kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভবন-সরঞ্জাম সব আছে চিকিৎসাসেবা নেই

মাদারীপুর সদর হাসপাতাল

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মাদারীপুর   

১ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভবন-সরঞ্জাম সব আছে চিকিৎসাসেবা নেই

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনটি তিন বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় নানাভাবে ভেঙে যাচ্ছে ভবনের দরজা-জানালা। একই সঙ্গে ভবনের জন্য কেনা আসবাব ও কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। কিন্তু এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হাসপাতালের নতুন ভবনে সেবা কার্যক্রম চালু করা হোক। একই সঙ্গে যাদের অবহেলায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবন রক্ষায় তাদের কোনো ত্রুটি নেই। মূলত জনবলসংকটের কারণে নতুন ভবনে এখনো সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় মাদারীপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবন। রোগীর সেবার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তৈরি করা হয় ভবনটি। কেনা হয় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে সিটিস্ক্যান মেশিন কেনা হয় প্রায় তিন কোটি টাকা দিয়ে। এ ছাড়া ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, আধুনিক জেনারেটরসহ কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি রয়েছে এখানে। ব্যবহার না করায় অযত্ন-অবহেলায় বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি নষ্টের উপক্রম। নানাভাবে ভেঙে গেছে হাসপাতালের দরজা-জানালা।

শহর এলাকার বাসিন্দা জাহিদ খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনটি চালু না করায় নতুন ও দামি যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। আর আমরাও উন্নত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তা ছাড়া নতুন ভবনটিও ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। তাই এটা দ্রুত চালুর দাবি জানাই। ’

ভবনটি চালুর দাবি জানিয়ে ‘নিরাপদ চিকিৎসা চাই’-এর মাদারীপুর শাখার সভাপতি মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, ‘ভবন তৈরির দীর্ঘদিন পরও লোকবল কম থাকায় ২৫০ শয্যা হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে দামি দামি যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবন রক্ষণাবেক্ষণে লোকজন না থাকায় নানাভাবে ভেঙে যাচ্ছে দরজা-জানালা। ’

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মুনির আহমেদ খান বলেন, ‘২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য দরকার ২৬৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী; কিন্তু রয়েছে মাত্র ১৩৩ জন। তাই জনবলসংকটের কারণে হাসপাতালের নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। তবে আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে আংশিকভাবে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা হবে। পরে ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম বাড়ানো হবে। ’ ভবনের যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে দেখেছি। মনে হচ্ছে, এখনো বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। ’

 

 



সাতদিনের সেরা