kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জয়পুরহাট

‘এখন তো পারোছি না’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কেমন আছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘এখন তো পারোছি না’

জীবিকার তাগিদে কাজের অপেক্ষায় দিনমজুররা। গতকাল সকালে জয়পুরহাট শহরের বাটার মোড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘এবার হামাগেরে (আমাদের) আর বাঁচন নাই। না খায়েই মরা লাগবে। একে তো কাম (কাজ) নাই, তার উপর জিনিসপত্রের দাম খালি বাড়তেই আছে। হামরা (আমরা) চলমো কী করে।

বিজ্ঞাপন

হামি কাম (কাজ) প্যালে কোনো দিন ৫০০ টাকা পাই, কোনো দিন তার কম পাই। তাই দিয়ে চাউল থেকে শুরু করে সব কিছু কিনে কোনো রকমে দিনডা হামাগেরে যাওছে (যাচ্ছে)। যেদিন কাম (কাজ) পাই না, সেদিন প্রায় না খায়েই থাকা লাগে। পিণ্ডাই (শরীর) সম্বল। কোনো জমিজমা নাই। কিন্তু এখন তো পারোছি না। স্ত্রী আর এক ছলের (সন্তান) খাওয়ার জোগান দেওয়া পারোছি না। বাজারে সব জিনিসের দাম খালি বাড়তেই আছে। ’

আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোয়ানী গ্রামের দিনমজুর ষাটোর্ধ্ব ইউছুফ আলী। প্রতিদিন ভোর বেলায় প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে জয়পুরহাট শহরের বাটার মোড় এলাকায় আসেন কাজের সন্ধানে। চুক্তিভিত্তিক হলেও দিনে তাঁর ৫০০ টাকার বেশি রোজগার হয় না। বরং কাজ না পেয়ে অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। সামান্য এ আয় দিয়েই নিজেসহ স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করেন তিনি। কিন্তু বাজারে লাগামহীনভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকায় এই টাকা দিয়ে তাঁর সংসার চলছে না।

একসঙ্গে কাজ করা জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভিটি বেলতলী গ্রামের দিনমজুর মোসলিম উদ্দিন বলেন, দুই মেয়ে, এক ছেলে, স্ত্রীসহ পাঁচজনের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জক্ষম। কোনো দিন কাজ হয়, কোনো দিন হয় না। এতে ৫০০ টাকার বেশি রোজগার করতে পারেন না। আগে এই টাকায় কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এখন তো জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী। আজ এক দাম, তো কাল এক দাম। প্রায় ২৫ বছর থেকে চুক্তিভিত্তিক দিনমজুরি করে সংসার চালালেও এখন আর চলছে না তাঁর।

বেলতলী গ্রামের দিনমজুর আজমত আলী বলেন, ‘জিনিসের দাম বাড়লেও আমাদের শ্রমের দাম কেউ বেশি দিচ্ছে না। আগে যে কাজ ৩০০ টাকায় চুক্তি নিয়ে করেছি, এখনো সেই কাজ ৩০০ টাকায় করছি। জিনিসপত্রের দাম বাড়ার পর থেকে কাজও অনেক কমে গেছে। ’

আদর্শপাড়া গ্রামের দিনমজুর শুকুর আলী বলেন, ‘আগে ৩০০ টাকা দিয়ে যে বাজার হতো, এখন ৬০০ টাকা দিয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় যত মরণদশা হয়েছে আমাদের মতো দিনমজুরদের। ’

শুধু ইউছুফ, মোসলিম, আজমত নন, তাঁদের মতো অন্তত ৪০ জন দিনমজুর তাঁদের কষ্টের কথা বলেন। তাঁরা দ্রব্যমূল্য তাঁদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার অনুরোধ জানান।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর থেকে জয়পুরহাটের পণ্যবাজারগুলোতে চলছে অস্থির অবস্থা। দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে চললেও বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনিকভাবে নেই কোনো উদ্যোগ।



সাতদিনের সেরা