kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আদালতের আদেশের পরও খাল দখলমুক্ত হয়নি

পাবনা ও ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালতের আদেশের পরও খাল দখলমুক্ত হয়নি

পাবনার ফরিদপুরে সরকারি খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার পুংগলী ইউনিয়নের পাছপুংগলী মৌজায় দেড় বিঘা আয়তনের এই খাল উদ্ধারে আদেশ দিয়েছেন আদালত। খালটি উদ্ধারে গ্রামবাসী এক বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছে।

এদিকে ওই খাল দখলে রাখতে গ্রামবাসীর সঙ্গে দখলদারদের একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

খালটি উদ্ধারের দাবিতে একাধিকবার গ্রামবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

আদালতের নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাছপুংগলী গ্রামের বাসিন্দা ছোহরাব সরদার পাবনার বিভিন্ন ভূমি অফিসে পিয়ন পদে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তিনি খাস খতিয়ানভুক্ত দেড় বিঘা খাল জনৈক সোবাহান চৌধুরীর ভুয়া নামে আরএস রেকর্ড করান। পরবর্তী সময়ে ওই গ্রামের বাসিন্দা শমসের ১৯৭৮ সালে সোবাহান চৌধুরীর কাছ থেকে খাল কিনেছেন বলে একটি জাল দলিল তৈরি করেন।

ওই দলিলের সূত্রে ২০০৫ সালে শমসের আলী একই গ্রামের আনসারুল, শহিদুল, সিরাজুল ও হামিদুল নামে চারজনের কাছে খাল বিক্রি করেন। দখলদাররা পরের বছর খাল নামজারি করে নেন নিজেদের নামে।

পরে বিষয়টি জানলে ছোহরাব সরদার ভুয়া দলিল দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে শমসেরসহ ওই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে মামলা করেন। তবে এর কিছুদিন পরেই সোহরাব সরদার মারা যান বলে জানা যায়।

রাষ্ট্রপক্ষ বাদী হয়ে ২০০৭ সালে ওই খাল ফের খাস খতিয়ানভুক্ত করতে মামলা করে। ২০১৭ সালে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের অনুকূলে রায় দেন।

২০২০ সালে আপিলেও হেরে যায় দখলদাররা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি এই খালের চারপাশ দিয়ে শতাধিক মানুষের ঘরবাড়ি রয়েছে। খালের এক পাশ দিয়ে চলাচলের কাঁচা রাস্তা রয়েছে।

মৌজার পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমির পানি এই খাল দিয়ে নদীতে নিষ্কাশন হয়। এ ছাড়া খালের পানি চাষাবাদে ব্যবহার ছাড়াও খালপারের বাসিন্দারা গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করে।

খালপারের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, ‘শত শত বছর গ্রামের মানুষ এই সরকারি খাল ব্যবহার করছে। হঠাৎ করে ১৫ বছর আগে দুটি পক্ষ এই জায়গা তাদের বলে দাবি করে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হলে যেকোনো সময় এই বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ’

অভিযোগের বিষয়ে দখলদাররা বলেন, ‘আমাদের কাগজপত্র আছে। তাই খাল দখল করেছি। এর পরও আদালত ও প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দেয়, তা মেনে নেব। ’

ফরিদপুরে সরকারি খাল দখলের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আরা বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই জায়গাও উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা