kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

যাচাই ছাড়াই ৮৭১ জনের নাম বাদ

বরগুনা প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাচাই ছাড়াই ৮৭১ জনের নাম বাদ

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপকারভোগীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৮ আগস্ট জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউপি সদস্য গোলাম ফরিদ।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ঢলুয়া ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে এক হাজার ৮২৭ জন তালিকাভুক্ত উপকারভোগী রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকা ডাটাবেইস করার নিদের্শ দেন বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক।

বিজ্ঞাপন

তবে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক স্বপন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তালিকা থেকে ৮৭১ জনের নাম পরিবর্তন করে ওয়েবসাইটে ডাটাবেইস আপলোড করেছেন।

ওই ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের যাচাই-বাছাইয়ের কোনো সভা হয়নি। এ বিষয়ে তাঁরা কোনো রেজল্যুশনেও স্বাক্ষর করেননি।

গত শুক্রবার সরেজমিনে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা যায়, কম্পিউটারের মাধ্যমে ডিজিটাল ডাটাবেইসে উপকারভোগীদের নাম যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে। এ সময় অনেক উপকারভোগী অভিযোগ করেন, মূল তালিকায় নাম থাকলেও ডিজিটাল ডাটাবেইসে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত নেই।

এ ব্যাপারে পোটকাখালী গ্রামের উপকারভোগী আলমগীর বলেন, ‘১০ টাকা কেজির চালের তালিকা থেকে চেয়ারম্যান আমাদের নাম কেটে দিয়েছেন। ’ একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক বলেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ। ইউপি সদস্য ১০ টাকা কেজি দরের চালে আমার একটা নাম দিয়েছিলেন। এখন শুনি আমার নামটি কেটে দিয়েছেন। আমি এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে কী খাব—তা ভেবে পাচ্ছি না। ’ শেপালী রানী বলেন, ‘১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড আমি এপ্রিল মাসে পেয়েছি। এখানে বাছাইয়ের সময় এসে দেখি আমার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। আমার স্বামী কাজকর্ম করতে পারে না। আমি এখন চলব কিভাবে—তা জানি না। ’

অভিযোগকারী ঢলুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গোলাম ফরিদ বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা থেকে চেয়ারম্যান ৮৭১ জনের নাম বাদ দিয়েছেন। আমরা উপকারভোগীদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোথাও কোনো স্বাক্ষর দিইনি। তিনি নতুন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জনপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। ’

বরগুনা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সমীরন কুমার রায় বলেন, ‘ঢলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা সংশোধন করে আমাদের কাছে দিয়েছেন। আমরা তা ডাটাবেইস করে দিয়েছি। ’ বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা