kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দায়িত্বে মিন্টু, চালান দুই নান্নু

আজিম হোসেন, বরিশাল   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দায়িত্বে মিন্টু, চালান দুই নান্নু

তাঁরা দুজনই কেন্দ্রীয় নেতা। দুজনের ডাকনাম একই। দুজনের বাড়িও বরিশালে। একাংশের নেতাদের অভিযোগ, বরিশাল বিএনপি চলে তাঁদের ইশারায়।

বিজ্ঞাপন

একজন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু। অন্যজন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন নান্নু।

নেতাদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব পদে আখতার হোসেন মেবুল ও মহানগরের সদস্যসচিব পদে মীর জাহিদুলকে বসিয়েছেন জাকির। অন্যদিকে জেলা আহ্বায়ক পদে মজিবর রহমান নান্টু ও মহানগর আহ্বায়ক পদে মনিরুজ্জামান ফারুককে বসিয়েছেন মাহবুবুল। তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও মহানগরের ওয়ার্ডে পছন্দমতো কমিটি ঘোষণা করছেন। বলতে গেলে দুই নান্নু এখন বরিশাল বিএনপির কার্যত নিয়ন্ত্রক।

এরই ফলে গত মঙ্গলবার মহানগর বিএনপির ১৩টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা পর পদবঞ্চিত নেতারা বিক্ষোভ করেন। এই বিক্ষোভে তাঁরা দুই নান্নুর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। একই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল বরিশাল সদর উপজেলা, বানারীপাড়া পৌরসভা ও বাকেরগঞ্জ পৌরসভা কমিটি ঘোষণার পর।

একাংশের নেতাদের অভিযোগ, জাকির ২০০৯ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি বরিশালের রাজনীতিতে আর সংযুক্ত হননি। অন্যদিকে মজিবর রহমান সরোয়ারের আধিপত্যের কারণে বরিশালে ভিড়তে পারেননি মাহবুবুল। কোনো পদেও ছিলেন না দীর্ঘদিন। পদ পেয়েও বরিশালে আসতে পারেননি। তবে সরোয়ার মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ থেকে চলে যাওয়ার পর বরিশালে ফেরেন মাহবুবুল। এরপর দুই নান্নু এক হয়ে একটা বলয় তৈরি করেন।

বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, ‘যেকোনো উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিট কমিটি ঘোষণা দেওয়ার আগে জেলা বিএনপির সভা হওয়ার কথা থাকলেও বরিশাল জেলা বিএনপি অধ্যাবধি কোনো সভা করেনি। বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে জামায়াত থেকে আসা নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক ও যুবদল নেতা হত্যা মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম সেলিমকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। ’

বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি মহানগরের সাত ওয়ার্ড কমিটির টিম লিডারের দায়িত্বে ছিলাম। ত্যাগী নেতাদের নাম কমিটিতে সংযোজন করেছিলাম। তবে ওই সাতটি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হলেও আমার দেওয়া কোনো নাম নেই। ’

মহানগর বিএনপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান টিপু জানান, তিনি একটি ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। তবে তিনি যে নাম দিয়েছেন তাঁরা কমিটিতে স্থান পাননি।

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৭, ৮, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটিতে যাঁরা স্থান পেয়েছেন, তাঁরা সবাই যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের। ’

বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাহাত তালুকদার বলেন, ‘জেলা ও মহানগরের যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা নামেমাত্র। মূলত নিয়ন্ত্রণ করছেন দুই নান্নু। ’

বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর বলেন, ‘দুই নান্নুর অদৃশ্য ক্ষমতার কারণে বিতর্কিত কমিটি হচ্ছে। পদ বাণিজ্য হচ্ছে। ’

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির বলেন, ‘টিম লিডারদের জমা দেওয়া নামগুলো যাচাই-বাছাই করে যাঁদের সক্রিয় মনে করা হয়েছে তাঁদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। ’

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন ‘কমিটি গঠনের বেলায় সিনিয়রদের নির্দেশনা নেওয়াটা স্বাভাবিক। ’

আর মাহবুবুল হক ও জাকির হোসেন দায় অস্বীকার করে জানান, নিয়ন্ত্রক নয়। তাঁরা বরিশাল বিএনপি ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘দলীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশ— যাঁরা অঙ্গসংগঠনের পদে রয়েছেন তাঁরা বিএনপির পদে আসতে পারবেন না। এ নির্দেশনা মানা হয়নি। ’

বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘সদর উপজেলা কমিটিতে জামায়াত নেতাকে আহ্বায়ক করার অভিযোগ আমরা তদন্ত করছি। আর মহানগরের ১৩টি ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ’ দুই নান্নুর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যুবদল নেতা নান্নুকে আমি ভালোভাবে চিনি না। তবে সহসাংগঠনিক সম্পাদক নান্নুকে চিনি। তাঁদের কোনো ক্ষমতা নেই নিজস্ব নির্দেশনার মাধ্যমে বরিশাল বিএনপিকে পরিচালিত করার। ’



সাতদিনের সেরা