kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চাল নিয়ে অনিশ্চয়তায় ১০ হাজার কার্ডধারী

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাল নিয়ে অনিশ্চয়তায় ১০ হাজার কার্ডধারী

অনলাইন তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় যশোরের মণিরামপুরে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ হাজার কার্ডধারীর চাল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা খাদ্য দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে এসব দুস্থ কার্ডধারীরা চাল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। তবে এ ব্যাপারে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরস্পরকে দায়ী করছেন।

ইউপি চেয়ারম্যানদের দাবি, তাঁরা তালিকা সংশোধন করে খাদ্য দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু তালিকা অনলাইনে আপলোড না দেওয়ায় কার্ড তৈরি হচ্ছে না। ফলে উপকারভোগীরা তাঁদের প্রাপ্য ৩০ কেজি করে চাল তুলতে পারছেন না।

খাদ্য অধিদপ্তরের দাবি, উপজেলা মাসিক সভার সিদ্ধান্ত মেনে চেয়ারম্যানরা তালিকা প্রস্তুত না করে ঢালাওভাবে কার্ড পরিবর্তন করেছে। ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়া তালিকা অনলাইনে আপলোড করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা খাদ্য দপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৩ হাজার ৪১৯ জন উপকারভোগী রয়েছেন। খাদ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মৃত, সচ্ছল ও প্রবাসী কার্ডধারীদের নাম বাদ দিয়ে নতুন নাম যুক্ত করে জুন থেকে তালিকা অনলাইনে আপলোডের কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ১৯ হাজারের বেশি কার্ড অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। তবে উপজেলা খাদ্য দপ্তরের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে অন্য ইউনিয়নে তালিকা অনলাইনে আপলোডের কাজ চলমান থাকলেও কাশিমনগর, শ্যামকুড় ও দুর্বাডাঙা ইউনিয়নের সংশোধিত কোনো তালিকা উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেয়নি। ফলে এ তিন ইউনিয়নের চার হাজার ৩৭২ জন উপকারভোগী সেপ্টেম্বর মাসের চাল তুলতে পারছেন না।

তবে হরিদাসকাটি ইউনিয়নের কিছু তালিকা অনলাইন আপলোড হওয়ায় পরিবেশকরা বিতরণের জন্য চাল তুলেছেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর কবীর লিটনের অসহযোগিতার কারণে চাল বিতরণ এখনো শুরু হয়নি বলে অভিযোগ পরিবেশকদের। ফলে ওই ইউনিয়নের এক হাজার ৩৩৬ জনের কেউ চাল তুলতে পারেননি।

তা ছাড়া সংশোধিত তালিকা আপলোডের কাজ শেষের দিকে হলেও রোহিতা, ভোজগাতী ও মণিরামপুর সদর ইউনিয়নের কোনো কার্ডধারী এই মাসের চাল পাননি বলে জানা গেছে। বাকি ইউনিয়নগুলোতে মোট কার্ডের অর্ধেক লোক ১৫ টাকা কেজি দরের চাল পেয়েছেন। বাদ পড়া নামের স্থানে নতুন নাম যুক্ত করে তালিকা অনলাইনে না দেওয়ায় এসব ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক লোক চাল তুলতে পারছেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনায় মৃত, সচ্ছল ও প্রবাসীদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু মণিরামপুর উপজেলা কমিটির সভায় তালিকার ১০ শতাংশ সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক চেয়ারম্যান সভার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে বিরোধীদের হিসাব কষে নিজেদের মতো তালিকা সংশোধন করে খাদ্য দপ্তরে জমা দিয়েছেন। এ কারণে অনেক দুস্থ লোক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ফলে রোহিতা ও কাশিমনগর ইউনিয়নের বাদ পড়া লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছেন।

হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার পরিবেশক সবুজ বিশ্বাস বলেন, ‘পরিষদ থেকে কার্ড না ছাড়ায় উপকারভোগীদের চাল দিতে পারছি না। ’ একই কথা বলেন, ওই ইউনিয়নের পরিবেশক শাহীন হোসেন ও মানিক মোল্যা।

হরিদাসকাটি ইউপির চেয়ারম্যান আলমগীর কবীর লিটন বলেন, ‘যাঁরা কার্ড পাচ্ছেন, তাঁদের চাল দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ’

তালিকা অনলাইনে আপলোড না হওয়ার ব্যাপারে দুর্বাডাঙা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘অর্ধেক কার্ড পরিবর্তন করে দুই মাস আগে খাদ্য অধিদপ্তরে জমা দিয়েছি। দপ্তর তালিকা গ্রহণ না করায় সেভাবে পড়ে আছে। আমার এখানে রাজনৈতিক সমস্যা আছে। ’

কাশিমনগর ইউপির চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘কিছু তালিকা অনলাইনে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খাদ্য দপ্তর চাল বিতরণের অনুমতি দিচ্ছে না। ’

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘উপজেলা কমিটির সভায় ১০ শতাংশ তালিকা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দুর্বাডাঙা ইউপি চেয়ারম্যান তা না মেনে এক হাজার ৩৯২ কার্ডের মধ্যে ৯৯২টি কার্ড পরিবর্তন করে তালিকা দিয়েছেন। শ্যামকুড় ও কাশিমনগর ইউনিয়নের তালিকাও ঢালাওভাবে সংশোধন করা হয়েছে। এ জন্য তিন ইউনিয়নের তালিকা অনুমোদন দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসের চাল বিতরণ বন্ধ আছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই মাসের তালিকা অনলাইনে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। নানা কারণে অল্প সময়ে তালিকা পরিবর্তন করে অনলাইনে আপলোড করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ৫০ শতাংশ কার্ডধারীকে চাল দেওয়া হচ্ছে। তালিকা পূর্ণ করে আগামী মাসের চালের সঙ্গে চলতি মাসেরটা সমন্বয় করা হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা