kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

হাই-টেক পার্ক নিয়ে অস্বস্তি

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাই-টেক পার্ক নিয়ে অস্বস্তি

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাই-টেক পার্কের জন্য নির্ধারিত স্থান। ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের জন্য নির্ধারিত জমিতে হাই-টেক পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ জন্য নেওয়া হয়নি রিজেন্ট বোর্ডের অনুমতি। পার্ক নির্মিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ৪ একর জায়গায় আইটি পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

এর আপত্তি জানিয়ে এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়েছে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। বিবৃতিতে দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের স্থানে হাই-টেক পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ নিয়ে ফেসবুকেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

হাই-টেক পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাসুকুর রহমান বলেন, ‘২০১১ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিবছর স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮-২০২২ পর্যন্ত পাঁচ বছরে স্থানীয়দের হামলায় প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এরূপ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থলে গোপালগঞ্জের জন্য বরাদ্দ হাই-টেক পার্ক নির্মাণ করা হলে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তাই আমরা চাই হাই-টেক পার্ক অন্যত্র স্থানান্তর করা হোক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান অক্ষুণ্ন রেখে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পাশে পার্কটি নির্মাণ করা হোক। ’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি তুহিন মাহমুদ বলেন, ‘এখানে পার্ক নির্মিত হলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান নষ্ট হবে। ’

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাই-টেক পার্ককে চার একরের যে জমি প্রদান করছে এই সমমানের সমপরিমাণ জমি ফের তাদের অধিগ্রহণ করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৯ কোটি টাকা। গোপালগঞ্জ ভূমি রেজিস্টার অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে গোবরা মৌজায় প্রতি শতাংশ নাল জমির মূল্য ৭২ হাজার ৭১০ টাকা, সেই হিসাবে চার একর জমির মূল্য প্রায় দুই কোটি ৯০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করলে মালিককে বাজারদরের ওপর অতিরিক্ত ২০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। অর্থাৎ বশেমুরবিপ্রবির ফের সমমানের চার একর জমি অধিগ্রহণ করার জন্য অতিরিক্ত পাঁচ কোটি ৮১ লাখ ৬৮ হাজার টাকাসহ ব্যয় হবে প্রায় আট কোটি ৬২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে উপাচার্য এ কিউ এম মাহবুব  বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেটা দিয়েছেন, এটার জন্য কারা কারা নিন্দা জানিয়েছেন, সেটা জানা দরকার। এ ব্যাপারে আমি একক সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না। সব কিছু পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী  বরাবর আবারো পাঠানো হবে। ’



সাতদিনের সেরা