kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ব্যয় বাড়ানোর পাঁয়তারা

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যয় বাড়ানোর পাঁয়তারা

মাদারীপুর খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়ায় সরকারের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারের গাফিলতি ও উদাসীনতায় কাজে ধীরগতির কারণে বছরের পর বছর গেলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। খাদ্য বিভাগের দাবি, নির্মাণ ব্যয় বাড়ানোর পাঁয়তারা করছেন ঠিকাদার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়টি জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে পুরনো ভবন ভাঙা হয়।

বিজ্ঞাপন

‘সারা দেশে পুরনো খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধা মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর পর থেকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়টি শহরের একটি ভাড়া বাসায় কর্মকাণ্ড শুরু করে। প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ দিতে হয় ৪০ হাজার টাকা।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১৪ নভেম্বর ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের প্রকল্প পরিচালকের চুক্তি হয়। কাজ সমাপ্ত করার তারিখ নির্ধারিত হয় ২০২০ সালের ১৭ জুন। কাজটির চুক্তিমূল্য ছিল দুই কোটি ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার ১০২ টাকা। নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। উল্টো আরো নির্মাণ ব্যয় বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মাদারীপুর খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মাদারীপুর খাদ্য বিভাগের অফিসটি বর্তমানে ভাড়া বাসায় থাকায় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছেন না। ভাড়া বাসায় অফিস পরিচালনা করায় সরকারের লাখ লাখ টাকা ভুর্তকি যাচ্ছে।

এদিকে এই কাজটি তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেড, ঢাকা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করছে। জেলা খাদ্য বিভাগ গত ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজ ধীরগতিতে হচ্ছে মর্মে একটি তাগিদপত্র দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এতে উল্লেখ করা হয়, কাজের ধীরগতির কারণে প্রতি মাসে সরকারের ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলেও তাগিদপত্রে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে উভয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের কেউ ফোন ধরেনি। এ ছাড়া ঠিকাদারের স্থানীয় কোনো প্রতিনিধিও নেই মাদারীপুরে।

মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা নির্ধারিত সময় কাজ শেষ করেনি। এ কারণে তাগিদপত্রও দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সরকারের অতিরিক্ত ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘ভবন নির্মাণের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা খাদ্য বিভাগ সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তারা অহেতুক ব্যয় বাড়ানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা