kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধানের চারা কেটে ফেলছেন কৃষকরা

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধানের চারা কেটে ফেলছেন কৃষকরা

পাবনার চাটমোহরে পানির অভাবে নষ্ট হচ্ছে ধানগাছ। তাই কৃষক জমিতে বোনা আমন ধান কেটে নিচ্ছেন গবাদি পশুর জন্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

জলবায়ু পরিবর্তন, বিরূপ আবহাওয়া ও পানির অভাবে এ বছর বোনা আমন ধান আবাদে লোকসান গুনছেন চলনবিলের কৃষকরা। বিলের উঁচু এলাকায় বর্ষার পানি প্রবেশ না করায় শুকিয়ে মরে যাচ্ছে ধানগাছ। ফলে অনেক কৃষক কাঁচা ধানগাছ কেটে নিয়ে তা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে বিলের হাজার হাজার আমন ধান চাষিকে বিঘাপ্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের ছোট-বড় অনেক বিলের সমন্বয়ে গঠিত চলনবিল। আগে এ বিলের অন্যতম ফসল ছিল বোনা আমন ধান। আজলদীঘা, ধলাদীঘা, বাঁশিরাজসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করতেন এ এলাকার কৃষকরা। পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ত ধানগাছ। ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতো। নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা এখনো এ ধান চাষের চেষ্টা করেন; কিন্তু প্রকৃতির বৈরী আচরণ ও পানি স্বল্পতার কারণে এ বছর বেশির ভাগ কৃষকরা আমন ধান নিয়ে বিপাকে রয়েছেন।  

নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সলঙ্গাসহ উল্লাপাড়ার দক্ষিণ পশ্চিমাংশের ১০টি ইউনিয়নজুড়ে চলনবিলের অবস্থান। অতীতে এ বিলের আয়তন ছিল ৮০০ বর্গমাইল। তবে ক্রমেই এ বিলের আয়তন কমছে। কয়েকটি বিলের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রিত হলেও বেশির ভাগ বিলের পানি ব্যবস্থাপনা প্রকৃতিনির্ভর। বর্ষার শুরুর দিকে বিলগুলোর সংযোগ খাল হয়ে বিলে পানি প্রবেশ করে। কোনো কোনো বছর আমন ধানের চারা বড় হতে না হতেই বিলে পানি প্রবেশ করায় কচি ধানগাছ পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। আবার কোনো কোনো বছর দ্রুত পানি নিষ্কাশিত হওয়ায় ধানগাছের গোড়ায় পানি থাকে না। এতে মারাত্মক ফলন বিপর্যয় ঘটে।

চলতি মৌসুমে বর্ষার শুরুতে নিম্নাঞ্চলের আমন ধানের কচি চারা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার উঁচু এলাকায় বর্ষার পানি প্রবেশ না করায় শুকিয়ে মরে যাচ্ছে ধানগাছ। ফলে কেউ কেউ কাঁচা ধানগাছ কেটে নিয়ে তা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলনবিল এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়। চলতি মৌসুমে শুধু চাটমোহরে বোনা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ১০০ হেক্টর। আর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন চাষ বেশি হলেও বর্ষার শুরুতে হঠাৎ করে নিম্নাঞ্চলের বিলগুলোতে পানি প্রবেশ করে। এতে নষ্ট হয় ধানের চারা। আবার উঁচু এলাকায় পানি না ওঠায় চাটমোহরের দুই হাজার ৫০০ হেক্টর জমির কাঁচা ধানগাছ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘কেউ কেউ বোনা আমন ধানগাছ কেটে গবাদি পশুকে খাওয়াচ্ছে। তবে নিয়ন্ত্রিত কিছু বিলে ভালো ধান হবে আশা করছি। ’

 

 

 



সাতদিনের সেরা