kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রোগীকে পুঁজি করে চিকিৎসা বাণিজ্য

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রোগীকে পুঁজি করে চিকিৎসা বাণিজ্য

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে রোগ ও রোগীকে পুঁজি করে চলছে চিকিৎসা বাণিজ্য। এক শ্রেণির নামধারী ডাক্তার ও ওষুধের দোকানি অধিক মুনাফা লাভের আশায় রোগীদের ধরিয়ে দিচ্ছেন দামি দামি ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক। শিশু রোগীর ক্ষেত্রেও মিলছে না ছাড়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার শিশুস্বাস্থ্য।

বিজ্ঞাপন

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার উজানচর, ছোটভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজারে দেড় শতাধিক ছোট-বড় ওষুধের দোকান (ফার্মেসি) রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও অন্যগুলোর অনুমোদন নেই। অনুমোদনবিহীন এসব ওষুধের দোকানিরা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাধে ওষুধ বিক্রি করছেন। নিজ দোকানে বসে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি রোগের চিকিৎসাও করছেন কেউ কেউ।

আবার এসব ফার্মেসিতে বসছেন পল্লী চিকিৎসকরা। রোগী টানতে তাঁদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবেও জাহির করছেন। একই সঙ্গে দ্রুত রোগ সারানোর নাম করে হরহামেশা গছিয়ে দিচ্ছেন দামি দামি ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক। ফলে মাত্রারিক্ত ওষুধের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে শিশু রোগীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও পড়াশোনা না জানা লোকজন বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাদের কাছেই যায়। ফলে তাদের স্বাস্থ্যহানির পাশাপাশি ঘটছে অর্থদণ্ডও।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডা. প্রদীপ কান্তি পাল বলেন, ‘অধিক মাত্রার ওষুধ ব্যবহারে পরবর্তী সময়ে রোগাক্রান্ত শিশুদের শরীরে আর কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। এতে তাদের সুস্থ করে তোলা অনেকটা দুরূহ হয়ে পড়ে। ’

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ তাঁদের নামের আগে ডাক্তার শব্দটি লিখতে পারেন না। সরকার অনুমোদিত ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। গোয়ালন্দে গড়ে ওঠা অবৈধ ওষুধের দোকানসহ নামধারী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ’

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানি ও নামধারী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ’



সাতদিনের সেরা