছর আমাদের প্রচার-প্রচারণা অনেক বেড়েছে। আশা করা যায় এবার আরো বাড়বে। রিটার্ন দাখিলে মেলায় থাকা কর্মকর্তারা করদাতাদের সার্বিক সহায়তা করবেন।

রাজধানীতে মেলা হবে ১৪ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। আর যেকোনো চার দিন এ মেলা হবে জেলা শহরে। এ ছাড়া ৪৮টি উপজেলায় দুই দিন এবং আট উপজেলায় দিনব্যাপী আয়কর মেলা চলবে। জেলাতে আমাদের কমিশনাররা থাকবেন। তাঁদের বলেছি স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীদের প্রধান অতিথি করে মেলা উদ্বোধন করার জন্য। ঢাকার মেলা উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী মহোদয়। এবারে আমরা ১৪১ ব্যক্তিকে ট্যাক্স কার্ড দেব। যাঁরা কার্ড পাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও লক্ষ করছি আমরা; যাতে তাঁরা পরবর্তী বছরেও এ খেতাব ধরে রাখতে পারেন।

এ মেলার মাধ্যমে কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একটি বার্তা দিয়ে থাকি। তা হলো করদাতাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। তাঁদের হয়রানি করা যাবে না। মেলায় যেমন করদাতাদের আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়া হয়, মেলার পরেও তা বজায় রাখতে হবে।

মেলার বিশেষত্ব হলো—এখানে কেউ অনলাইনে রিটার্ন দিতে চাইলে আমরা গ্রহণ করব। অনলাইনে কর পরিশোধও করা যাবে। মেলায় করদাতারা একই জায়গায় ইটিআইএন খোলা, রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধ করতে পারছেন। ব্যাংকের বুথও থাকবে এখানে। এ সেবা গেলবারের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডেও করের টাকা জমা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, প্রতিবন্ধী, সেনাবাহিনীর সদস্য সবার জন্যই আলাদা আলাদা বুথ থাকছে, যাতে সেবা পেতে কারো যেন কোনো অসুবিধা না হয়। ইফাইলিংয়েরও ব্যবস্থা রেখেছি আমরা। এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি করবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চাই। মেলা প্রাঙ্গণকে আমরা উত্সবমুখর রাখব। করদাতাদের জন্য টোকেন উপহারেরও ব্যবস্থা করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য করদাতাদের সন্তুষ্টি ও তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মেলায় সিনিয়র-জুনিয়র সব কর্মকর্তাই পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিদিন না পারলেও অন্তত দুই-তিন দিন যাওয়ার চেষ্টা করব। এবারের মেলার বিশেষ দিক হলো—এবার প্রথমবারের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আয়কর রিটার্ন মেলায় জমা দিতে পারেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রীসহ আমার নিজের ফাইলও মেলায় জমা দেওয়া হবে। সাবেক অর্থমন্ত্রীও মেলার সময় অনলাইনে নিজের আয়কর ফাইল জমা দেন।

মেলায় মিডিয়া আমাদের নানাভাবে সহযোগিতা করে। তারা রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে অনেক নেগেটিভ রিপোর্ট করলেও আমরা একে নেগেটিভ হিসেবে দেখি না। আমরা মনে করি এর মধ্য দিয়েই ভালো কিছু হবে।

আমরা সারা দেশে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। মেলায় নতুন করদাতারা আসবেন। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করা যাবে। আমরা আশা করি অন্যবারের তুলনায় এবার মেলায় রিটার্ন ও আয়কর বেশি জমা হবে। করদাতাদের বিপুল সাড়া পাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা